ভুলে যাওয়া অসুখ হয়ে যাচ্ছে না তো!

|

আমরা প্রায়ই অনেক কিছু ভুলে যাই। বাসার দরজা খুব ভালো করে লক করে বের হওয়ার পরও চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠি হয়তো লকটি করা হয়নি। একেবারে নিকট আত্মীয় না হলেও অনেক সময় খুব কাছের কিংবা পরিচিতজনের নাম যেন মাথায় আসতেই চায় না। আর এই রকম সমস্যায় যেন আমরা হরহামেশাই আছি। আর বিষয়টি নিয়ে বিব্রত কিংবা বিরক্তির যেন কোন শেষ নেই। বয়স বিশের কোঠায় যখন কোনো সিনেমার চরিত্রের নাম মনে করতে পারি না, তখন বিষয়টিকে অনেকেই পাত্তা দেই না। ত্রিশের দিকে এমন ঘটলে বিষয়টিকে ‘ব্রেইন ফ্রিজ’ বলি। আর চল্লিশের দিকে এটাকে ‘সিনিয়র মোমেন্ট’ হিসেবে হাসি-তামাশা করি। কিন্তু বাস্তবতা হলো আপনার এমন ভুলে যাওয়ার প্রবণতা হাসির নয়। দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। এমন প্রবণতা অশুভ কিছুর ইঙ্গিত হতে পারে। যারা স্বাস্থ্য নিয়ে মোটামুটি ধারণা রাখেন। তাদের মনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেতিবাচক প্রশ্নের উদয় হতে পারে। স্মৃতিশক্তি হারাচ্ছি কি? এটাকি অ্যালঝেইমারস রোগের কোনো লক্ষণ?

আপনার জন্য আশ্বস্তের খবর হলো, যদি আপনার ভুলে যাওয়ার প্রবণতা শনাক্ত করতে পারেন। তাহলে তা খুব ভালো লক্ষণ। অন্ততপক্ষে অ্যালঝেইমারস অথবা অন্যান্য ধরনের ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে। নিশ্চিত হোন যে আপনার ডিমেনশিয়া ও অ্যালঝেইমারসের মধ্যে পার্থক্য জানা আছে। কানাডার সেন্টার ফর অ্যাডিকশন অ্যান্ড মেন্টাল হেলথের গবেষণায় বলা হয়, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা তেমন একটা ভয়ের কারণ নয়। যদি আপনি নিজের এ প্রবণতা শনাক্ত করতে পারেন। কিন্তু যদি আপনি ভুলে যাওয়ার এ প্রবণতা শনাক্ত করতে না পারেন, তাহলে তা দুশ্চিন্তা করার মতো বিষয়।

গবেষকরা অ্যালঝেইমারসের একটি তত্ত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেন। অ্যালঝেইমারস রোগের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এ অসুস্থতা সম্পর্কে রোগীদের সচেতনতার ঘাটতি। তারা নিজেরাই বুঝতে পারে না যে তাদের অ্যালঝেইমারস রোগ আছে। গবেষকরা মিল্ড কগনিটিভ ইম্পেয়ারমেন্ট আছে এমন লোকের ভুলে যাওয়ার প্রবণতা শনাক্ত করতে না পারাকে অ্যালঝেইমারস রোগের পরিপূর্ণ বিকাশের ভবিষ্যৎ বক্তা বলা যায় কিনা তা উদঘাটনের চেষ্টা করেছেন। মিল্ড কগনিটিভ ইম্পেয়ারমেন্টের মানে হলো স্মরণ করতে, নতুন কিছু শিখতে, মনোযোগ বসাতে অথবা সিদ্ধান্ত নিতে সামান্য সমস্যা হওয়া। এ গবেষণায় তাদেরকে মিল্ড কগনিটিভ ইম্পেয়ারমেন্টের গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাদের মানসিক অবস্থা সুস্থ মানুষের মতো ছিল। কিন্তু এ গ্রুপের লোকদের স্মৃতিশক্তি হ্রাস বা ঘাটতিজনিত ভুলে যাওয়ার প্রবণতা ছিল।

গবেষকরা ৫৫ থেকে ৯০ বছর বয়সের ১,০৬২ জন লোকের উপাত্ত ব্যবহার করেন। ১২ বছর ধরে এসকল তথ্য রেকর্ড করা হয়। তারা এসব উপাত্ত সংগ্রহ করেন অ্যালঝেইমারস ডিজিজ নিউরোইমেজিং ইনিশিয়েটিভ থেকে। এসব উপাত্তের মধ্যে মস্তিষ্কের স্ক্যান অন্তর্ভুক্ত ছিল। যা গবেষকরা শরীরে নিম্নমাত্রায় গ্লুকোজ শোষণের দৃষ্টিলব্ধ লক্ষণ খুঁজে পেতে ব্যবহার করেন। নিম্নমাত্রায় গ্লুকোজ শোষণের কারণে মস্তিষ্কের কার্যক্রম কমে যায়। যা অ্যালঝেইমারস রোগের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। অ্যালঝেইমারস রোগীদের গ্লুকোজ শোষণের মাত্রা কম ছিল। গবেষকরা দেখে মিল্ড কগনিটিভ ইম্পেয়ারমেন্টে ভোগা লোকদেরও গ্লুকোজ শোষণের মাত্রা কম ছিল। এসব লোকদের মধ্যে তাদের নিজেদের অসুস্থতা সম্পর্কে অসচেতনতার প্রমাণও পাওয়া গেছে। ফলাফলে জানা যায়, যাদের অসুস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা ছিল না তাদের অ্যালঝেইমারস রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি ছিল।








Leave a reply