অ্যাকোয়ারিয়ামের সঠিক যত্ন

|

সুন্দর একটি অ্যাকোয়ারিয়াম ঘরের একপাশে রাখলে ঘরের চেহারাই কিন্তু বদলে যায় একনিমেষে! তবে সেজন্য অ্যাকোয়ারিয়ামটির ঠিকমতো যত্ন করা দরকার

ড্রয়িংরুমের এককোণে একটা অ্যাকোয়ারিয়াম দেখতে বেশ লাগে। সুন্দর করে তৈরি করা একটি অ্যাকোয়ারিয়াম ঘরের একপাশে রাখলে ঘরের চেহারাই কিন্তু বদলে যেতে পারে একনিমেষে! তবে তার জন্য আপনার অ্যাকোয়ারিয়ামটির ঠিকমতো যত্ন করা দরকার। রইলো তার কিছু টিপস।

১. অ্যাকোয়ারিয়াম কেনার আগে ভাল করে খোঁজ-খবর নিন। কেমন সাইজের অ্যাকোয়ারিয়াম কিনবেন, তা ঘরের মাপ অনুযায়ী ঠিক করে নিন। কোন সাইজের অ্যাকোয়ারিয়ামে কেমন মাছ রাখা যায় সেটাও আগে থেকে জেনে নিন।

ফিশ বোল যদি কেনেন, তাহলে সাধারণত গোল্ডফিশই রাখা যেতে পারে, সেখানে বড় মাছ না রাখাই ভাল। তবে বড় অ্যাকোয়ারিয়ামে নানা ধরনের মাছ আপনার পছন্দ অনুযায়ী রাখতেই পারেন।

২. অ্যাকোয়ারিয়ামের ক্ষেত্রে প্রধান গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল জলের যত্ন, পানি ভাল না থাকলে মাছ মরে যেতে পারে। দিন দশেক বা দু’সপ্তাহ পরপর পানি পালটান। তবে পুরো অ্যাকোয়ারিয়াম নয়, মোট পানির ১০-২০% পালটালেই হবে। খেয়াল রাখবেন অ্যাকোয়ারিয়াম পরিষ্কার করার সময় যেন মাছের খাবার ও অন্য নানা বর্জ্যপদার্থও পরিষ্কার হয়ে যায়। অ্যাকোয়ারিয়ামের গায়ে বা কোণায় অনেকসময় শ্যাওলা ও ময়লা জমে থাকে, সেগুলোও ভাল করে পরিষ্কার করবেন।

৩. এমনিতে, অ্যাকোয়ারিয়ামের জন্য কলের পানি সাধারণত ব্যবহার করা হলেও সেখানে ক্লোরিন আর ক্লোরামাইন (ক্লোরিন ও অ্যামোনিয়া) থাকে। তাই ব্যবহার করার আগে ওয়াটার কন্ডিশনার দিয়ে পানিকে নিউট্রিলাইজ করে নিন। তাছাড়া পানির পিএইচ-র মাত্রা ঠিক আছে কিনা সেটা দেখার জন্য পিএইচ টেস্টিং কিট কিনে নিন। অ্যাকোয়ারিয়ামের পানিতে ৬.৫-৭.৫ মাত্রার পিএইচ-ই কিন্তু নর্মাল।

৪. অ্যাকোয়ারিয়ামের পানি পরিষ্কার রাখার জন্য ফিলটার ব্যবহার করুন। একমাস অন্তর ফিলটারের ভিতরে অ্যালগোন, অ্যাক্টিভেটেড কার্বন বদলাতে ভুলবেন না। আর নিয়ম করে ফিলটার পরিষ্কার করুন।

৫. মাছ কেনার আগে ভেবে নিন কোনকোন মাছ আপনার অ্যাকোয়ারিয়ামের জন্য ঠিক হবে। যার থেকে মাছ কিনবেন, তাকে আপনার অ্যাকোয়ারিয়ামের আকার বুঝিয়ে বলুন, তিনি আপনাকে এবিষয়ে সাহায্য করতে পারবেন। খুব বেশি মাছ এক জায়গায় না রাখাই ভাল। ফাইটারকে যেমন অন্যান্য মাছের সঙ্গে রাখতে নেই, ইত্যাদি বেসিক কিছু জিনিস অ্যাকোয়ারিয়াম করার আগে জানুন।

৬. নতুন অ্যাকোয়ারিয়াম কেনার পর সেখানে মাছ রাখার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে নেবেন আগে। পানি, পাথর, গাছ দিয়ে সাজানোর পর অল্প কিছু মাছের খাবার দিয়ে পানিকে মাছের উপযোগী করে নিন। মাছ কেনার পর তা প্যাকেটসহ অ্যাকোয়ারিয়ামে আধঘণ্টা মতো ডুবিয়ে রাখুন। এতে মাছ পানির তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।

৭. অ্যাকোয়ারিয়ামে যদি অনেক মাছ থাকে, তাহলে এক সপ্তাহ অন্তর মাছের সংখ্যা গুণে নেবেন, নয়তো অনেকসময় মাছ মরে গিয়ে পচে পানি নষ্ট করে দিতে পারে।

৮. কোন মাছ কীধরনের খাবার খায় বা দিনে ক’বার, সেটাও যার থেকে মাছ কিনবেন তাকে জিজ্ঞেস করে নিন। কেঁচো খাওয়াতে পারলে তো ভালই, নয়তো এমনি শুকনো খাবারও খাওয়াতে পারেন। তবে অতিরিক্ত খাবার দিলে অনেক সময় তা পানির তলায় জমে যায়, ফলে পানি নোংরা হয়ে যায়, তাই একসঙ্গে বেশি খাবার দেবেন না।

৯. কৃত্রিম গাছের বদলে অ্যাকোয়ারিয়ামে সত্যিকারের গাছ রাখাই ভাল। এতে মাছদের অ্যাকোয়ারিয়ামের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সুবিধা হয়। তবে অ্যাকোয়ারিয়ামের গাছেদের যত্ন নেওয়ার জন্য কিন্তু কিছু বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

১০. অ্যাকোয়ারিয়ামকে সরাসরি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে রাখবেন না কিন্তু খেয়াল রাখবেন গাছ যেন পর্যাপ্ত আলো পায়। তাছাড়া গাছকে নিয়ম করে সারও দিতে হয়। এক-একরকম গাছের এক-একরকম সারের দরকার হয়।








Leave a reply