করোনাকালে ব্যয় কমিয়ে আয় করবেন যেভাবে

|

করোনার কারণে সবাই নানা রকম সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের পড়তে হচ্ছ বিভিন্ন ভোগান্তিতে। তবে আর্থিক দিক থেকে তারা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এক কথায় নিজেদের টিকিয়ে রাখাটাই অনেক বেশি কষ্টের হয়ে পড়েছে তাদের জন্য।
এদিকে দিন দিন বেড়েই চলেছে গৃহাস্থালীর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। সেই সঙ্গে বাড়ছে পরিবারের খরচও। এই সময় যাবতীয় সংসার খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা মধ্যবিত্তের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। আর সেই হারে বাড়ছে না আয়ও।

তাই সংকটপূর্ণ এই সময়ে খরচের খাতায় কাটছাঁট করার কৌশল না জানা থাকলে মাস শেষে টানাটানিতে পড়াটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে ব্যয় কমিয়ে আয় করতে চাইলে জানতে হবে কিছু কৌশল। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রেখেই সাজাতে হবে সংসার খরচের খাত। বুদ্ধিমানের মতো সংসারেও যদি একটি নির্দিষ্ট বাজেট মেনে চলা যায়, তবেই শেষমেশ লাভ হবে নিজেদের। সঞ্চয়টা দিনের হিসেবে তা খুবই অল্প বলে মনে হলেও, মাসের হিসেবে ওই অল্প-স্বল্প বাঁচানো টাকাই অনেক কাজে আসে। এক্ষেত্রে একটু বিশেষ দিকে খেয়াল রাখতে হয়। চলুন জেনে নেয়া যাক সেগুলো-

প্রয়োজন না হলে সংসারের জন্য বাড়তি কিছু কিনবেন না। এতেই সংসারের বাজেট ধরে রাখতে পারবেন। ধার-বাকি করে কিছু নয়। কিছু কেনার পরিকল্পনা করে নিন আগেই। কয়েক মাস ধরে টাকা জমিয়ে তা দিয়ে সেই জিনিসটি কিনুন।

খুব শপিং করার অভ্যাস থাকলে তাতে রাশ টানুন। আসলে শপিং নেশার মতো। শপিং-এ অহেতুক অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়, খরচও হয় বেশি। তাই চেষ্টা করুন সেলের সময় শপিং করতে বা দরকারি জিনিসটুকুই কিনতে। অনলাইন শপিং অ্যাপে প্রায়ই সেল বা ডিসকাউন্ট দেয়া হয়। কাজে লাগাতে পারেন সে সবও।

খরচে লাগাম পরাতে গেলে প্রথমেই ইএমআই, অন্যান্য ঋণ, বিল ইত্যাদির টাকা জমা করার দিনগুলো খেয়াল রাখুন। যেমন ইলেকট্রিক ও ফোন বিল এগুলো মাসের গোড়ায় মিটিয়ে দিন। ইলেকট্রিক ও ফোন বিল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

মুদির দোকান বা বাজারের বড় ব্যয়ও মাসের প্রথমেই করুন। কী কী কিনবেন তার তালিকা করে তার পাশেই সম্ভাব্য দাম লিখে ফেলুন। হিসাব করে দেখুন, মোট কত টাকা খরচ হবে। তালিকায় সামান্য বিলাসিতা থাকলে থাকুক। কিন্তু সেই বিলাসিতার জিনিসগুলোয় যেন তালিকা ভরে না ওঠে। কোনো অপ্রয়োজনীয় জিনিস চোখে পড়লে তখনই বাদ দিন। এছাড়া বিশেষ কিছু দিনে নানা বড় বড় শপিং মলের বড় বড় রিটেইল শপে ছাড় দেয়। সেই দিনটি বেছেও সেরে নিতে পারেন কেনাকাটা।

গ্যাসের দামও ঊর্ধ্বমুখী। তাই খরচ কমাতে রান্নার সময় কমিয়েও কিছুটা টাকা সাশ্রয় করুন। প্রয়োজনে প্রেশার কুকারের ব্যবহার বাড়ান। ঢাকা-চাপা দিয়ে রান্না করলে খরচে রাশ টানা যায়। অনেক রান্নাই ঢাকা দিয়ে বা গ্যাস কমিয়ে করলে সময় বাঁচে ও গ্যাসও কম পোড়ে। সেসব কৌশল অবলম্বন করুন।

বিদ্যুতের খরচ কমাতে ঘরে সাধারণ বাল্বের পরিবর্তে এলইডি আলো লাগালে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। বিদ্যুতের জায়গায় অনেকে সৌরশক্তি ব্যবহার করেন। এটি লাগাতে প্রাথমিকভাবে বেশ খরচ হয়। তবে বাকি জীবনের জন্য অনেকটা সাশ্রয়ও পাওয়া যায়। রান্নায় সোলার কুকার, ঘরে সোলার লাইট ব্যবহার করা যায়।

মাটির ব‌্যাংক বা অন‌্যান‌্য ব‌্যাংক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনুন। সারা দিনে যেটুকু খুচরো বাঁচছে বা ফেরত পাচ্ছেন নানা ক্ষেত্র থেকে, সেগুলো এসে ভাঁড়ে ফেলে দিন। প্রয়োজনের সময়ে কাজে আসবে।

ছোট ছোট হারে বিনিয়োগ করতে পারেন। এতে দরকারের সময় কিছুটা টাকা হাতে পাবেন।

বাজেটের হিসেব রাখার নানা অ্যাপ রয়েছে। সে সব ডাউনলোড করে নিতে পারেন। মাসের শেষে দেখে নিন কোন খাতে বাজেট বেড়েছে। ফলে সেখানে রাশ টানতে পারবেন পরের মাসে।

মূল কথা, সাধ্যের মধ্যেই বেধে রাখুন সাধ। যতটা আয়, সেই বুঝেই ব্যয় সাজান। আয় বড় হওয়ার সঙ্গে স্বপ্নগুলোও বড় করুন। তাহলে অল্পতেও লক্ষী আপনার ঘরে এসে ধরা দেবে।








Leave a reply