শিশুর বিকাশকে বাধাগ্রস্থ করছে প্রযুক্তির আসক্তি

|

যাদের সন্তান এখনও মোবাইল, আইপ্যাড, ট্যাবলেট এসবের প্রতি আসক্ত হয়নি তারা আজই সতর্ক হোন। আর যাদের শিশুটি আসক্ত হয়েই গিয়েছে কিছু ছোট ছোট কাজ করে ধীরে ধীরে শিশুর এই টেকনোলজি আসক্তি কমান। কারণ একদিনের চেষ্টায় এটি দূর করা কখনই সম্ভব নয়।

শিশুর জন্য সময় বের করুন: অনেক বাবা মা এতটা ব্যস্ত থাকেন যে তারা সন্তানকে সময় দিতে পারেন না। সেই সকাল বেলা কাজে চলে যাওয়া, দিন শেষে বাসায় এসে শিশুর বায়না বা কান্না থামানোর মতো মানসিক অবস্থা থাকে না। তখন দেখা যায়, শিশুটি গেমস খেলে বা নানারকম ভিডিও দেখে সময় কাটায়। এভাবেই কিন্তু আপনার সন্তানটি টেকনোলজির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাই সন্তানের জন্য সময় বের করুন। কিছুটা সময় তার সাথে গল্প করুন, দিনের নানা রকম কথা বলুন, তাকে নিয়ে ঘুরতে যান। তা সম্ভব না হলে অন্তত বাসার বাইরে বা ছাদে গিয়ে হেটে আসুন।

বই পড়ার প্রতি উৎসাহিত করুন: আমরা প্রথমেই যে ভুলটি করি তা হলো, শিশু যখন বুঝতে শুরু করে তখন অনেক বাবা-মা খেলার জন্য তার হাতে মোবাইল তুলে দেয়। কিন্তু এই সময়টাতে তাকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারেন। সুন্দর ছবিসহ বইগুলো দেখান, গল্প পড়ে শোনান।

সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখুন: অতিরিক্ত টেকনোলজি আসক্তির আরেকটি ক্ষতিকর দিক হলো তারা নিজেদের সৃজনশীল গুণগুলো চিনতেই পারে না। ছোট থেকেই তাদের বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ যেমন পেইন্টিং, নাচ, গান এসবে আকৃষ্ট করে তুলুন। আপনি কাজে ব্যস্ত। কাজের সময় বাচ্চাটিকে ব্যস্ত রাখার জন্য তাকে মোবাইল বা ট্যাবলেট দিয়ে বসিয়ে দিলেন। ক্ষতির শুরুটা কিন্তু এখানেই। এই সময়টাতে তাকে যদি আপনি রং তুলি দিয়ে বসিয়ে দেন দেখবেন সে তা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে আর আপনার কাজের ও ক্ষতি হবে না।

পরিবারের সাথে সময় কাটানো শেখান: মানুষের সাথে সহজেই মেশার ক্ষমতা কিন্তু পরিবার থেকেই শেখা শুরু হয়। পরিবারের একজনের প্রতি আরেকজনের বন্ধন কিন্তু এমনি-এমনি দৃঢ় হয় না। পরিবারের সাথে সময় কাটাতে হয় ছোটবেলা থেকেই। এখনকার দিনে এই ব্যাপারটি ধীরে ধীরে কমে আসছে। তাই সবাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। আমাদের শিশুদের এসব শেখানোর দ্বায়িত্ব আমাদেরই।

আউটডোর গেমসের প্রতি আকৃষ্ট করা: বাচ্চাদের ছোট থেকেই বাইরে খেলতে নিয়ে যাওয়া উচিত। আপনি চাইলে আপনার সন্তানকে কোন স্পোর্টস ক্লাবে ভর্তি করাতে পারেন। অন্য বাচ্চাদের সাথে বাইরে খেলাধূলা করলে সে নিজেও এর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।

সময় বেঁধে দিন: টেকনোলজির প্রতি আসক্ত সন্তানকে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন। তাকে বলুন ছুটির দিনে বা সপ্তাহে এক থেকে দুইবার সে গেমস খেলতে পারবে। কিন্তু তা যাতে অবশ্যই ১ ঘন্টার বেশি না হয়।

সন্তানের জন্য উদাহরণ হোন: সন্তানের সামনে সারাক্ষণ মোবাইলে বা ল্যাপটপে কাজ করতে থাকলে আপনার শিশুটিও তাই শিখবে। তাই যতটা সম্ভব চেষ্টা করুন অফিসের কাজ অফিসে শেষ করে আসার। আপনার শিশুর জন্য অন্য কেউ নয়, আপনি নিজেই একজন উদাহরণ হোন।








Leave a reply