পটল! জেনে নিন পটল সম্পর্কিত সকল তথ্য

|

পটল এক ধরণের গ্রীষ্মকালীন সবজি। ভারতের পূর্বাঞ্চলে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহার, উত্তর প্রদেশ, উড়িষ্যা এবং বাংলাদেশে ভাল চাষ হয়ে থাকে। পটল অনেকটা শসা ও ক্ষীরা গোত্রের উদ্ভিদ। পটল স্যুপ, তরকারী, ভাজা এমনকী মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহার কর হয়। পটল দিয়ে নানা রকমের খাবার তৈরি হয়। পটল খেতে ভালো।

পটলে থাকে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি। এছাড়া আছে ম্যাগনেসিয়াম, তামা, পটাসিয়াম, গন্ধক ও ক্লোরিন। সবজিটি হিসেবে পটল পুষ্টিকর। ভিটামিন বি ১, ভিটামিন বি ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পটলে থাকে। যা শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

পটল চাষের উপযুক্ত জমিঃ গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে সবজির অভাব দেখা দেয়।পটল একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবজি হিসেবে কাজ করে এইসময়। বন্যামুক্ত ও জল জমে না এমন বেলে দো-আঁশ বা দো-আঁশ মাটি পটল চাষের জন্য সচেয়ে উপযুক্ত। নদীর তীরে পলিযুক্ত মাটিতেও পটল চাষ করা হয়ে থাকে।

পটল চাষের জলবায়ু ও অন্যান্যঃ পটল চাষের জন্য উষ্ণ ও আদ্র জলবায়ু দরকার। পটল চাষের জন্য বেশি তাপমাত্রা ও সূর্যালোকের প্রয়োজন। পটলের উৎপাদনমাত্রা বেশি। ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে ফসল পাওয়া যায়।৩ থেকে ৪ দিন পরপর পটল তোলা যায়। তরকারী হিসেবে পটলের বেশ চাহিদা আছে। পটলের শ্রমিকের মজুরি খুব কম। পটল লম্বায় ৫-১৫ সেমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। স্বল্পোষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ভাল জন্মায়।

পটলের জাত বা প্রজাতিঃ উৎপাদনের স্থানভেদে পটোলের বিভিন্ন জাত দেখা যায়। লম্বা ও চিকন, খাটো ও মোটা, গাঢ় সবুজ থেকে হালকা সবুজ, ডোরা কাটা ও ডোরা কাটা বিহীন, পুরু ত্বক থেকে হালকা ত্বক ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের পটল আছে। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পটলের দুটি জাতের কথা বলেছে সেগুলো হলো বারি পটল-১ ও বারি পটল-২। হেক্টরপ্রতি ফলন ৩০ থেকে ৩৮ টন। জাত দুটো উচ্চ ফলনশীল ও রোগবালাই সহ্য করতে পারে।বারি পটল-১ এই প্রজাতির ফল ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি লম্বা হয়, বেড় প্রায় ১.৫ ইঞ্চি। ফলের ওজন প্রায় ৫৫ গ্রাম। প্রতি গাছে সর্বোচ্চ ২৪০ টি ফল ধরে, যার মোট ওজন প্রায় ১০ কেজি। একর প্রতি ফলন ১২১৪৫ কেজি বা প্রতি শতাংশে ১২০ কেজি হয়ে থাকে।বারি পটল-২ এই প্রজাতির ফল ৩.৫ থেকে ৪ ইঞ্চি লম্বা হয়, বেড় ১.৫ থেকে ১.৭৫ ইঞ্চি। প্রতিটি ফলের ওজন প্রায় ৫০ গ্রাম। প্রতি গাছে সর্বোচ্চ ৩৮০ টি ফল ধরে, যার মোট ওজন ১৪ কেজি। একর প্রতি ফলন ১৫,৩৮৫ কেজি বা প্রতি শতাংশে ১৫০ কেজি হয়ে থাকে।

পটলের উপকারিতাঃ পটল মানবদেহের হজমশক্তি বাড়ায়। ফ্লু নিরাময়ে সাহায্য করে থাকে পটল। পটল খেলে কাশি কমে,জ্বর,রক্তদুষ্টি কমে। গলা ব্যথা কমতে ওষুধ আকারে ব্যবহার হয় পটল। কৃমি হলে পটল তা সারিয়ে দেয় এবং শরীর ঠান্ডা রাখে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করে থাকে পটল। পটলের রস মাথায় লাগালে মাথা ব্যথা কমে।

ত্বকের জন্য উপকারী হল পটল। পটলে ভিটামিন এ ও সি থাকে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে বলে ত্বকের জন্য উপকারী পটল। ফ্রি র‍্যাডিকেলের বিস্তার রোধ করে বয়সের ছাপ প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে পটল। এটি রক্তকে পরিশোধিত করে। ফলে ত্বকের যত্নেও পটল ভালো কাজ করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে পটল সহায়তা করে থাকে। পটলের বীজ এমন একটি স্বাস্থ্যকর বীজ যা কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে এবং মল নির্গমনে সাহায্য করে থাকে অনায়াসে। পটলে ভালো পরিমাণে ফাইবার থাকে যা খাদ্য হজমে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা সমাধান করে থাকে। লিভারের সাথে সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানেও সাহায্য করে পটল।

পটল ওজন কমতে সাহায্য করে। পটলে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। তাই ওজন কমানোর জন্য নিশ্চিন্তে পটলের তরকারি খাওয়া যেতে পারে। পটল পেট ভরা রাখতে ও ক্ষিদে কমাতে সাহায্য করে। পটল ও ধনেপাতা থেঁতলে জলে ভিজিয়ে রাখুন। এই মিশ্রণটিকে ৩ ভাগ করে এর সাথে মধু মিশিয়ে দিনে ৩ বার খান। এতে হজমের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার কমে পটল খেলে। পটলের ছোট গোলাকার বীচিগুলো কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগারের মাত্রা প্রাকৃতিকভাবে কমাতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত পটল খেলে কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রনে থাকে।








Leave a reply