শাপলা বেচে সংসার চলে আবুলের

|

বিল থেকে শাপলা কুড়িয়ে চলে বৃদ্ধ আবুল হোসেনের (৬৫) সংসার। ভরাবর্ষা মৌসুম থেকে এখনও বিভিন্ন বিলে থেকে শাপলা কুড়িয়ে ফেরি করে বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করছেন। দৈনিক আয়-রুজিও ভালই হচ্ছে। এখন খাল বিলের পানি কমতে শুরু করছে। শাপলার পরিমাণও দিনদিন কমতে শুরু করছে। তবে সুস্বাদু সবজি হিসেবে শাপলার চাহিদা থাকায় আগের তুলনায় এখন কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবুল হোসেনের মত নিম্নআয়ের কর্মজীবী অনেকেই এই সিজনে শাপলা বিক্রি করে বাড়তি আয় করে থাকেন।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডাকবাংলা মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতে প্রতিদিন বিকালে শাপলা বিক্রি করেন মো. আবুল হোসেন। ভোরে উপজেলার বিভিন্ন বিল থেকে ছোট ডিঙ্গি কোষা নৌকায় করে কয়েক ঘণ্টা শাপলা কুড়ান তিনি। পরে ভ্যানে করে বিভিন্ন মহল্লায়-পাড়ায় ও রাস্তাঘাটে ফেরি করে বিক্রি করতে করতে শ্রীনগর কাঠপট্টি সংলগ্ন ডাকবাংলা মার্কের সামনে এসে শাপলা বিক্রির কাজ সম্পন্ন করেন। প্রতি আঁটি (১০টি) শাপলা বিক্রি করছেন ১৫ টাকায়।

স্থানীয় দোকানীরা জানায়, আবুল হোসেন প্রতিদিন এখানে শাপলা বিক্রি করে। এতে করে হাতের কাছে পছন্দে শাপলা কিনতে পেরে স্থানীয়রা খুশি হচ্ছেন।

আবুল হোসেন বলেন, কুষ্টিয়া এলাকা থেকে শ্রীনগরে এসে সামান্য পুঁজি খাটিয়ে শাপলা বিক্রি করছেন তিনি। সকালে বিল থেকে শাপলা কুড়িয়ে সারাদিন বিক্রি করে দৈনিক ৬০০/৭০০ টাকা আয় হচ্ছে। বিলে এখন পানি কমছে তাই শাপলার পরিমাণও কমছে। কম পানিতে শাপলার আকার ছোট হলেও এর ডাটা/মূল অনেক মোটা হয়। ক্রেতাদের কাছে এসব শাপলার চাহিদা বেশি। দামও ভালই পাওয়া যায়।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, শাপলা বিক্রেতা আবুল হোসেনের স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে কুষ্টিয়ায় থাকেন। আবুল হোসের জীবিকার তাগিদে শ্রীনগর ডাকবাংলা মার্কেটের বারান্দায় রাত্রিযাপন করেন। এখানে থাকতে তার কোনও ভাড়া দিতে হয় না। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শতশত নিম্নআয়ের মানুষ ডাকবাংলা মার্টেক এলাকায় থাকেন। তারা এখানে থেকে শ্রম বিক্রি করাসহ বিভিন্ন কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করেন।








Leave a reply