করোনা ভাইরাস থেকে আমরা কী শিক্ষা পেলাম?

|

পৃথিবীটা দীর্ঘ ছয়-সাত মাস ধরে অদৃশ্য পেনডেমিক মাইক্রোসকোপ করোনা ভাইরাসের কাছে জিম্মি। দৃশ্যমান অগণিত লাশ।

সীমিত-অসীমিত লকডাউনে, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, সব ধর্মের পবিত্র জায়গা, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, পেগোডা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হাসপাতালে রোগীর কাছে ডাক্তার গেলে ডাক্তারও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয় পান, পৃথিবীর মানব জাতি দৃশ্যমান করোনা ভাইরাসের অদৃশ্য আজাব দেখে সবাই অনুধাবন করতে পারছেন যে, মৃত্যুর পর কেয়ামতের আজাবটা কেমন হবে?

দুনিয়ার করোনা ভাইরাসের আজাবটা পৃথিবীর মানব জাতিকে শিক্ষা দিয়েছে—ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি, ইয়া রাব্বানা ইয়া রাব্বানা। করোনা ভাইরাস থেকে আমরা কিছুটা না হলেও শিখতে পেরেছি যে, আর জীবনে কখনো কবিরা গুনাহ, ছগিরা গুনাহ করব না। মিথ্যা কথা বলব না, চুরি, ডাকাতি, খুন, সুদ, ঘুষ, হিংসা, চোগলখুরি, গিবত, দুর্নীতি, করব না। করোনা ভাইরাসের প্রথম দিকে মানুষ খুবই ভয় পেয়ে মসজিদমুখী এবং আল্লাহমুখী হয়েছিল। পরে কিছু কিছু মানুষ করোনা ভাইরাসের মধ্যেও খারাপ কাজ করছে। আল্লাহর কাছে করোনা ভাইরাসের ভয়ে তাওবা করে, আবার করোনা ভাইরাস আপ-ডাউন করলে কেউ-বা হয়ে যায় শক্ত মনের।

এ সম্পর্কে মহান রাব্বুল আলামিন আল কোরআনে ঘোষণা করেন যে, মানুষ তো সৃজিত হয়েছে অতিশয় অস্থির চিওরূপে, যখন বিপদ তাদের পাকড়াও করে সে হা-হুতাশ করে, আর যখন তার ওপর কল্যাণ আসে তখন সে হয় খুবই কৃপণ, তবে নামাজ আদায়কারী ব্যতীত। সুরায়ে মায়ারিজ আয়াত ১৯, ২০।

কিছু কিছু মানুষ করোনা ভাইরাসের মধ্যে অপকর্ম করে তাদের অন্তরও কঠোর হয়ে গেল, এ বিষয়ে আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন যে, আমি তাদের কে অভাব অনটন ও রোগব্যাধি দিয়ে পাকড়াও করে ছিলাম, যাতে তারা আমার নিকট কাকুতিমিনতি করে, অতঃপর তাদের নিকট যখন আমার আজাব এলো, তখন তারা কোনো কাকুতিমিনতি করল না? প্রকৃতপক্ষে তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গেল। সুরা আনয়াম আয়াত ৪২, ৪৩।

এ অবস্থায় করোনা ভাইরাস থেকে যারা আল্লাহকে চিনতে পেরেছে তারাই ইহকাল ও পরকালে সাফল্যমণ্ডিত। আর যারা পাপকাজে লিপ্ত তারাই ইহকাল ও পরকালে বিপর্যস্ত। করোনা ভাইরাসের শিক্ষাটা হলো মূলত কিয়ামত দিবসের ইয়া নাফসিটাকে অনুভব করা। করোনা ভাইরাস যেমন অদৃশ্য ঠিক তেমনি করোনা ভাইরাসের মেডিসিনও হলো অদৃশ্য। আর করোনা ভাইরাসের অদৃশ্য মেডিসিন হলো, জন্ম থেকে এখন পর্যন্ত যত রকম, কুফুরি, শিরক, কবিরা গুনাহ, ছগিরা গুনাহ, বাতিনি গুনাহ, জাহিরি গুনাহ, জেনে গুনাহ, না জেনে গুনাহ ইত্যাদির জন্য আল্লাহর নিকট খালিছ নিয়তে তওবা করা, পাঁচ ওয়াক্তর ফরজ নামাজ আদায় মনযোগী হওয়া, জন্ম থেকে এখন পর্যন্ত জীবনে যত ফরজ নামাজ কাজা হয়েছে সে ফরজ নামাজের কাজা নামাজগুলো আদায় করা।

