সুন্দর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের জন্য দারুণ সব খাবার

|

সুন্দর ঝলমলে চুল কার না পছন্দ! লম্বা, ঘন, সিল্কি চুল সবারই কাঙ্ক্ষিত থাকে। তবে শুধু শ্যাম্পু করা কিংবা চুলে প্যাক লাগানো সুন্দর চুলের জন্য যথেষ্ট নয়। সুন্দর ঝলমলে চুল পাবার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই খাদ্য তালিকায় যোগ করতে হবে প্রোটিন, জিঙ্ক, আয়রন, ভিটামিন বি, ফ্যাটি অ্যাসিড, সালফার, কার্বোহাইড্রেইডে মতো উপাদান। এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, খাদ্য তালিকায় আমরা তাইলে কোন কোন খাবার রাখবো? এই প্রশ্নের জবাব পাওয়ার জন্য দেখে নেয়া যাক নিচের এই খাবার গুলো।

১। ডিম
প্রোটিনের অন্যতম উৎস হলো ডিম। ডিমের হেয়ার প্যাক চুলের যেমন উপকারী তেমনি খাবার হিসেবেও এটিকে খাদ্য তালিকায় রাখুন। ডিমে রয়েছে বায়োটিন এবং ভিটামিন বি যা চুল পড়া রোধ করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

২। পালংশাক
ভিটামিন ও নানা খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ পালংশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড। এই শাক হালকাভাবে সিদ্ধ করে একটু নুন-মরিচ দিয়ে যেমন খাওয়া যায়, তেমনি বাহারি নানা পদে রান্না করেও খাওয়া যায় । আর কেবল পালংশাকই নয়, এমন নানা শাকই চুলের জন্য ভালো।
৩। অ্যাভাকাডো
অ্যাভাকাডোতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বি এবং ভিটামিন ই, ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। যা চুলের আগা ফাটা, চুল পড়া রোধ করে। এর সাথে চুলে গোড়া মজবুত করে তোলে।

৪। ওট
ঝটপট নাশতায় দুধে ভিজিয়ে কিংবা কেবল পানিতে ভিজিয়েই ওট খেতে পারেন। দস্তা, তামা, ভিটামিন-বি এবং ভালো মানের প্রোটিনে সমৃদ্ধ ওট নিয়মিত খাবার তালিকায় রাখলে বাড়ন্ত চুলের পাশাপাশি অনেক স্বাস্থ্য সুফলও পেতে পারেন।

৫। কাঠাবাদাম
কাঠাবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ জিঙ্ক যা মাথার তালুতে রক্ত চলাচল বজায় রাখে। এছাড়া কাঠবাদামে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই চুলের আগা ফাটা রোধ করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এক মুঠো কাঠবাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন। এছাড়া দুই বা তিনটি কাঠাবাদাম আধা কাপ পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে এটি খেতে পারেন।

৬। গাজর
প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ গাজর নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। এটি চুলের বৃদ্ধিতে দারুণ উপকারী। গাজরের এই ভিটামিন মাথার ত্বকে ‘সিবাম’ নামের একটা তৈলাক্ত রাসায়নিক উৎপাদনে সাহায্য করে। এটা চুলের গোড়াসহ মাথার শুষ্কতা রোধে কাজ করে। কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি গাজর রান্না করেও খেতে পারেন।

৭। স্ট্রবেরি
লাল ছোট ফলটি চুল দ্রুত বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এর ভিটামিন সি, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন কে, পটাসিয়াম রয়েছে। যা চুলের গোড়া মজবুত করে তোলে।

৮।​ মটরশুঁটি
চুলের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান কেরাটিন। মটরশুঁটি ও ডালে প্রচুর পরিমাণে কেরাটিন পাওয়া যায়। চুলের গোঁড়া শক্ত করতে নিয়মিত মটর ও ডাল খেতে পারেন। এতে চুলের বৃদ্ধি যেমন হবে, তেমনি চুল থাকবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঝলমলে।

৯। ব্রকলি
ব্রকলিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি রয়েছে যা সিবাম তৈরি করে। সিবাম হেয়ার ফলিকল তৈরি করে যা প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এতে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যা চুল সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

১০। মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারটিন যা চুলে পুষ্টি যোগাতে পারে। চুল পড়া রোধ করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

১১। হলুদ ক্যাপসিকাম
একটি কমলার চেয়ে সাড়ে পাঁচ গুণ বেশি ভিটামিন সি আছে হলুদ ক্যাপসিকামে। ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের গোড়ায় পুষ্টি দিয়ে চুল মজবুত করে। এটি চুলের আগা ফাটাও রোধ করে থাকে।








Leave a reply