ডিম নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা ও তার বাস্তবতা জেনে নিন…

|

ভুল ধারণাহেতু শরীরের জন্য স্বল্পমূল্যে অধিক পুষ্টিদাতা একটি খাবার খেতে ভয়ও পাচ্ছেন অনেকে। তাই আমাদের সুস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে, সেই ভুল ধারণাগুলোর সত্যতা তুলে ধরছি।

ডিম একটি পরিপূর্ণ খাবার। সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে ডিম খাওয়া উচিত। ডিম আমাদের শরীরের প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ইত্যাদির চাহিদা মেটায়। তবে এই ডিম নিয়ে আমাদের মাঝে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। ভুল ধারণাহেতু শরীরের জন্য স্বল্পমূল্যে অধিক পুষ্টিদাতা একটি খাবার খেতে ভয়ও পাচ্ছেন অনেকে। তাই আমাদের সুস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে, সেই ভুল ধারণাগুলোর সত্যতা তুলে ধরছি।

ভুল ধারণা: ডিম খেলে ওজন বৃদ্ধি পায়

সত্যতা: ডিম সম্পর্কে ভুল ধারণার মধ্যে অন্যতম একটি কথা হচ্ছে ডিম খেলে ওজন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব অবেসিটি’-তে প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা যায় ডিমে খুবই কম পরিমাণ ক্যালরি ও চর্বি থাকে। এ ছাড়াও ডিম খেলে বিপাকক্রিয়া উন্নত হয়। ফলে ডিম খেলে ওজন বাড়ে না, বরং কমে। সুতরাং যারা ওজন কমাতে চান তারা প্রতিদিন সকালের নাশতায় ডিম খান নিশ্চিন্তে।

ভুল ধারণা: ডিম খেলে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়

সত্যতা: যারা হৃদরোগে আক্রান্ত তাদের মাঝে ডিম নিয়ে অধিকতর ভীতি কাজ করে। অনেকেই মনে করেন ডিম খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তবে ‘আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্র থেকে স্পষ্ট জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ডিম খেতে কোনোই সমস্যা নেই। এতে কোলস্টেরলের মাত্রা বাড়ার ভয় নেই। পুষ্টিবিদদের মতে, তারাও প্রতিদিন একটি করে ডিম খেতে পারেন।

ভুল ধারণা: গরমে ডিম খেতে মানা

সত্যতা: গরমে ডিম খেতে নিষেধ করা মারাত্মক ভুল। কারণ ডিমে থাকা আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ও নানা ধরনের খনিজ উপাদান গরমে শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। তাই চিকিৎসকদের মতে, গরমেও প্রতিদিন এক থেকে দুটি ডিম খাওয়া উচিত। অপরদিকে যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তারা প্রতিদিন চার থেকে ছয়টি পর্যন্ত ডিম খেতে পারেন।

ভুল ধারণা: সবচেয়ে বেশি প্রোটিন থাকে হলুদ অংশ বা কুসুমে

সত্যতা: অনেকে আছেন প্রোটিনের জন্য ডিম খেয়ে থাকেন। এ জন্য তারা ডিমের হলুদ কুসুম খাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। কিন্তু এটিও একটি ভুল ধারণামাত্র। কারণ ডিমের অধিক প্রোটিন থাকে তার সাদা অংশে।

ভুল ধারণা: ডিম খেলে হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে

সত্যতা: ডিমে থাকা এন্টি-অক্সিডেন্ট হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। আগে অনেকেই মনে করতেন ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে ডিমের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ের গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে, ডিম খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কমে যেতে পারে। জানা যায়, যেসব মেয়েরা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় নিয়মিত ডিম খায় বয়সকালে তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