নিয়মিত আল কোরআন তিলাওত করা। তাহাজজুদের নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহর কাছে চোখের পানি ফেলে দোয়া করা, ফজরের নামাজ আদায় করে ভোরের রহমতের হাওয়া, বাতাস গ্রহণ করা, নিয়মিত কালিজিরা ও খাঁটি মধু আহার করা। পৃথিবীর সব রকম দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকা, মনে মনে এটাই ভাবতে হবে যে, দুনিয়াতে আমি তো আর চিরকাল থাকব না, অতএব, সাড়ে তিন ইঞ্চি পেটের জন্য হা-হুতাশ করে অহেতুক রোগ বাড়ানোর দরকার নেই।

করোনা ভাইরাস রোগটা অবিকল ডায়াবেটিস রোগের মতোই, ডায়াবেটিস রোগের ফাংশন যেমন রক্তের সঙ্গে টেকে, তেমনি করোনা ভাইরাসের সম্পর্কটা রক্ত সার্কুলেশনের সঙ্গে। হালাল অর্জনের খাবার খাবেন। হারাম সব কাজ থেকে দূরে থাকবেন। সব সময় চেষ্টা করবেন গুনাহমুক্ত থাকার জন্য। যেদিন চলে যায়, সেদিন আর ফিরে আসে না—অতএব পৃথিবীতে আগের মতো মানবতা, সামাজিকতা থাকবে না। কারণ করোনা ভাইরাসে অধিকাংশ মানুষের মন কঠোর করে ফেলেছে।

করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে আসা মানুষগুলো আর আগের মতো থাকবে না, কারণ তাদের রক্তের মধ্যে জীবাণুর আঘাত, এক বার যার করোনা হয়েছে সেটা আবার ফিরে আসতে পারে। এ অবস্থায় মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে আসা বাকি জীবনটা মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশায় ঘরে হোক আর মসজিদে হোক অধিকাংশ সময় জায়নামাজে কাটিয়ে দেওয়াটাই উত্তম। রিজিকের কী হবে, সবকিছুই মহান রাব্বুল আলামিনের ওপর ছেড়ে দিন।

পবিত্র আল কোরআনে আল্লাহ পাক বলেন যে, একমাত্র তোমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করো, যদি তোমরা প্রকৃতপক্ষে মুসলিম হয়ে থাকো (সুরা ইউনুস)। করোনা ভাইরাস এ পৃথিবীর অগণিত মানুষ মারা গেছেন। চাকরিহারা, পরিবার-পরিজনহারা, যোগাযোগবিচ্ছিন্ন, এ অবস্থায় আমরা যেন ইমানহারা ও ধৈর্যহারা না হই। হজরত ইউনুস নবি, হজরত ইব্রাহিম (আ), হজরত মুসা (আ), হজরত ইসমাইল (আ), হজরত ইউসুফ (আ), হজরত জাকারিয়া (আ)সহ সব নবির জানমালের পরীক্ষা করেছেন আল্লাহ পাক।

অতএব আমরা ও আল্লাহর বান্দা এবং আখেরি নবি রসুল মুহম্মদের (স) উম্মতরাও আল্লাহর সব কঠিন পরীক্ষাতে ইমান, ইস্তেগফার, সালাত, জিকির, তাকওয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করব। আল্লাহর পাঠানো গজব অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের শিক্ষা হলো একমাত্র নীরবে, নির্জনে আল্লাহর কাছে তাওবা করা, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।








Leave a reply