ঘরোয়া উপকরণেই হাত-পায়ের কড়া সারবে

|

ত্বক নিয়ে কমবেশি সবাই বেশ সচেতন। তবে আমাদের ব্যস্ততম জীবনে নানা কারণে ত্বকের ক্ষতি হয়ে থাকে। এর মধ্যে হাত-পায়ে কিংবা ত্বকের কিছু নির্দিষ্ট অংশে কড়া পড়া একটি বড় সমস্যা। মূলত ত্বকের কিছু নির্দিষ্ট অংশ পুরু হয়ে শক্ত হয়ে যাওয়াকেই কড়া পড়া বলে। সাধারণত পায়ের পাতা, গোড়ালি, কনুই, হাত কিংবা পায়ের আঙুলে কড়া দেখা দেয়।
কড়া কেন পড়ে?

দুই কারণে ত্বকে কড়া পড়ে। প্রথমত, ত্বকের একটি নির্দিষ্ট অংশে অনবরত ঘর্ষণ বা চাপ পড়ার কারণে কড়া পড়ে। দ্বিতীয়, অনেক সময় ত্বক কেটে যাওয়া থেকে কড়া তৈরি হতে পারে, যা সাধারণ কড়া থেকে বেশি যন্ত্রণা দেয়।

সাজসজ্জা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতীয় রূপচর্চা বিশেষজ্ঞ আনিতা গোলানি জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে এই সমস্যা সমাধান করা যায়। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কড়া থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায়গুলো-

পেঁয়াজ

পেঁয়াজের অম্লীয় উপাদান কড়া সারাতে অনন্য। এর রস এত শক্তিশালী যে নিয়মিত ব্যবহারে শক্ত হয়ে যাওয়া চামড়ার স্তর উঠিয়ে ফেলতে পারে। আক্রান্ত অংশে পেঁয়াজের রস মাখিয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ওই অংশ ঢেকে রাখতে হবে দুদিন। একসময় ত্বক নরম হয়ে কড়া সেরে যাবে।

রসুন

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ভাষায় রসুন নানা ওষুধি গুণে ভরপুর। কড়াকে গোড়া থেকে নির্মূল করতে এটি বেশ কার্যকর। রসুনের ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ ব্যথাযুক্ত কড়ার ভেতরের প্রদাহ ও সংক্রমণ সারায় দ্রুত। এজন্য রসুন বাটা সরাসরি কড়ার উপরিভাগে মাখিয়ে রাখতে হবে রাতভর। পরে ধুয়ে ফেলতে হবে কুসুম গরম পানিতে।

বেইকিং সোডা

ত্বকের মৃতকোষ পরিষ্কার করতে বেইকিং সোডা বহুল ব্যবহৃত উপাদান। কড়া সারাতে বেইকিং সোডা মেশানো কুসুম গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখতে হবে ১৫ মিনিট। পরে আক্রান্ত অংশ নরম হলে ঘষে কড়া পরিষ্কার করা যাবে।

ক্যাস্টর অয়েল

শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্যাস্টর অয়েল অত্যন্ত উপকারী। কুসুম গরম পানিতে তরল সাবান আর ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। কিংবা এই দ্রবণে পাথর ডুবিয়ে তা দিয়ে কড়া পড়া অংশ আলতোভাবে ঘষে নিতে পারেন।

আনারসের খোসা

কড়া পড়া অংশে আনারসের খোসা বেঁধে রাখলে এর অম্লীয় উপাদান কড়া দূর করবে। সারারাত রাখতে পারলে ভালো। তবে খোসা খুলে ত্বক পরিষ্কার করে সেখানে নারকেল তেল মাখতে হবে।

লেবু

সব ধরনের কড়া দূর করতে লেবু কার্যকর। ব্যথাযুক্ত কড়ার মাঝখানে ব্যথা থাকে বেশি। কারণ সেটাই অভ্যন্তরীণ প্রদাহের কেন্দ্রবিন্দু। এক্ষেত্রে তাজা লেবুর রস সরাসরি কড়ার মাঝখানে প্রয়োগ করতে হবে। নিয়মিত লেবুর রস দিতে থাকলে এক পর্যায়ে কড়াটি আরও শক্ত হয়ে খসে পড়বে। যত খুশি তত লেবুর রস দিতে পারেন, এতে কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই।

ভিটামিন ই তেল

এই তেল কড়া সারায় আক্রান্ত স্থানের ত্বক নরম করার মাধ্যমে। রাতে ঘুমানোর আগে তেল সরাসরি আক্রান্ত অংশে মাখিয়ে মোজা পরে ঘুমাতে হবে। এতে আছে ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ যা দ্রুত কড়া সারায়।

তবে স্থায়ী সমাধান করতে হলে যে অনবরত ঘর্ষণ বা চাপ থেকে কড়া পড়ছে সেই অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে।








Leave a reply