শীত আনন্দ উপভোগের এক ঋতুর নাম

|

শীতকাল আমাদের দেশের একটি সুন্দর ঋতু। শীত চলে আসছে কিন্তু আপনি হয়তো কিভাবে এই শীতকাল আনন্দময় করে তোলবেন সেটাই বুঝতে পারছেন না। চিন্তার কিছু নেই, শীতকালের আনন্দ উপভোগের পরিকল্পনাকে আরো সহজ করতে আজ সে বিষয়েই আমাদের আলোচনা।

বাংলাদেশে শীতকাল স্থায়ী হয় মাত্র মাস দুয়েক। এ সময় বিভিন্ন পিঠা বানানো, জায়গায় বেড়ানো, শীতের ফল, শীতের নানা সবজি, শীতের পোশাক, শীতে অতিথি পাখির আগমন ইত্যাদি অনেক কিছুই আমাদের আনন্দ দিয়ে থাকে। শীতের সকালে আয়েশ করে রোদ বা আগুন পোহানো আর সেই আগুনে পুড়িয়ে সুস্বাদু পিঠা খাওয়া, খেজুরের রস, পুকুরে মাছ ধরা কিংবা কুয়াশা মাখা সবুজ প্রান্তরে ঘুরে বেড়ানোর মজাগুলো বর্তমানে এক একটি দূর্লভ বিষয়। আপনি আপনার পরিবার কিংবা প্রিয় মানুষদের সেই শৈশবের রোমাঞ্চকর মুহুর্তগুলো ফিরিয়ে দিতে পারেন এই শীতকালেই।

শীতের পিঠাঃ শীতের সকাল মানেই নতুন কোন পিঠার সুস্বাদ নেয়া। শীত এলে তাই পিঠা বানানো হয়ে যায় আনন্দের অনুষঙ্গ। ভাপা, কুশলি, চিতই, পাকান, ম্যারা, ফুলপিঠা, পাটি সাপটা, পুলি, শ্যাওই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তবে চিতই বা রস পিঠা খাওয়া সবচেয়ে বেশি মজার। শীতের সময় গ্রামাঞ্চলে গেলে দেখা যায় বাড়িতে বাড়িতে উঠোনে পিঠা বানানোর ধুম। শীতে খেজুর রসের পায়েস এক মজাদার ব্যাপার। শীতের সন্ধ্যায় ‘সন্ধ্যে রস’ খাওয়ার মজাই আলাদা। মানুষের শহর মুখীতা এখন গ্রামগুলোও দিনে দিনে এসব আনন্দ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আর শহরের যান্ত্রিক জীবনে এসব শীতের আনন্দ একেবারে কল্পনাই করা যায় না।

শীতে বেড়ানোঃ শীত এলে আমরা সাধারণত নানা প্রোগ্রাম করে থাকি এর মধ্যে পিকনিক অন্যতম। তবে সময় হাতে থাকলে ভ্রমণের আদর্শ সময় হতে পারে এই শীত। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে শীতকালে বেড়ানো খুবই মজা। এছাড়াও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত কিংবা সুন্দরবনে বেড়াতে যাওয়া জন্য শীতকাল হচ্ছে একটি মোক্ষম সময়। বগুড়ার মাহস্থানগড়ে শীতের সকাল দেখার মজাই অন্যরকম। সিলেটের জাফলং, তামাবিল, মাধবকুন্ড এসব জায়গায় চাইলে বেড়াতে যেতে পারেন। পার্বত্য চট্রগ্রামের বান্দরবান বা রাঙামাটি বেড়ানোর জন্যে সুন্দর সময় এই শীতকাল। বাংলাদেশের আবহাওয়ার শীতকালে এসব জায়গায় ঘুরতে যাওয়া সুন্দরতম সময়।

শীতের সবজিঃ এখন অবশ্য আমাদের দেশে শীত ছাড়াও অনেক সবজি পাওয়া যায় তবে শীতের তাজা সবজি খাওয়ার মজাই আলাদা। শীতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, সিম, টমেটো, গাজর, নতুন আলু, পেঁয়াজের ফুল, পালংশাক, খেসারি শাক, ছোলার শাক এমন আরও অনেক রকম সবজি রয়েছে। এসব পুষ্টকর শাক-সবজি শীতকালে নিয়মিতই আমাদের খাদ্য তালিকায় স্থান পায়।

শীতের ফলঃ শীতে রয়েছে অনেক রকমের ফল। এগুলোর মধ্যে বড়ই অন্যতম। তাছাড়াও কমলা, আঙ্গুর, আপেল, চেরিসহ আরও রয়েছে নানা করমের ফলমুল। এগুলো শীতের দিনে আমাদের জন্য খুবই স্বাস্থ্যকর খাদ্য।

অথিতি পাখিঃ শীতে আমাদের দেশে আসে অতিথি পাখি। এই অতিথি পাখি আমাদের পরিবেশকে নতুন প্রাণ চাঞ্চল্যতা দেয়। বিশেষ করে হাওর ও বিল এলাকা, বিভিন্ন নদী তট এবং বন এলাকায় এসব পাখির আগমন ঘটে। এসব পাখি ভোরে সুর্য ওঠার পর এসব স্থানে আসে আবার সন্ধ্যায় যখন সুর্যাস্ত্র ঘটে তখন তারা তাদের নিজ গন্তব্যে ফিরে যায়। এসব অথিতি পাখি আমাদের চারপাশের চিরচেনা প্রাকৃতিক পরিবেশকে আরো মনমুগ্ধকর করে তোলে।

শীতের পোশাকঃ শীতের সময় গরম কাপড় পরা আরেক আনন্দ। আমাদের দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর অনন্যতার কারণে গরম কাপড় আমরা শুধুই শীতের সময় পরে থাকি। কিন্তু শীতের পোশাক কেনা এবং পরা সকলের জন্যই এক আনন্দদায়ক বিষয়। যদিও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষকে শীতে বেশ কষ্ট করতে হয়। তবুও এই শীতের পোশাক সকলের মধ্যেই বাড়তি আনন্দ যোগ করে। শীতের পোশাকের মধ্যে রয়েছে, কোর্ট প্যান্ট, ব্লেজার, চাঁদর, মাফলার, টুপি ইত্যাদি।








Leave a reply