ভুল ধারণা: বাদামি ডিমের পুষ্টিগুণ সাদা ডিমের চেয়ে বেশি

সত্যতা: এটিও একটি ভুল ধারণা। আসলে বর্ণের সঙ্গে ডিমের পুষ্টিগুণের কোনো পার্থক্য হয় না। তাই পুষ্টির জন্য উভয় ডিমই খেতে পারেন। লক্ষ করলে দেখবেন বাদামি ডিমের দাম সাদা ডিমের চেয়ে বেশি। এর ভিত্তি হচ্ছে শুধু আমাদের ভুল ধারণা।

ভুল ধারণা: ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ডিম খাওয়া উচিত নয়

সত্যতা: ‘আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্র থেকে জানা যায় ডিম খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যায়। সুতরাং টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের সপ্তাহে চারটি ডিম খাওয়া উচিত।

ভুল ধারণা: নকল বা প্লাস্টিকের ডিম

সত্যতা: ডিম সম্পর্কে এই একটি কথা এমনভাবে প্রচারিত হয়েছিল যে, এখনো অনেকেই বিশ্বাস করেন বাজারে নকল ডিম পাওয়া যাচ্ছে। চীন থেকে নকল ডিম আমদানির সংবাদ কোনো প্রকার চিন্তা-ভাবনা না করেই দেশের প্রথম সারির পত্রিকা ও টেলিভিশনেও প্রচারিত হয়েছিল। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে নকল ডিমের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে মর্মে কিছু সংবাদও প্রচারিত হতে থাকে। ভ্রান্ত একটি কথা এত বেশি প্রচার হতে থাকল যে অনেকেই ডিম খাওয়া কমিয়েও দিয়েছিলেন। বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের দেশেও বিভিন্ন ল্যাব টেস্টে নকল ডিমের প্রমাণ মেলেনি। অর্থাৎ বলা যায়, বাজারে নকল ডিমের কোনোই অস্তিত্ব নেই। শুধু নিছক গুজবে বিশ্বাস করে মহান স্রষ্টার একটি সুন্দর নেয়ামত থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছিলাম।

ডিম কি শরীর গরম করে?

গরম খাবার বলতে আমরা বুঝি মাংস, মাছ, ডিম ইত্যাদি খাদ্যকে। কখনই গরম চা, কফি, বা গরম ভাতকে গরম খাবার বলি না। অর্থাৎ গরম খাবার বলতে যে খাবার সহজে হজম হয় না, বিশেষত গরমকালে, তাকেই বলি গরম খাবার। এসব খাবার খেলে শরীর গরম হয়, পেট গরম হয়, অর্থাৎ বদহজম হয়। শরীর গরম হয় মানে, শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে, তা কিন্তু নয়, আবার ঠান্ডা খাবার মানে যে খাবার শরীর ঠান্ডা রাখে, তাও কিন্তু নয়। বরং বলা যেতে পারে যে সব খাবার নিজে সহজে হজম হয়, অপর খাদ্যকেও হজমে সাহায্য করে সেগুলোই ঠান্ডা খাবার। এই নিরিখে এবার বিচার করে দেখি ডিম কতটা গরম খাবার?‌

কারণ গরম খাবারের তালিকায় এক নম্বরে তো ডিমেরই স্থান। দেখা যাক কী থাকে একটা ডিমে?‌ ডিমের গড় ওজন প্রায় ৬০ গ্রাম। এতে প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে মাত্র ৬ গ্রাম করে। কাজেই এদের হজম করা কোনও ব্যাপার নয়। এ ছাড়া থাকে ৩০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১.‌৫ মিলিগ্রাম লোহা, অন্যান্য খনিজ পদার্থ ৮ গ্রাম এবং অধাতব পদার্থ ৩ গ্রাম, যার মধ্যে ভিটামিন সি বাদে অন্য সব ভিটামিনই থাকে। জল থাকে প্রায় ৩৫ গ্রাম। কোলেস্টেরল থাকে প্রায় ৭০০ মিলিগ্রাম এবং শক্তি পাওয়া যায় ৭০ ক্যালরির মতো। আমাদের দেহ গঠনের জন্য প্রোটিনের অন্যতম উপাদান যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড, ডিমে তার সব কটিই থাকে। সেই অর্থে ডিম অবশ্যই পুষ্টিকর খাদ্য এবং সহজপাচ্যও বটে। অর্থাৎ ডিম গরম খাদ্য নয়। যে জন্য রোগীদের খাদ্য তালিকায় ডিমের স্থানটি বরাবরের জন্য বাঁধা। অনেক বাড়িতে বসন্ত, হামসহ নানা ভাইরাসঘটিত রোগ দেখা দিলে ডিমের প্রবেশ বন্ধ হয়। অথচ এ সময় শরীরের বাড়তি পুষ্টির জন্য ডিম অবশ্যই প্রয়োজন।

