ট্যাক্স দিলে মিষ্টি খাবেন না দিলে ফাইন

|

ট্যাক্স দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, যারা ট্যাক্স দেবেন তারা মিষ্টি খাবেন, আর যারা ট্যাক্স দেবেন না তারা ফাইন (জরিমানা) খাবেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গুলশান ২ নম্বর গোলচত্বরে অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড উচ্ছেদের সময় জনৈক ব্যবসায়ী ডিএনসিসি থেকে পূর্বেই অনুমোদন নিয়ে নির্ধারিত মাপে সাইনবোর্ড স্থাপন করায় মেয়র তাকে মিষ্টি খাওয়ানোর পরে এ কথা বলেন।

জনতা ব্যাংকের গুলশান শাখা তাদের সাইনবোর্ডের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেয়ায় ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকেও তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে মিষ্টি খাওয়ান।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সবাইকে বলব, এই শহরটা কিন্তু আমাদের, এই শহরে আমরা উপার্জন করি। আমাদের বাচ্চারা পড়াশোনা করে, এই শহরে আমারা বড় হয়েছি। এ শহরকে ভালোবাসতে হবে। যে ঘরে আমি থাকি সেই ঘরের প্রতি যদি মায়া না করি, যে ঘরে থাকি সে ঘরে যদি থুথু ফেলি, তাহলে হবে না।’

বড় বড় ডেভেলপাররা ট্যাক্স না দিয়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডিএনসিসি মেয়র। তিনি বলেন, ‘এই যে আজকে বড় বড় ডেভেলপাররা কীভাবে তাদের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিল সিটি করপোরেশনকে কোনো ধরনের ট্যাক্স না দিয়ে? এই শহরে আপনাদের এত বড় বড় ব্র্যান্ডিং করবেন, আপনি ব্যবসা করবেন, আর সিটি করপোরেশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোনো ট্যাক্স দেবেন না, এটি হতে পারে না। আমি সবাইকে বলতে চাই, শহরে কোনো ধরনের সাইনবোর্ড লাগাতে গেলে আগে দেখুন সিটি করপোরেশনের নিয়ম কী?’

‘বিদেশে তো আপনারা এ রকম করতে পারবেন না। এদেশে কেন করবেন? এই দেশেরও গার্জিয়ান আছে। জনগণ চায় সিটি পরিষ্কার থাকুক। জনগণ চায় তারা ফুটপাত দিয়ে যেন নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ফুটপাত সড়কে অবৈধভাবে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী নিলাম করে দিচ্ছি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আজ সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ইত্যাদি অপসারণ করছি, বলেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমি জনগণকে অনুরোধ করব, আপনারা আমাদেরকে জানান, এ রকম কোন কোন ফুটপাত ও রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী রেখে দেয়। এই শহরে তারা ব্যবসা করছেন, তারা কিন্তু ফিলানথ্রোপি (সমাজহিতৈষী) করছেন না। তারা ট্যাক্স দেবে না কেন? সিটিকে সুন্দর করতে গেলে সিটি করপোরেশনকে ট্যাক্স দিতে হবে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘আজকে আমরা গুলশান, বনানী এবং প্রগতি সরণিতে অভিযান শুরু করেছি। বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড স্থাপন করার জন্য নীতিমালা আছে। এগুলো লাগানোর সময় নীতিমালা মানতে হবে।’

‘আমরা এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি, মিডিয়ায় প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানিয়েছি, প্রত্যেকটি গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, এমনকি মাইকিংও করা হয়েছে। অনেকেই গত দুই দিনে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে অনুমোদন নিয়েছেন। একটি শহরের ভেতরে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম চলতে পারে না। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ফুটপাত ও সড়কে রাখা অবৈধ মালামাল উচ্ছেদ অব্যাহত থাকবে।’

অভিযান চলাকালে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








Leave a reply