রূপচর্চায় বেঁচে নিন হলুদ ও নিমপাতা

|

নিজেকে সুস্থ ও সুন্দর করতে ত্বকের নিয়মিত যত্ন নেওয়া একান্ত জরুরি। আর সুন্দর ও মসৃণ ত্বক পেতে কে না চায়! তবে ত্বকের যত্নে কেমিক্যালের ব্যবহার দিন দিন কমে আসছে। আর বেড়ে চলছে সৌন্দর্য বর্ধনকারী প্রাকৃতিক উপকরণের। কারণ, এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই ত্বকের সজীবতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির ব্যাপারে সচেতনদের জন্য অর্থসূচকের এবারের আয়োজন রূপচর্চায় হলুদ ও নিমপাতার ব্যবহার –

হলুদের ব্যবহার:

হলুদ ছাড়া রান্নার কথা কল্পনা করা যায়না। সেই প্রাচীন কাল থেকেই হলুদ শুধু রান্নায় নয়, ব্যবহৃত হয়ে আসছে নানান রকম চিকিৎসায়ও। আর সেই সাথে কাঁচা হলুদের সাথে রূপচর্চার সম্পর্কও যেন যুগ যুগ ধরেই। অ্যান্টি সেপটিক হিসাবে হলুদ যেমন চমৎকার কাজ করে, ব্রণ দূর করতে এবং ক্ষত নিরাময়েও এটি অতুলনীয়। তবে এক্ষেত্রে হলুদ অবশ্যই রাতের বেলা ব্যবহার করতে হবে।

ব্রণের চিকিৎসায়:

# কাঁচা হলুদ বেটে এর রসের সাথে মুলতানি মাটি ও নিমপাতার রস এক সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট করে ফেস প্যাকের মতন মুখে লাগান। প্যাক শুকিয়ে এলে গোলাপজল দিয়ে আলতো হাতে ম্যাসাজ করে নিয়ে জলের সাহায্যে ধুয়ে ফেলুন। এর নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের ওঠা কমবে।

# ব্রণে কাঁচা হলুদ জাদুর মতো কাজ করে।তাই ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কাঁচা হলুদ বাটা, আঙ্গুরের রস ও গোলাপ জল মিশিয়ে ব্রণের উপরে লাগান। কিছু সময় পর ধুয়ে ফেলুন। তাতে ব্রণ মিলিয়ে যাবে ও ইনফেকশনও হবে না।

# ব্রণের দাগ দূর করতে কাঁচা হলুদ ও নিমপাতা বেটে দাগের উপর লাগান। কিছুদিন লাগালে দাগ মিলিয়ে যাবে।

ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ করতে:

# কাঁচা হলুদ ও মসুর ডাল বাটার সাথে মুলতানি মাটি ও গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ত্বকে লাগান। তাতে নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ও মসৃণ।

# কাঁচা হলুদ বাটা, বেসন, চালের গুঁড়া ও টক দই একসাথে মিশিয়ে সারা মুখে ও গলায় লাগান। শুকিয়ে গেলে হালকা হাতে ঘষে তুলে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে তিনদিন লাগালে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হবে।

বলিরেখা, রোদে পোড়া ও অ্যালার্জির জন্য:

# বলিরেখা দূর করতে কাঁচা হলুদের সাথে দুধের সর মিশিয়ে ফেস প্যাক হিসাবে মুখে লাগান। নিয়মিত লাগালে অবশ্যই দারুণ উপকার পাবেন।

# রোদেপোড়া দাগ কমাতে মসুর ডালবাটা, কাঁচা হলুদবাটা ও মধু একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান।

# যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে হলুদ মেশানো জলে গোসল করলে সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

# কাঁচা হলুদ ও শুকনো কমলার খোসা একত্রে বেটে স্ক্রাবার হিসাবে পুরো শরীরে ব্যবহার করতে পারেন। এটা ত্বকের জন্য ভাল ফল আনবে।

নিমপাতার ব্যবহার:

স্বাস্থ্য এবং রূপচর্চায় খুব সহজেই ব্যবহার করা যায় প্রাকৃতিক একটি উপাদান হল নিমপাতা । এটি ৪ হাজার বছরের বেশি সময় ধরে আয়ুর্বেদে ব্যবহার হয়ে আসছে।

জল বিশুদ্ধকরণ
দুই লিটার জলের মধ্যে ৫০টি নিমপাতা সিদ্ধ করতে হবে। পাতাগুলো নরম ও বিবর্ণ না হওয়া পর্যন্ত জল ফুটাতে হবে। জল সবুজ রঙ ধারণ করলে নামিয়ে বোতলে ঢেলে রাখতে হবে। প্রতিদিন গোসলের জলে ১০০ মি.লি. পরিমাণ নিমপাতার জল মিশিয়ে গোসল করলে চামড়ার ইনফেকশন দূর হবে। এ ছাড়া ব্রণ এবং হোয়াইট হেডসও দূর হবে।

স্কিন টোনার
নিমপাতা স্কিন টোনার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। প্রতিরাতে তুলার নরম বল নিমপাতা সিদ্ধ জলে ভিজিয়ে মুখে লাগাতে হবে। এতে ব্রণ, ক্ষত চিহ্ন, মুখের কালো দাগ দূর হবে।

চুলের যত্নে
নিম সেদ্ধ জল একই ভাবে গোসলের সময় চুলে ব্যবহার করলে খুশকি এবং অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ হবে।

ফেসপ্যাক হিসেবে
১০টি নিমপাতা ও একটি ছোট কমলার খোসা ছাড়িয়ে অল্প পরিমাণ জলে সিদ্ধ করতে হবে। উপকরণগুলো মসৃণ করে পেস্ট তৈরি করতে হবে। অল্প পরিমাণ মধু ও দুধ পেস্টে মেশাতে হবে। ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করা যাবে। এটি ত্বকের ব্রণ, কালো দাগ, চেহারায় ক্ষতের গর্ত দূর করবে।

কন্ডিশনার

নিমপাতা সিদ্ধ জল ও মধুর একটি পেস্ট তৈরি করে চুলে লাগান। এটি একটি ভালো কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এছাড়া খুশকি দূর করতেও কাজে লাগে।

চিকিৎসা

শরীরে ব্যথা, কেঁটে গেলে, পুড়ে গেলে, কান ব্যথা, মচকানো, মাথা ব্যথা, জ্বর কমাতে নিমপাতা ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।

নিমের শিকড়

নিমগাছের বাকল ও শিকড় ঔষধি গুণসম্পন্ন। চুলের উকুন ও খুশকি দূর করতে এসব ব্যবহার করা যায়। নিমপাতা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। চামড়ার ইনফেকশন রোধে এছাড়া ব্রণ, চুলকানি ও এলার্জি রোধে নিমপাতা কার্যকর।

নিমের প্রসাধন

নিমের তেল, সাবান, ট্যালকম পাউডার, শ্যাম্পু, লোশন, ক্রীম, টুথপেস্ট, পাতার ক্যাপসুল বেশ প্রচলিত পণ্য। নিমের এসব পণ্য ত্বককে মসৃণ করে ও ইনফেকশনের হাত থেকে দূরে রাখে।

যুগ যুগ ধরে সৌন্দর্য সচেতন ব্যক্তিরা কাঁচা হলুদ ও নিমপাতা ব্যবহার করে আসছেন সুন্দর ও উজ্জ্বল ত্বক পাবার আকাঙ্ক্ষায়। তাই ব্যস্ত জীবনেও নিজের জন্য একটু সময় রাখুন। অবসরে রূপচর্চা করুন। এতে ত্বক ভালো থাকবে।








Leave a reply