কাঁচা ডিম খেলে কি শক্তি বাড়ে?

শক্তি বাড়াতে অনেকে আবার ডিমকে কাঁচাই খাওয়া শুরু করেন। কখনো কখনো হয়তো তিন-চারটে কাঁচা ডিম এক বসাতেই খেয়ে ফেলেন। ভাবেন, রান্না করলে হয়তো ডিমের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যাবে। এ জন্য কাঁচা ডিম খান। তবে কাঁচা ডিম খেলে কি শক্তি বাড়ে?

আসুন শুনি, বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন ডা. অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ এ বিষয়ে কী বলেন?

‘কাঁচা ডিম খেলে বেশি শক্তি পাওয়া যায় বা শক্তি বাড়ে, কথাটি একেবারে ভুল। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা নেই; বরং এ থেকে নানা রোগব্যাধি হতে পারে।’

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আরো বলেন, ‘কাঁচা ডিম সহজে হজম হয় না। কাঁচা ডিম খেলে শরীরে বায়োটিনের অভাব হয়। এতে ওজন কমা, জিহ্বার রুক্ষতা, ত্বকের প্রদাহের সমস্যা হয়। কাঁচা ডিমের মধ্যে অধিকাংশ সময় এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়, যার নাম সালমোনেল। এটি খেলে পেটের অসুখ, বমি, এমনকি টাইফয়েড পর্যন্ত হতে পারে।’

তাই ডিম কাঁচা নয়, বরং রান্না করে খাওয়া প্রয়োজন জানিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, ‘ডিমকে আধা সেদ্ধ, ভাজা, সেদ্ধ করে খেতে পারেন। ডিম রান্না করলে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় না। কাঁচা ডিম খেলে বিভিন্ন রোগবালাই হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

ডিম কেন খাবেন

ডিম খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়।শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ পর্যন্ত সবাই ডিম খেতে খুব পছন্দ করেন। আবার অনেকে রান্নার ঝামেলা এড়াতে রুটির সঙ্গে ডিম পোছ করে খেয়ে থাকেন।শরীর দুর্বল হলে ডাক্তার সকালবেলার নাশতায় ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ডিমের মধ্যে প্রোটিন রয়েছে। অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের তুলনায় এর দামও কম।

কিন্তু আমাদের মনে কখনো কি প্রশ্ন এসেছে ডিম কেন খাবে? ডিমের মধ্যে কি কি উপকারিতা রয়েছে। যুগান্তর পাঠকদের জন্য থাকছে ডিমের বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

আসুন জেনে নেই ডিম কেন খাবেন।

অ্যামাইনো অ্যাসিড: ডিম পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি খাবার। ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি৫, বি১২, বি৬, ডি, ই, কে, ফোলেট, ফসফরাস, সেলিনিয়াম, ক্যালিয়াম ও জিংক। প্রতিটি ডিমের মধ্যে রয়েছে পাঁচ গ্রাম প্রোটিন। তাই বডিবিল্ডার্সরা প্রতিদিন ডিম খান।

