ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল ফেসবুক-টুইটার

|

ফেসবুক ও টুইটারের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর নির্বাচনী প্রচার শিবিরের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে করা একটি পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে, শিশুরা প্রায় করোনাপ্রতিরোধী। ফেসবুক ওই পোস্ট মুছে দিয়ে বলেছে, কোভিড-সংক্রান্ত ক্ষতিকর তথ্য এতে যুক্ত হয়েছে।

টুইটারের পক্ষ থেকেও একই ব্যবস্থা নিয়ে বলা হয়েছে, তারা ট্রাম্পের প্রচারসংক্রান্ত একটি অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এটি যতক্ষণ পর্যন্ত একটি টুইট না মুছবে, ততক্ষণ অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকবে। আজ বৃহস্পতিবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যে পরামর্শ দেওয়া হয়, এতে পরিষ্কার করে বলা আছে, কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে শিশুরা প্রতিরোধী নয়। শিশুরাও কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হতে পারে। অর্থাৎ, ট্রাম্পের প্রচার কর্মসূচিতে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছিল।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘ট্রাম্পের পক্ষ থেকে পোস্ট করা ভিডিওতে ভুয়া দাবি করে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ প্রতিরোধী। এটা ফেসবুক নীতিমালার লঙ্ঘন ও কোভিড-সংক্রান্ত ক্ষতিকর তথ্য।’

এবারই প্রথম ফেসবুকের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের পোস্ট করা কোনো কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়া হলো। এটা তাদের করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত নীতিমালার পরিপন্থী বলে এ ব্যবস্থা নিয়েছে তারা। এরপর টুইটারের পক্ষ থেকে টিমট্রাম্প অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারাও জানায়, এটি তাদের নীতিমালার সঙ্গে যায় না। পরে ওই টুইট মুছে দেওয়া হয়েছে।

গত মাসে টুইটারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড জুনিয়রের অ্যাকাউন্ট করোনাভাইরাস ও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে ভুয়া তথ্যের কারণে সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর আগে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়োপোলিসে পুলিশের হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড নিহত হওয়ার পর বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘লুটপাট চালালে গুলি শুরু হবে।’ টুইটটি সহিংসতায় উসকানিমূলক উল্লেখ করে টুইটার কর্তৃপক্ষ সেটি সতর্কবার্তা দিয়ে ঢেকে দিয়েছিল।

তবে ফেসবুক ট্রাম্পের ওই পোস্টের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে নানা মহল যখন তীব্র সমালোচনায় মুখর, তখন জাকারবার্গ বলেছিলেন, ফেসবুক ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্ট অপসারণ বা ঢেকে দেবে না।

তবে বিবিসি বলছে, সার্বিক পরিস্থিতিতে চাপে পড়ে যায় ফেসবুক। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এখন থেকে সম্ভাব্য ক্ষতিকর পোস্টে তারা বিশেষ লেবেল বা বার্তা লাগিয়ে দেবে। তবে সংবাদ হিসেবে গুরুত্ব থাকায় তা ছেড়ে দিতে হবে তাদের।

ঘৃণ্য বক্তব্য নিয়ে ফেসবুক কোনো ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ফেসবুক নেতৃত্বের ওপর খেপে গিয়ে আন্দোলন শুরু করে সিভিল রাইটস ও অ্যাকটিভিস্ট গ্রুপগুলো। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বর্জনের জন্য #স্টপহেটফরপ্রফিট আন্দোলনের ডাক দেয়। ইতিমধ্যে ৫০০ বিজ্ঞাপনদাতা ফেসবুক থেকে সরে গেছে।








Leave a reply