এসি কেনার আগে জেনে নিন কিছু জরুরি তথ্য

|

গ্রীষ্মকাল তার দাপট দেখাচ্ছে পুরোদমে। দুপুরে ঘরের বাইরে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর এই অবস্থা যে কয়েক মাস চলবে তা তো বোঝাই যাচ্ছে। তাই হয়তো গরম থেকে মুক্তি পেতে বাড়িতে এসি লাগানোর কথা ভাবছেন অনেক দিন ধরেই। কিন্তু কেনার সময় এতো কোম্পানির আলাদা মডেল দেখে বুঝে উঠতে পারছেন না কোন মডেল কেনা উচিত আপনার। এরপর আবার এতো এসি বিস্ফোরণের খবরে ভয়ও পাচ্ছেন কিছুটা।
এসি কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন। এতে খরচও কম হবে সঙ্গে বিস্ফোরণের সম্ভাবনাও থাকবে না। তবে মাঝে মাঝে এসি মেরামত এবং পরীক্ষা করুন যে, সব ঠিকঠাক আছে কিনা। তাহলে জেনে নিন অন্যান্য বিষয়গুলো-

প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে বিদ্যুৎ কতটা পুড়বে। এর উপর নির্ভর করে বাজারের সমস্ত এসিকে স্টার রেটিং দেয়া হয়। এই রেটিং দেয় ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি। এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত হয় রেটিং। ফাইভ স্টার এসি মানেই বিদ্যুৎ পুড়বে সবচেয়ে কম। একই টনেজের এবং একই ব্র্যান্ডের ফাইভ স্টার এসির দাম অন্যান্য মডেলের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। কেনার সময়ে দাম বেশি পড়লেও ভবিষ্যতে প্রতি মাসের বিদ্যুতের কথা ভেবে যত বেশি স্টার-সম্পন্ন এসি কিনবেন, ততই আপনার পকেটের পক্ষে ভালো।

যত বড় এসি, তত ঠাণ্ডা হবে ঘর, হিসেবটা এত সোজা নয়। ঘরের মাপ অনুযায়ী কত টনের এসি প্রয়োজন তার একটি তালিকা রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বড় এসি কিনলে ঘর ঠিকঠাক ঠাণ্ডা হবে না। আপনি শোরুমে গিয়েই আলোচনা করতে পারেন। ওরাই বলে দেবেন আপনার ঘরে কত টনের এসি লাগবে।

এখন প্রায় সব বাড়িতেই স্প্লিট এসি লাগানোর চল। এই এসিগুলো উইনডো এসির চেয়ে দেখতে অনেকটাই স্লিক। তাছাড়া একটি জানলা জুড়ে বসেও থাকে না। কিন্তু যারা ঘন ঘন বাড়ি পাল্টান তাদের পক্ষে উইনডো এসিই ভালো কারণ স্প্লিট এসির ইনস্টলেশন উইনডো এসির থেকে সহজ হলেও এর রি-ইনস্টলেশন চার্জ অপেক্ষাকৃত বেশি। তা বাদে এই দুই ধরনের এসি-তে কমবেশি একই পরিমাণ বিদ্যুৎ পোড়ে। তবে ঘর বড় হলে উইনডো এসি না কেনাই ভালো।

এসি কেনার সময় ভালোভাবে খেয়াল করবেন এসিতে কোনো আওয়াজ হচ্ছে কি না। স্প্লিট এসিগুলিতে আওয়াজ অনেক কম হয়। শান্তিতে ঘুমোনো বা কাজ করার পক্ষে ভালো।

ইনভারটার শব্দটি দেখলেই লাফিয়ে পড়ছেন। খেয়াল করুন সেইটার নাম R22 নাকি R410a। মূলত R22 গ্যাসটি অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হচ্ছে। কারণ এইটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক এবং ওজন লেয়ারের অনেক ক্ষতি করে। R22 তে আগুন ধরেনা। কিন্তু তবুও আপনি কেন R22 থেকে দূরে থাকবেন? কারণ তিন চার বছর পর এই গ্যাসটির প্রডাকশন অনেক আংশেই কমে যাবে। আপনি কয়েক বছর পর এসি নষ্ট হলে ঠিক করতে যেয়ে অসুবিধায় পড়ে যাবেন।

বাজেট খুব একটা সমস্যা না হলে রিভার্স সাইক্‌ল এসি কিনুন যাতে গরমকালে ঠাণ্ডা হাওয়া আর শীতকালে গরম হাওয়ার সুবিধা পাবেন। এগুলির দাম সাধারণ এসিগুলোর তুলনায় অনেকটাই বেশি।

বাড়ির সব ঘরে এসি লাগানো বেশ খরচসাপেক্ষ। সেক্ষেত্রে মাস্টার বেডরুমের জন্য একটি উইনডো বা স্প্লিট এসি কিনে সঙ্গে আর একটি পোর্টেবল এসি কিনে নিন যা এক ঘর থেকে আর এক ঘরে সহজেই তুলে নিয়ে যাওয়া যাবে। পোর্টেবল এসিগুলোর দাম স্বাভাবিকভাবেই তুলনায় কম।

ঘরের ভিতরের হাওয়া কেমন তার উপর কিন্তু এসির আয়ু নির্ভর করে। দূষিত বাতাস ঘরে জমে থাকলে ঘর ঠিকঠাক ঠাণ্ডা হয় না। ভালো ব্র্যান্ডের এসিগুলোতে ভালো এয়ার ফিল্টার থাকে। এসি কেনার সময় এই বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

যে এসি কিনছেন তাতে যেন একটি অ্যাডজাস্টেব্‌ল থার্মোস্ট্যাট, দুইটি কুলিং স্পিড এবং অন্ততপক্ষে দুইটি ফ্যান স্পিড থাকে যাতে ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করা যায় ঠাণ্ডা।

আফটার সেল্‌স সার্ভিস যে কোনো হোম অ্যাপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসি কেনার আগে কোম্পানির সার্ভিস কতটা ভালো সেই বিষয়ে ভালো করে খোঁজ খবর করুন।

আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে বাড়ি হলে যে সমস্ত এসির কয়েল অ্যালুমিনিয়ামে তৈরি সেই সমস্ত এসি না কেনাই ভালো। অ্যালুমিনিয়াম কয়েলে খুব তাড়াতাড়ি মরিচা পড়ে যায়, গ্যাস লিক করতে থাকে এবং ঘর ঠাণ্ডা হয় না। তাই সব সময় কপার কয়েলের এসি কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। সব জলবায়ুতেই ভালো কাজ দেবে।








Leave a reply