কোলিন: বেশির ভাগ খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ কোলিন থাকে না। ডিম হচ্ছে এমন একটি খাবার যাতে কোলিন কোষের মেমব্রেন তৈরিতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত খাওয়া ভালো।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: ডিমের মধ্যে রয়েছে জিক্সাথিন ও লুটেইন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ডিম খাওয়া চোখের জন্য ভালো। ডিম চোখের ছানি প্রতিরোধে করে।

ভালো চর্বি: ডিমের মধ্যে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভালো চর্বি। অনেকে ভাবেন, সব চর্বিই খারাপ। কথাটি সঠিক নয়। স্বাস্থ্যকর চর্বিও রয়েছে। এটি শরীরের জন্য ভালো। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিদিন ডিম খেতে মানা করা হয় বা ডিমের কুসুম খেতে নিষেধ করা হয়।

ডিম তো খাবেনই, তবে প্রতিদিন ডিম খাবেন কি না বা কতটুকু পরিমাণ খাবেন, এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সকালে ডিম খাওয়ার এত উপকারিতা

ডিম একটি পুষ্টিকর খাদ্য। আগে ধারণা করা হতো, বেশি ডিম খাওয়া ভালো না। কারণ ডিমে থাকে অনেক কোলেস্টেরল, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ডিমে যে চর্বি থাকে, তার তিন-চতুর্থাংশই হচ্ছে হার্ট ও রক্তনালির জন্য উপকারী অসম্পৃক্ত চর্বি। সপ্তাহে তিনদিন সকালের নাস্তায় ডিম খাওয়ার রয়েছে নানা উপকারিতা।

১. হার্ট ভালো থাকে: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত ডিম খাওয়া শুরু করলে দেহের ভেতরে উপকারি কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে কোনো ভাবেই হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে: ডিমে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, লুটিন এবং জিয়েক্সসেনথিন নামে বেশ কিছু উপকারি উপাদান দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে ছানি হওয়ার আশঙ্কাও কমায়।

৩. শক্তি বৃদ্ধি করে: দিন শুরুর জন্য প্রয়োজন শক্তি। সকালে একটা ডিম সেদ্ধ খেয়ে নিতে হবে। তাহলেই দেখবেন ক্লান্তি তো দূর হবেই, সেই সঙ্গে কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। আসলে ডিমে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান নিমেষে দেহের প্রয়োজনীয় জ্বালানির চাহিদা পূরণ করে। ফলে শরীর হয়ে উঠে চাঙ্গা।

৪. পুষ্টিকর উপাদানের ঘাটতি দূর হয়: প্রতিদিন একটা করে ডিম খাওয়া শুরু করলে দেহের ভেতরে প্রোটিন এবং ভিটামিনের চাহিদা তো মেটেই, সেই সঙ্গে ফসফরাস, সেলেনিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং জিঙ্কের ঘাটতিও দূর হয়। ফলে শরীরে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না।

৫. ক্ষুধা সহজে মিটে: সকালের নাস্তায় দুটো ডিমের অমলেট বা পোচ খেয়ে দেখুন তো কী হয়! দেখবেন দুপুরের আগে ক্ষিদে পাওয়ার নামই নেবে না।

৬. প্রোটিনের চাহিদা মেটায়: ডিমে উপস্থিত অ্যালবুমিন নামে এক ধরনের প্রোটিন পেশির গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও সকাল সকাল ডিম খাওয়াটা জরুরি।

৭. মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়: বুদ্ধির জোর বাড়াতে কে না চায়! আপনিও যদি সেই দলে থাকেন, তাহলে রোজ সকালে ডিম খাওয়া শুরু করুন। আসলে ডিমে উপস্থিত বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান মস্তিষ্কের ক্ষমতা মারাত্মক বাড়িয়ে দেয়। ফলে একদিকে যেমন বুদ্ধির বিকাশ ঘটে, তেমনি স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগও বৃদ্ধি পায়।

