ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে সমুদ্র সৈকতের চিত্র

|

করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ৫ মাস পর্যটন শিল্প বন্ধ থাকায় সমুদ্রসৈকতে জনসমাগম ছিল না। এতে প্রকৃতি পাল্টেছে নিজের মতো। বালিয়াড়িতে ডানা মেলেছিল সাগরলতা, সমুদ্রের পাড়ে ছিল কাঁকড়াদের আধিপত্য, নীরব পরিবেশ দেখে ডিম পাড়তে এসেছিল কাছিম, মানবশূন্য দেখে ডলফিনের দল এসে খেলা করছিল সমুদ্রের তীরে। এছাড়া সমুদ্রের পাড়ে এসেছে নানা পরিবর্তন। কোথাও বালিয়াড়ি জেগে উঠেছে আবার কোথাও ভেঙে গেছে। এতে অনেকটা পাল্টে গেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের চিত্র। অনেক স্থানে পর্যটক হাঁটার সুযোগও প্রায় নেই।

অনেকটা পাল্টে গেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের চিত্র। কক্সবাজারের পর্যটন শর্ত সাপেক্ষে খুলে দেয়ার পর বালিয়াডিতে আসা সাগর লতা যেমন উধাও হতে চলেছে ঠিক তেমনি লাল কাঁকড়া, ডলফিন ও কাছিমও উধাও হয়ে গেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন মানুষের যাতায়াত না থাকায় সৈকতের প্রায় ১০টি স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

পর্যটন শিল্প খুলে দেয়ার পর সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে বিশাল অংশ ভেঙে গেছে। এ ধরনের ভাঙার দৃশ্য আগে দেখেননি কক্সবাজারবাসী।

জানা যায়, সমুদ্রসৈকত বলতে প্রথমেই আসে ঐতিহ্যবাহী লাবণী পয়েন্টের কথা। লাবণী পয়েন্টের নামে আবাসিক হোটেলের নামকরণ ছাড়াও পর্যটকদের সেবা প্রদানে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যালয় ও মার্কেটসহ রয়েছে নানা ব্যবস্থা। পর্যটকদের কাছেও বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ির লাবণী পয়েন্ট খুবই পছন্দের। কিন্তু লকডাউন চলাকালে লাবণী পয়েন্টের বিশাল অংশ ভেঙে পড়ায় হতাশ পর্যটকসহ স্থানীয়রা। তারা বলছেন, হয়তো ঐতিহ্যবাহী এই পয়েন্টটিও ডায়বেটিক পয়েন্টসহ অন্যান্য পয়েন্টের মতো প্রাণচাঞ্চল্য হারাবে।

কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, পয়েন্টটি সংস্কার করে পুনরায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা না হলে থমকে যাবে পুরো সৈকতের সৌন্দর্য। বিস্তীর্ণ সমুদ্রসৈকতের অন্যান্য পয়েন্টের মধ্যে কবিতা চত্বরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সমুদ্রের পানি খুব কাছে চলে আসছে আবার কোথাও কোথাও জেগেছে বালিয়াড়ি।

দীর্ঘ ৫ মাস পর গত ১৭ আগস্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে পর্যটন শিল্প খুলে দেয়ায় এই তীব্র গরম ও বৃষ্টির দিনেও আসতে শুরু করেছেন পর্যটক। এতে আবারো প্রাণ ফিরে আসছে পর্যটন শিল্পে।








Leave a reply