পাঁচ মিনিটেই অপারেশন, চিকিৎসার নামে এ কেমন প্রতারণা!

|

চিকিৎসার নামে গরিবের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার রমরমা ব্যবসা নতুন নয়। অপচিকিৎসার মাধ্যমে মানুষকে সর্বস্বান্ত করতে পটু অনেক বেসরকারি হাসপাতাল মালিক। আর গরিব রোগীদের শিকার করতে অলিখিতভাবে দালাল নিয়োগও করে তারা। এতে ফাঁদে পড়ে চিকিৎসা না পেয়ে টাকা খুইয়ে ফেলেন গরিবরা। আর প্রতিবাদ করতে গেলেই মেলে লাঞ্চনা আর হুমকি। তেমনি একটি ঘটনার শিকার হয়েছেন নয়মনি নামের গৃহবধূ, যার অপারেশন মাত্র পাঁচ মিনিটেই শেষ করেন চিকিৎসক। কিন্তু তিনি ঢাকা মেডিকেলে গেলে বেরিয়ে আসে চিকিৎসার নামে প্রতারণা।

গাজীপুরের মিরের বাজার মাজুকখান এলাকায় স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করেন নয়নমনি।

নয়নমনি বলেন, গত সাত বছর ধরে তলপেটে ব্যথা করছিল। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে চিকিৎসা করাতে পারছিলাম না। কিন্তু অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঋণ করে চিকিৎসকের কাছে যাই। 

নয়নমনির মা রিনা আক্তার বলেন, মেয়েকে করমতলা মেডিকেলে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানকার চিকিৎসক মেয়ের পেটে টিউমার হয়েছে বলে দ্রুত চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন। টাকার অভাবে তার চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত থেকে আমরা সরে আসি। তখন এক প্রতিবেশী নারী আমার মেয়েকে কম খরচে অপারেশন করিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন। ওই নারীর এক বোন নাকি হাসপাতালে কাজ করেন। সেই কম খরচে অপারেশনের ব্যবস্থার আশ্বাস দেন।  

তিনি আরো বলেন, প্রতিবেশী নারীর আশ্বাস পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন হসপিটালে যাই। সেখানে অপারেশন করলে ২০ হাজার টাকা লাগার কথা জানানো হয়। পরে অপারেশনের জন্য হাসপাতালের সঙ্গে ২০ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়। কিন্তু পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য আরো ছয় হাজার টাকা নেয়া হয়। পরে মেয়েকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পাঁচ মিনিটের মাথায় বের করা হয়। ওই সময় এক হাজার ৬০০ টাকা দাবি করা হয়।

রিনা আক্তার বলেন, চুক্তির বাইরে টাকা দাবির প্রতিবাদ করলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করার হুমকি দেয় কর্তৃপক্ষ। ওই সময় রোগীর ক্যান্সার হয়েছে বলে হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মেয়ের ক্যান্সার পাওয়া যায়নি। 

নয়নমনি বলেন, অপারেশনের কয়েকদিন পর হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় প্রতিবাদ করলে আরো দুইদিন হাসপাতালে রাখা হয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে আসার পর পেটের ব্যথা বেড়ে যায়। এমনকি আত্মহত্যা করার চিন্তাও করি। 

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হই। ওই সময় হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, আমার কোনো অপারেশন হয়নি। গাজীপুর মেট্রোপলিটন হসপিটালের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দেন তারা। 

নয়ন মণির স্বামী ইকবাল হোসেন বলেন, রোগী অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এখন মোটামুটি সুস্থ রয়েছে। আমাদের মতো গরিব মানুষদের হাসপাতালে নিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবে আরো গরিব লোকেরা যাতে আর্থিক ক্ষতি ও লাঞ্চনার শিকার না হয় তার ব্যবস্থা করা দরকার।

অভিযোগের ভিত্তিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন হসপিটালের মালিকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতালের ম্যানেজার কিছু কথা বলেন। পরে অপারেশনের নামে টাকা হাতিয়ে নেয়া চিকিৎসক প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। 

এ ব্যাপারে গাজীপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আলী হায়দার খান বলেন, আমরা মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তদন্ত করবো। যদি বোর্ড চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলা বা নেগলেজেন্সির প্রমাণ পায় তবে আইনি ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন পক্ষের কাছে রিপোর্ট পেশ করব।








Leave a reply