নীরব ঘাতক ‘একাকিত্ব’

|

যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ত চক্রে থাকতে থাকতে আমাদের অনেকসময় একাকিত্ব গ্রাস করে। একাকিত্ব প্রথমে ধীরে ধীরে সর্বগ্রাসী রুপ নেয়। একাকিত্বকে যত প্রশ্রয় দেয়া যাবে এটি তত বেশি ছড়িয়ে পড়বে। একাকিত্ব সামাল দিতে অনেকে মাদক ও অসামাজিক কর্মে লিপ্ত হয়ে সর্বনাশ ডেকে আনেন। অথচ কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে ও জীবনধারায় পরিবর্তন এনে সহজেই মোকাবিলা করা যায় একাকিত্বকে। আসুন জেনে নেই কিছু সহজ টিপস।
একাকিত্বের কারণ খুঁজে বের করা: প্রথমে একাকীত্বের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। প্রাপ্ত বিষয়টি আসলে একাকিত্ব নাকি অন্য কোনো সমস্যা, তা জেনে নিন। দরকার হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিবেন। কেননা সমস্যা উদঘাটন করতে না পারলে সমাধান করাও সম্ভব নয়।
ভুল শুধরে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া: সাধারণত আমরা একবার হোচট খেলেই সহজেই হাল ছেড়ে দেই। এইটাই আমাদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই হোচট সামলাতে না পেরে আমরা ডুবে যাই নেতিবাচক ভাবনার রাজ্যে আর এই ভাবনাগুলোই একাকিত্বকে ডেকে আনে। এজন্য অতীত বা চলমান ভুলগুলোকে পাশ কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ভুলের কারণ জেনে আবার এগিয়ে যেতে হবে।
নিয়মিত কাজের বাইরেও নিজের শখগুলো জাগ্রত করা: জীবিকার তাগিদে বা কাজের চাপে নিজের আনন্দের জন্য অনেকদিন কিছুই করা হচ্ছে না। তখনই একাকিত্ব মনে হয়। কাজে মনোযোগ কমে যাওয়াসহ নানা উপদ্রব দেখা দিতে থাকে জীবনে। এরকম পরিস্থিতি হলে একটু ব্রেক নেয়া দরকার। আর নিয়মিত কাজের সঙ্গে সঙ্গে পছন্দের শখ ও কাজ নিয়ে কিছুটা সময় মেতে উঠতে পারেন নিজের মতো করে।
ইন্টারনেট আসক্তি থেকে বিরত থাকুন: বর্তমান যুগে ইন্টারনেট আমাদের পরম বন্ধু। যার মাধ্যমে আমরা যে কোন ধরণের তথ্য অতি সহজেই পেয়ে থাকি। তবে তার ব্যবহার হতে হবে পরিমিত। ইন্টারনেটে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে একাকিত্বকে কিছুটা হলেও দূর করতে পারি। তবে এক্ষেত্রে দুটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, এক- ইন্টারনেটে নির্ভরশীল না হয়ে সেটিকে আসল জীবনের সাথে রিলেট করা, এবং অপরটি হলো ইন্টারনেট থেকে কোন কিছু গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সেটার ভাল দিক ও খারাপ দিক বিবেচনা করে নেওয়া।
ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাওয়া: কোনো কারণ বা প্রেক্ষাপটে নেতিবাচক চিন্তায় মগ্ন থাকা আমাদের করা সবচেয়ে বড় ভুল। এটি আসলে একাকিত্বের চোরাবালির মতো। শুধু তাই নয় অতীতের করা কোনো ভুলগুলো মনে করে আমরা প্রতিনিয়ত কষ্ট পেয়ে থাকি। আর এভাবেই মনের অজান্তেই একাকিত্ব আমাদের গ্রাস করে ফেলে। তাই আমাদের নেতিবাচক ভাবনা বাদ দিয়ে ইতিবাচক দিকগুলোকে পুঁজি করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। ইতিবাচক চিন্তার শক্তি অনেক প্রখর। এটি আমাদের অনুপ্রাণিত করে এবং আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী করে সফলতা অর্জনের পাশাপাশি একাকিত্বকেও হটিয়ে দেয়।
হালকা ব্যায়াম ও ইয়োগা: দ্রুত একাকিত্ব দূর করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে শারীরীক মুভমেন্ট। ব্যয়াম ও ইয়োগা করার মাধ্যমে শরীরে ও মস্তিস্কে রক্ত চলাচল বেড়ে গিয়ে একাকিত্বকে দূরে ঠেলে দেয়। একাকিত্ব দূর করতে মন ভালো রাখা অত্যন্ত জরুরী। আর ব্যয়াম শুধু সুস্বাস্থের জন্যই যে কার্যকারী তা নয় মন ভালো রাখতেও ব্যয়াম বেশ উপযোগী একটি মাধ্যম।








Leave a reply