পক্ষাঘাতে আশার আলো ‘ফিনিক্স’ জেনে নিন

|

পক্ষাঘাত । হ্যাঁ, নামটা শুনলেই যেন মনে হয় একধরনের বজ্রাঘাত। প্যারালিসিস বা পক্ষাঘাত আক্রান্ত রোগীদের সাহায্যের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলছে বিশ্বজুড়ে জোরকদমে গবেষণা। দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়ে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন প্রতিদিন বহু মানুষ। আর কোমরের নিচ থেকে আক্রান্ত রোগীদের আজ চলাফেরায় ভরসা বলতে শুধু হুইল চেয়ার।

সম্প্রতি ক্যালিফোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক যন্ত্র নির্ভর এক সম্পূর্ণ নতুন ধরনের কৃত্রিম আবরণ বানিয়ে পুরোনো ছবিটাই বদলে দিতে চলেছেন। দুর্ঘটনায় পক্ষাঘাত আক্রান্ত স্টিভেন ম্যানচেজ ফিনিক্স নামের একন যন্ত্রের দৌলতে ফের হাঁটতে পারছেন ভালোভাবে।

ইউ.সি.বার্কলের রোবোটিক্স অ্যান্ড হিউম্যান ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণাগারে গবেষকরা তৈরি করেছেন এক আবরণ বা এক্সো স্কেলেটন। এটিকে পক্ষাঘাত আক্রান্ত জায়গায় যোগ করলে রোগী স্বল্প ও সীমিত জায়গায় হাঁটতে পারে। গবেষণালব্ধ এসব ফলাফল এম.আই.টি টেকনোলজি রিভিউ সাময়িকীতে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

রোবোটিক্স শাখার ইরানি অধ্যাপক হুমায়ুন কাজেরুনি গবেষকদলের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং ইনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন যান্ত্রিক এক্সোস্কেলেটস তৈরির ক্ষেত্রে। এই বিজ্ঞানীর চেষ্টাতেই তৈরি হয়েছে যে নতুন ডিভাইস, যার না, দেওয়া হয়েছে ‘ফিনিক্স’। এটি যথেষ্ট হালকা এবং পক্ষাঘাত আক্রান্ত রোগীর জন্য বিশেষ উপযোগী। এক্ষেত্রে রোগীর নিতম্বের আবরণ অংশে দুটো মোটর যুক্ত রয়েছে।

উঠে দাড়ানো ও চলাফেরার সময় তড়িৎশক্তির সাহায্যে আবরণের ওপর চাপ কমানো-বাড়ানো যায়। আর সবিধা যেটা তা হল রোগী নিজেই পায়ের নড়াচড়াকে কন্ট্রোল করতে পারবে। আর এ জন্যই তার দুই হাতে ক্রাচ রাখতে হবে। ক্রাচে আটকানো বোতম চেপে ওই এক্সোস্কেলেটনের মাধ্যমে ঘন্টায় এক মাইলের কিছু বেশি গতিতে চলাফেরা করতে পারবে রোগীরা। এসময় তাদের কাঁধে ঝোলানো ব্যাগের ব্যাটারির সাহায্যে যন্ত্রটি টানা আট থেকে ন’ঘন্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে।

পক্ষাঘাত আক্রান্তদের তেমনভাবে সারানো যায় না। তাই এসব রোগীরা বসে থেকে থেকৈ যেন নতুন কোনো অসুখের ফাঁদে পা না দেন সেজন্যই বিজ্ঞানীদের এ নিদারণ প্রচেষ্টা। বিজ্ঞানীদের এ নিদারণ প্রচেষ্টা। বিজ্ঞানীদের দাবি তাদের তৈরি এক্সেোস্কেলেটন ব্যবহার করে রোগীরা ভালোভাবে জীবন কাটাতে পারবেন। এ ধরনের ডিভাইস হুইল চেয়ারের আদর্শ বিকল্প হবে।

