বাচ্চাদের দুধ দাঁত কেন গুরুত্বপূর্ণ?

|

অনেকেই ভাবেন বাচ্চাদের দুধ দাঁত গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাঁতের গুরুত্ব অপরিসীম। সব বয়সের জন্যই দাঁত অতি জরুরী।

জীবদ্দশায় প্রত্যেক মানুষের দুই সেট দাঁত থাকে। প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় আমাদের যে দাঁত তা সাধারণত ছয় বছর বয়সের পর ওঠে।

ছয় মাস বয়সের পর শিশুর প্রথম দাঁত ওটে। দাঁত ওঠার এই সময়টাতে মাড়িতে ভীষণ ব্যথা হতে থাকে।

বাচ্চাদের দুধ দাঁত খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমেই সে খেতে শুরু করে। পুষ্টিকর শক্ত খাবার, যার মাধ্যমে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে।

যতক্ষণ শিশুর মাড়ি যথেষ্ঠ বড় না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত দুধ দাঁত জায়গা ভরিয়ে রাখে।

যতক্ষণ পর্যস্ত ৩২টি প্রাপ্ত বয়স্ক দাঁত ওঠে শেষ না হয়, প্রতিটি দাঁতের বিশেষ কাজ রয়েছে এবং প্রতিটি দাঁত অত্যাবশ্যকীয়।

অনেক সময় এই দুধ দাঁত ছোট সাইজের হয় না, বরং প্রাপ্তবয়স্ক দাঁতের মতই এগুলোর শেকড় বড় থাকে। যাতে তার নিচে দাঁতগুলো যথেষ্ঠ বড় হতে পারে।

সময়মত দুধ দাঁতের শেকড় একসময় উধাও হয়ে যায় এবং তার জায়গা নেয় অন্যকিছু। দুধ দাঁত এক সময় নড়া শুরু করে এবং তার নিচে প্রাপ্ত বয়স্ক দাঁত উঠতে থাকে। মানুষ একমাত্র প্রাণী, যাদের দুধ দাঁত থাকে।

বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীর জীবদ্দশায় দুই সেট দাঁত থাকে। কুকুর এবং বিড়ালের জন্মের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দুধ দাঁত ওঠে।

প্রথম কয়েক মাসের মধ্যে তা পড়েও যায়। মাছ ও সরীসৃপের মত মেরুদণ্ডী প্রাণীরও দাঁত থাকে।

তাদের জীবন কয়েকবারই দাঁত ওঠে এবং পড়ে যায়। হাতির মত অন্য প্রাণীদের ছয়টি কশের দাঁত থাকে। খাবার হিসেবে তারা যে কোন ধরণের গাছ খায় এবং তা চিবানোর মাশুলও দিতে হয়।

অনেকে মনে করেন দুধ দাঁত জরুরী না, কারণ আবার তো দাঁত উঠবেই। ভুল। দাঁত ক্ষয় বা দাঁত তুলে ফেলা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে শিশুর মানসিক এবং শারীরিক বিকাশের ওপর।

তাই ফ্লুরাইড টুথপেস্ট দিয়ে শিশুর দাঁত দিনে দুই বার ব্রাশ করে দেওয়া জরুরী। চিনি কম খাওয়া এবং নিয়মিত দাতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরী।

দাতে মানুষের স্টেম সেল থাকে। ভবিষ্যতে স্টেম সেল ব্যবহার করে মানুষের শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্ণিমান সম্ভব হবে। যদিও এখনও বিজ্ঞান তা প্রমাণ করতে পারেনি। মূলত দুধ দাঁত খুব জরুরী। তাদের যত্ন নিন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি








Leave a reply