৮. ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে: অনেকেই মনে করেন ডিম খেলে ওজন। ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। ডিম খেলে ওজন তো বাড়েই না বরং কমে! পেনিংটন বায়োমেডিকাল রিসার্চ সেন্টারের করা এক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে সকাল সকাল ডিম খেলে দিনের অনেকটা সময় পর্যন্ত ক্ষিদে পায় না। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে শরীরে মাত্রাতিরিক্ত ক্যালরি জমার সম্ভাবনাও কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকবাবেই ওজন কমতে শুরু করে।

হাঁস, না মুরগির ডিম-পুষ্টি কোনটিতে বেশি

ডিম নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক বিতর্ক আছে। অনেকেই ধারণা করেন, হাঁসের ডিমের চেয়ে মুরগির ডিম ভালো। কথাটি কিন্তু ঠিক নয়। পুষ্টিমূল্যের বিবেচনায় হাঁস ও মুরগির ডিম প্রায় একই মানের বলা যায়। মুরগির ডিমই ভালো, মুরগির ডিম খেলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে-এমন ধারণা করা ভুল।

হাঁস ও মুরগির ডিম সম্পর্কিত তুলনামূলক কিছু তথ্য দিয়ে বিষয়টি আরো স্বচ্ছ করা যেতে পারে। প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যোপযোগী হাঁসের ডিমে রয়েছে ১৮১ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি। আর মুরগির ডিমে আছে ১৭৩ কিলোক্যালরি। প্রতি ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে আমিষ ১৩ দশমিক ৫ গ্রাম আর একই পরিমাণ মুরগির ডিমে ১৩ দশমিক ৩ গ্রাম এবং হাঁসের ডিমের চর্বি ১৩ দশমিক ৭ গ্রাম, মুরগির ডিমে চর্বি ১৩ দশমিক ৩ গ্রাম।

১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে ক্যালসিয়াম ৭০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ২৬৯ মাইক্রোগ্রাম। অন্যদিকে মুরগির ডিমে ক্যালসিয়াম ৬০ মিলিগ্রাম, লৌহ ২ দশমিক ১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ২৯৯ মাইক্রোগ্রাম। তুলনামূলক বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, হাঁসের ডিমে খাদ্যশক্তি, আমিষ, চর্বি, শর্করা, লৌহ ও ক্যালসিয়ামের মুরগির ডিমের তুলনায় সামান্য বেশি থাকে। আর মুরগির ডিম হাঁসের ডিমের তুলনায় ভিটামিন এ এবং ভিটামিন বি২ সামান্য বেশি থাকে। চুলচেরা বিচারে হাঁসের ডিমকেই বেশি পুষ্টিমান বলা যেতে পারে। তবে সাধারণভাবে হাঁস ও মুরগির ডিম উভয়কেই সমান পুষ্টিসম্পন্ন বলা যেতে পারে।

কাঁচা ডিম সালোমোনেলা, সিগেলা ইত্যাদি কিছু জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে, গরমকালে এই আশঙ্কা আরও বাড়ে। বেশি ডিম উৎপাদনের জন্য এবং পোলট্রিকে জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য নানা জীবাণুনাশক রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে ক্ষতি হতে পারে। তবে শুধু ডিম নয়, যে কোনও খাদ্য উপাদানের ক্ষেত্রেই একথা সত্যি।

বেশি ডিম খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে রক্তনালি ও হৃদযন্ত্রের অসুখ হতে পারে, অ্যাসিডিটি বাড়তে পারে, ফ্যাটি লিভার হতে পারে। কাজেই বেশি ডিম খাওয়ার হ্যাপা কিন্তু আছেই। কিন্তু তাই বলে সপ্তাহে ৩/‌৪টি সুসেদ্ধ ডিম খেলে মহাভারত অশুদ্ধ হয় না, শরীরও গরম হয় না। শুধু দেখতে হবে ডিমটা যেন ভাল হয়। হাঁস, মুরগি বাছ-‌বিচারের দরকার নেই। ভাল করে সেদ্ধ করে খেলে দুটো থেকে প্রায় সমান পুষ্টিই পাওয়া যায়।








Leave a reply