বাজার চলতি কোন চা পাতা খাবেন? জানুন।

|

চা বলতে আমাদের ভারতীয়দের যেরকম হ্যাংলামো আর আদিখ্যেতা—পৃথিবীর আর কোনো দেশের মানুষের বোধহয় সেটা নেই। আর হবে নাই বা কেন? চা উৎপাদনে ভারত যে পৃথিবীর অন্যতম সেরা এটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তা বাজারে তো আজকাল নানারকম চা চলছে। সাবেক ব্ল্যাক টি থেকে শুরু করে নিত্য নতুন ফ্লেভারড চা তো আজকাল বাজারে হামেশাই পাওয়া যাচ্ছে। আপনি কি কনফিউসড নাকি কোন চা খাবেন সে ব্যাপারে? চাপ নেবেন না। আমরা এসে গেছি ‘দাশবাসে’র পক্ষ থেকে আপনাকে সাজেশন দেবার জন্য।

হোয়াইট টিঃ হোয়াইট টি-কে পৃথিবীর সবথেকে দামী চা বলা হয়। চায়ের কুঁড়ি পুরোপুরি ফোটার আগেই এই চা পাতা তোলা হয়। হোয়াইট টি দামী শুধু তার স্বাদের জন্য নয়। এই চায়ের পাতার অ্যান্টি-কারসিনোজেনিক গুণ আছে, যা ক্যান্সার রোধ করতে সাহায্য করে। মুখের ভেতরকার স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্যও হোয়াইট টি অত্যন্ত কার্যকরী। তাছাড়া এই চা এজিং প্রসেসকে থামায়, আপনার ত্বককে ইয়ং রাখে। সূর্যের ক্ষতিকারক ইউ.ভি. রশ্মির হাত থেকেও এই হোয়াইট টি আপনার ত্বককে বাঁচাতে পারে। জানেন কি, অভিনেতারাও এই কারণে এই চায়ের খুব ভক্ত! তবে হোয়াইট টি খান, কিন্তু বেশী খাবেন না। কারণ এই চা রক্তে প্লাজমা গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ায়। ফলে ডায়াবেটিসে সাহায্য করে। তবে এই চায়ের স্বাদ আপনি তখনই পাবেন যখন চিনি ছাড়া আপনি খেয়ে নিতে পারবেন।

ব্ল্যাক টিঃ ভারতের দার্জিলিং, আসাম, নীলগিরিতে বেশীরভাগই ব্ল্যাক টি উৎপন্ন হয়। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন ব্ল্যাক টি, অর্থাৎ যে চায়ের পাতা কালো। ব্ল্যাক টি-র পাতার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েডস থাকে যা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমিয়ে আপনাকে ফিট রাখতে সাহায্য করে। ব্ল্যাক টি আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য তো করে বটেই, তাছাড়া দ্রুত শরীর গরম করতেও ব্ল্যাক টি-র জুড়ি নেই। তাই বর্ষা বা শীতের দিনে এক কাপ ব্ল্যাক টি আমাদের কাছে এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর আজকাল আমাদের জীবনে স্ট্রেসের তো অভাব নেই। ব্ল্যাক টি কিন্তু ওই স্ট্রেসেরও অমোঘ ওষুধ! আজকাল বাজার চলতি সবথেকে বিখ্যাত ব্ল্যাক টি হল আর্ল গ্রে টি।

গ্রিন টিঃ গ্রিন টি খাওয়া যে শরীরের পক্ষে কত উপকারী, তা আপনারা সব্বাই জানেন। ডাক্তারের পরামর্শে আপনারা হয়তো অনেকেই গ্রিন টি নিয়ম করে খাওয়া শুরুও করেছেন! কিন্তু জানেন কি গ্রিন টি-র উপকারিতা? ব্ল্যাক টি বা হোয়াইট টি-র মতো গ্রিন টিকে অক্সিডাইজ করা হয় না, তাই এর নাম গ্রিন টি। গ্রিন টি আপনার ফ্যাট কমিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই ফ্যাট বার্ন করে ওজন যদি তাড়াতাড়ি কমাতে চান, তাহলে ডায়েটে আজই অ্যাড করুন গ্রিন টি। তাছাড়া গ্রিন টি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমায় ও লিভারকে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে।

উলং টিঃ উলং চায়ের নাম শুনেছেন নাকি? এই চা পাতা অংশত অক্সিডাইজ। উলং টিকে গ্রিন টি আর ব্ল্যাক টি-র মাঝামাঝি বলা যেতে পারে। উলং চা কোলেস্টেরল তো কমায়ই, তাছাড়া এই চা আপনার হার্টকেও স্ট্রং অ্যান্ড হেলদি রাখে। আপনার শরীরে যে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের প্রয়োজন হয়, তা আপনাকে উলং চা যোগান দিতে পারে। হাড়, দাঁত ভালো রাখতেও উলং চা সাহায্য করে। উলং টী-তে থাকা ক্যাফেইন আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। আর পলিফেনল যৌগ শরীরের মেটাবলিজমকে নিয়ন্ত্রণ করে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে।

তাহলে জেনে নিলেন চায়ের রকমফের। এবার আর কোন চা খাবেন সেটা বেছে নিতে নিশ্চয়ই খুব একটা সমস্যা হবে না। তবে কোনো চা-ই একটানা খাবেন না। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খান। তাতে আপনার স্বাদ বদলও হবে, আর চা বদলও হবে।








Leave a reply