খবরে প্রকাশ বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফসল ’ফিনিক্স’ ইতিমধ্যে গবেষণাগারের চৌকাঠ পেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাজে লাগার জন্য বাজারে এসে গেছে। শুধুমাত্র রোগীরা তাদের শরীরের ওজন, উচ্চতা ও পায়ের আকারের সঙ্গে মানিয়ে এসব গবেষণালব্ধ ফসল ব্যবহার করবেন। তবে এসব জিনিদের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। প্রায় চল্লিশ হাজার মার্কিন ডলার।

তবে দিন যত ততই এগুলোর দাম কমবে এবং সাধারণ মানুষের কাজে লাগবে—এমনটা বোধহয় আশা করাই যায়। আর বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে কম দামের ‘এক্সে স্কেলেটন’ তৈরির জন্য জোরকদমে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। সুতরাং অত চিন্তার কারণ নেই। অদূর ভবিষ্যতে এসব জিনিস মানুষের হাতে এল বলে।

নতুন অঙ্গ ‘মেসেনটারি’ঃ এতদিন পর্যন্ত জানা ছিল যে হার্ট বা হৃৎপিন্ড, ব্রেন বা মস্তিষ্, যকৃত বা লিভার, ফুসফুস বা লাংস এবং বৃক্ক বা কিডনি—এই পাঁচটি অঙ্গই মানুষকে সুস্থভাবে বাঁচতে সাহায্য করে। তাই এদেরই বলা হত মানুষের শরীরের প্রধান অঙ্গ। এরই সঙ্গে বলা হত আরও নাকি চুয়াত্তরটি অঙ্গ সহায়ক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে মানুষকে সুস্থ, সতেজ ও সুন্দর রাখে।

১৫০৮ সাল নাগাদ ইতালিয়ান সর্ববিদ্যা বিশারদ লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি অবশ্য আরেকটি নতুন অঙ্গের কথাও জানিয়েছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে মানুষের শরীরের এ অঙ্গকে কেউ পাত্তাই দেয়নি। বরঞ্চ বলা যায় অগ্রাহ্য করেছে।

সম্প্রতি মানুষের শরীরে নতুন এক অঙ্গের দেখা মিলেছে। নাম মেসেনটারি। এতদিন পর্যন্ত একে শুধু পাচনতন্ত্রের কয়েকটি খন্ডিত কাঠামো বলে ভাবা হত। কিন্তু হালআমলের বিশ্ববিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে এটি খন্ডিত নয় বরঞ্চ একটানা একক এক অঙ্গ।

বিজ্ঞানীদের গবেষণালব্ধ ফলাফল ‘দি ল্যানসেট’ মেডিকেল জার্নালে সম্প্র্রতি প্রকাশিত হয়েছে। খবরে প্রকাশ আয়ারল্যান্ডের লিমেরিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হাসপাতালের গবেষক তথা চিকিৎসাবিজ্ঞানী যে. ক্যালভিন কফি জানান যে যদিও এ অঙ্গের কার্যকারিতা ঠিক কী তা এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট নয় তবুও বলা যেতেই পারে যে আবিষ্কারের হাত ধরেই বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দরজা খুলে যেতে চলেছে।

যদি সত্যি সত্যিই এ অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বোঝা যায় তাহলে এর অস্বাভাবিক কার্যকারিতাও বোঝা যাবে ভালোভাবে। রোগ নির্ণয় করাও অনেক সহজ হবে। আর এরই হাত ধরে জন্ম নেবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘মেসেনটারি সায়েন্স’ নামে এর এক নতুন শাখা।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দাবি করেন যে এই নতুন খোঁজ পাওয়া অঙ্গের নিরিখে তলপেটের রোগগুলোকে নানাভাগে ভাগ করা সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত এর শারীরস্থান এবং ক্যাটাজেন নির্ণয় করা গেছে। পরবর্তী ধাপে এর কার্যকলাপ ও কার্যকারিতা নির্ণয় করা হবে। আর একবার যদি এর স্বাভাবিক কার্যকারিতা বোঝা যায় তাহলে এর অস্বাভাবিক কাজজর্মও বোঝা যাবে। এভাবেই সহজে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে এই নতুন অঙ্গ তলপেটের অসুখ-বিসুখে কী ভূমিকা দেন তা আবিষ্কার করা গেলে নতুন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতিরও দেখা মিলবে।








Leave a reply