দ্বিতীয় বিয়ে মানেই কি খারাপ!

|

একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন জাহিদ হাসান (প্রতীকী নাম)। চার বছর আগে নিজের পছন্দে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু দুই বছর পার হতেই বুঝতে পারলেন, সম্পর্কটা ঠিক এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। তাই কোন রকম কলহ না করে, দু’জনে মিলে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিলেন এবং ঘটলোও তাই। বেশ কয়েক মাস ধরেই ভাবছেন, আবার বিয়ে করবেন। কিন্তু পাত্রীপক্ষ যেই শুনে যে, তিনি আগে বিয়ে করেছিলেন। তখনই তারা নানা রকম নেতিবাচক মন্তব্য করেন। আর এতে করে কিছুটা ভেঙ্গেও পড়েছেন জাহিদ। তিনি জানান, দ্বিতীয় বিয়ে মানেই যেন খারাপ। সমাজের ধারণা অনেকটা এই রকম। জাহিদের মতো দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে সমস্যায় পড়া যুবকের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু তাদের সাথে কথা বলে দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে নানা কারণ জানা যায়।

বনিবনা না হওয়া

একটা বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কারণেই মূলত মানুষ দ্বিতীয় বিয়ে করে থাকে। কিন্তু সমাজ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় বিয়েকে খারাপ চোখে দেখে। এই সমস্যাটা নারী/ পুরুষ নির্বিশেষে সবার ক্ষেত্রেই দেখা যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ডিভোর্সের কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয় বনিবনা না হওয়ার বিষয়টিকে। প্রেমঘটিত বিয়ের ক্ষেত্রে এই ধরণের সমস্যা বেশি হয় বলে, জানা যায়।

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ

অনেকেই সমবয়সী বা ক্লাসমেটের সঙ্গে প্রেম করেন। পরে একটা পর্যায়ে সম্পর্ককে পরিণতির দিকে নেন, বিয়ে করেন। তবে এই ধরণের দম্পতিদের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব লক্ষ্য করা যায়। দাম্পত্য জীবনে মান অভিমান, রাগারাগি বা ঝগড়াঝাঁটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সমবয়সী দম্পতিদের ক্ষেত্রে একটা সময় এটা অস্বাভাবিক মাত্রায় লক্ষ্য করা যায়। সেইসাথে দাম্পত্য কলহের সময় একে অপরকে ‘তুই-তোয়াক্কারি’ সম্বোধন করতে থাকে। এতে করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বোধের জায়গাটি নষ্ট হয়ে যায়। আর এভাবে এক পর্যায়ে ডিভোর্সের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা যায়।

সন্দেহ প্রবণতা

বর্তমানে দাম্পত্য জীবনে বিশ্বাস যেন নেই বললেই চলে। অবশ্য সবাইকে কখনো এক পাল্লায় মাপা চলে না। কিন্তু তারপরও বলতে হয়, এখনকার দিনে বিশ্বাস যেন অনেকটাই ঠুনকো হয়ে গেছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ প্রবণতা এখন প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় দাম্পত্য জীবনে সন্দেহ যেন ক্রমেই বেড়ে চলছে। আর এতে করে একটা সময় সম্পর্কে ভাঙন তৈরি হয়। ডিভোর্সের মতো ঘটনা এভাবে বাড়তে থাকে।

এসবের বাইরে আরও বেশ কিছু কারণে দাম্পত্য জীবনে ডিভোর্স হয়ে থাকে। সেইসাথে নানা ব্যক্তিগত কারণও থাকে। ডিভোর্স শেষে অনেকেই আবার জীবন সঙ্গী খুঁজে, দ্বিতীয় বিয়ে করে। কেউ কেউ আবার পত্নী মারা যাওয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে করে। এর বাইরে নানা নেতিবাচক কারণও থাকে। কিন্তু আমাদের সমাজে দ্বিতীয় বিয়ে মানেই যেন খারাপ- এই রকম একটা ধারণা প্রচলিত। নানাভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করা মানুষদের কটূক্তি করা হয়ে থাকে। এই ধরণের মানুষজন অনেক সময় সামাজিকভাবে বিব্রত বা বিড়ম্বনার শিকারও হন।








Leave a reply