যে কারণে চার স্ত্রীর একজনকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন লাদেন

|

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংসের মূলচক্রী লাদেনকে ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে হত্যা করে মার্কিন যৌথ বাহিনী। হত্যার ৯ ‌বছর পরও তাঁকে ঘিরে উঠে আসছে নতুন নতুন তথ্য। সম্প্রতি একটি অবাক করা তথ্য উঠে এসেছে তাকে ঘিরে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের করা এক তথ্যচিত্রে দাবি করা হচ্ছে, এক বউকে নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন লাদেন।

বিন লাদেনের হার্ড ড্রাইভ নামে ওই তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়, লাদেনের চার স্ত্রীর মধ্যে এক স্ত্রী নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। বিশ্বের প্রাক্তন এই এক নম্বর সন্ত্রাসীর স্ত্রীর দাঁতের নিচে লুকানো ছিল ট্র্যাকিং ডিভাইস। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে দাঁতের নিচে ট্র্যাকিং ডিভাইস বসানো হয় বলে দাবি করা হয় তথ্যচিত্রে। আর এই কারণে লাদেন তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

মার্কিন সৈন্য, যাঁরা লাদেনকে মেরেছিলেন, তাঁরাই দাবি করেছেন, লাদেনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল অনেক পর্ন ভিডিও ও ছবি, পত্রিকা, অ্যানিমেটেড সিনেমা এবং মেমস। সেগুলো সেই সময়ে দাঁড়িয়ে যথেষ্ট উন্নতমানের ক্যামেরা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুটিং করা হয়েছিল। আর সেগুলোই নিয়ে নির্মিত ন্যাশনাল জিওগ্রাফির তথ্যচিত্রটির প্রথম পর্ব ১৩ সেপ্টেম্বর প্রচারিত হয়েছিল।

ওসামা বিন মুহাম্মাদ বিন আওয়াদ বিন লাদেন [১০] সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইয়েমেন বংশোদ্ভূত মুহাম্মাদ বিন আওয়াদ বিন লাদেনের পুত্রদের মধ্য হতে ‌‍‍‍‌একজন‌। সৌদি রাজ পরিবারের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল[১১] এবং মুহাম্মাদ বিন লাদেনের দশম স্ত্রী ছিলেন সিরিয়ান হামিদা আল আত্তাস (তাকে আলিয়া গানেম নামেও ডাকা হয়।)[১২] ১৯৯৮ এর এক সাক্ষাতকারে ওসামা বিন লাদেন নিজের জন্ম তারিখ ১০ই মার্চ, ১৯৫৭ ঈসাব্দ বর্ণনা করেন।[১৩]

মুহাম্মাদ বিন লাদেন হামিদাকে ওসামা বিন লাদেনের জন্মের কিছুদিন পরই তালাক দিয়ে দেন। আল আত্তাস হামিদাকে ১৯৫০ ঈসাব্দের পর ১৯৬০ ঈসাব্দের আগে বিবাহ করেন। এবং তারা একসাথেই জীবনযাপন করেন। [১৪] এই দম্পতির চার সন্তান ছিল। এবং বিন লাদেন এই নতুন পরিবারেই তিন সৎভাই ও এক সৎবোনের সাথে বসবাস করতে থাকেন।[১২] বিন লাদেন পরিবার কন্সট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিতে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় করে। যা থেকে ওসামা উত্তরাধিকারসূত্রে ২৫-৩০ মিলিয়ন ডলার প্রাপ্ত হন। [১৫]

বিন লাদেন এক ধর্মপ্রাণ সুন্নী মুসলিম পরিবারে লালিতপালিত হন।[১৬] ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত তিনি অভিজাত ধর্মনিরপেক্ষ আল ছাগের মডেল স্কুলে পড়াশোনা করেন। [১২][১৭] তিনি বাদশাহ আব্দুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি এবং ব্যবসায় প্রশাসন নিয়ে পড়াশোনা করেন। [১৮] কারো দাবি, তিনি ১৯৭৯ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।[১৯] আবার কারো দাবি, তিনি ১৯৮১ সালে লোক প্রশাসনে ডিগ্রি অর্জন করেন। [২০] কেউ কেউ দাবি করেন যে তিনি”কঠোর পরিশ্রমী” ছিলেন;[২১] অন্য একটি পক্ষের দাবি, তিনি কোন ডিগ্রি অর্জন ছাড়াই তৃতীয় বর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। [২২] বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে বিন লাদেনের প্রধান আগ্রহের বিষয়বস্তু ছিল ধর্ম। সেখানে তিনি কুরআন এবং জিহাদের ব্যাখ্যা এবং দাতব্য কাজ উভয়ের মধ্যে জড়িত হন। [২৩] কবিতা লেখার প্রতিও তার ঝোঁক ছিল।[২৪] অধ্যয়নকালে ফিল্ড মার্শাল বার্নার্ড মন্টোগোমারী এবং শার্ল ডে গোল তার প্রিয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে ছিল। কালো ফাহল ঘোড়া তার পছন্দের তালিকায় ছিল। এছাড়া ফুটবল খেলাও তার প্রিয় ছিল। তিনি আক্রমণ ভাগের খেলা বেশি উপভোগ করতেন। তিনি ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের ভক্ত ছিলেন।[২৫]








Leave a reply