ধ্যানের গভীরে প্রবেশের ৬ মন্ত্র

|

ধ্যান করতে শেখা হলো প্রথম ধাপ। তারপর সিঁড়ি বেয়ে আরও ওপরের স্তরে কি উঠতে চান? তাহলে কয়েকটি সহজ উপায় বা মন্ত্র এখানে দেওয়া হল :

(১) অন্যের মুখে হাসি ফোটান : কাউকে যখন সাহায্য করেন তখন কেমন লাগে? খুব তৃপ্ত মনে হয় না? মনে হয় যে ভেতরটা প্রসারিত হয়ে উঠল– ছড়িয়ে গেল? এর কারণ যখন আপনি কারো মুখে হাসি আনেন তখন তার কাছ থেকে ইতিবাচক স্পন্দন আর আশীর্বাদ, শুভ কামনার তরঙ্গ আপনার কাছে ভেসে আসে।

শিল্পী মদনের ভাষায় – “আমি যখন সেবা করি তখন সরাসরি উপকার পাই। আমার মন তৃপ্তিতে সুখে আর শান্তিতে ভরে ওঠে। এই তৃপ্তি আর শান্তি আমাকে ধ্যানের গভীরে নিয়ে যায়।”

২) নীরবতার ধ্বনি শোনার অভ্যাস করা : মনে করেন আপনি ভোর বেলা ছাদে উঠে সূর্যোদয়ের সময় রক্তিম আকাশকে দেখছেন আর তার সৌন্দর্যে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে পড়েছেন। তখন কি আপনার ভেতরে এক গভীর নীরবতা আর ওই সৌন্দর্যের সঙ্গে একাত্মতার অনুভব হয় না? সৌন্দর্য আপনাকে ভাষাহীন করে দেয়। মন একেবারে স্থির শান্ত হয়ে যায়। এর কারণ কি সেটা কি কখনও ভেবে দেখেছেন?

মৌন থাকলে অনেক কম ভাবনা মনে আসে আর মন স্থির হয়। বেশিরভাগ সময় যখন আমরা কথা বলি আমাদের মনও কথা বলে। আমাদের ইন্দ্রিয় তথ্য সংগ্রহ করে আর বিভিন্ন ভাবনায় মনকে ভরিয়ে তোলে। মনে অজস্র চিহ্ন এঁকে দেয়।

নীরবতা ধ্যানের পরিপূরক। মৌন থাকলে আপনি সহজে ধ্যানের গভীরে যেতে পারবেন। মৌনতা ও ধ্যান একসঙ্গে পাওয়ার সহজ উপায় হলো আর্ট অফ লিভিং–এর পার্ট টু প্রোগ্রাম। এই পার্ট টু প্রোগাম বেঙ্গালুরু আশ্রমে প্রত্যেক সপ্তাহের শেষে নেওয়া হয়।

হিতাংসী সচদেবের ভাষায় –“মাঝে মাঝে আমি অসংখ্য ভাবনার জালে আবদ্ধ হয়ে পড়ি। মৌন থাকলে ধীরে ধীরে সেই ভাবনা চলে যায় আর আমি ধ্যানের গভীরে যেতে পারি।”

(৩) শরীরকে যোগব্যায়ামের দ্বারা স্বাস্থ্যবান করে তোলা : লক্ষ্য করে দেখেছেন কি কোনো কোনো দিন তোমার ধ্যান করতে বসে অস্থির লাগে। ধ্যানের গভীরে যেতে পারেন না। এর কারণ হলো আপনার দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা শরীরের মাংসপেশীকে অনমনীয় করে তুলেছে, তাই আপনি অস্থির হয়ে আছেন। কিছু যোগাসন করলে এই অনমনীয় শরীর নমনীয় হয়ে উঠবে। আপনার মন স্থির হয়ে ধ্যানের গভীরে যেতে সাহায্য করবে।

(৪) খাবারের বিষয়ে যত্নবান হওয়া : আপনি আগে আমিষ খাবার খেয়ে, তৈলাক্ত, ভাজা খাবার খেয়ে ধ্যান করতেন, আর এখন হাল্কা সাত্ত্বিক খাদ্য গ্রহণ করে ধ্যানে বসেন– এই দুই ধ্যানের মধ্যে কোনো পার্থক্য কি বুঝতে পারেন? এর কারণ মনের ওপর খাদ্যের সরাসরি প্রভাব আছে।

যে ধ্যান করে তার পক্ষে আদর্শ খাদ্য হল শস্য, সবুজ তাজা শব্‌জি, তাজা ফল, স্যালাড, স্যুপ ইত্যাদি। সহজপাচ্য হাল্কা খাবার প্রাণশক্তিকে উচ্চস্তরে উন্নীত করে।

৫) নিজেকে নিজে গান শেখা : আপনার মনের উপর বিভিন্ন গান বিভিন্ন আবেগ সঞ্চার করে। আমাদের শরীরের ৯০ শতাংশ কিম্বা তারও বেশি অংশ খালি জায়গা দিয়ে তৈরি। তাই শব্দের বিশেষ প্রভাব আছে আমাদের উপর। সৎসঙ্গে গান করলে আমাদের আবেগ শুদ্ধ হয় আর আমরা আমাদের ভেতরে একটা প্রসারণ লক্ষ্য করি। ক্ষুদ্র মনের সর্বদা কথা বলার অভ্যাস সৎসঙ্গে এসে শান্ত হয় আর আমাদের মনও স্থির হয়ে ধ্যানের গভীরে যেতে সাহায্য করে।

(৬) ধ্যানের নির্ধারিত সময় : ধ্যানের গভীরে যাওয়ার আর একটি সূত্র হল ধ্যানের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রাখা ও সেই সময় রক্ষার বিষয়ে শৃঙ্খলাপরায়ণ হয়ে ওঠা।








Leave a reply