করোনাকালে বর্ষায় কী কী খাবার খাওয়া উচিত না

|

বাইরে বর্ষা সঙ্গে করোনা। ফলে খুবই সচেতন থাকার সময়। চিকিৎসকেরা এই সময়টাতে খাবারের ব্যাপারে বেশি সতর্ক হতে বলছেন। কারণ এই সময়ই সব চেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে জীবাণুরা। আর সুযোগ পেলেই বাঁধিয়ে দেয় জ্বর, সর্দি, কাশি, পেটখারাপ। এগুলি আজকাল করোনা ভাইরাসেও উপসর্গ আবার ডেঙ্গু বা চিকেন পক্সেও এই সময় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সাবধানে থাকার পাশাপাশি খাবার নির্বাচনেও হতে হবে সচেতন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই সময় কয়েকটি খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।

কী কী খাবেন না?

১। ভাজা খাবার

তেলে ভাজা এমনিতেই এড়িয়ে চলা ভালো। বর্ষার সময় তো অবশ্যই। মুখরোচক কিছু খেতে ইচ্ছে হলে বাড়িতে বানানো তেলেভাজা খান। বাইরের খাবার পাকস্থলীর উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে। হজমের সমস্যা হয়। এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।

বর্ষায় শরীর আর্দ্র থাকে, অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খেলে  তা পাকস্থলীতে বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ভুট্টা ও জলপাই তেল শরীরের জন্য ভালো।

২। সামুদ্রিক মাছ

বর্ষায় চিংড়ি, পমফ্রেট, কাঁকড়া ইত্যাদি খুব পাওয়া যায়। এই বর্ষা মাছেদের প্রজননের জন্য আদর্শ। কিন্তু তা উন্নত মানের হয় না। খেলে শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সামুদ্রিক যে কোনো মাছ বর্ষায় না খাওয়াই ভালো। কেউ খেতে চাইলেও বাড়িতে ভালো করে ভেজে খেতে হবে। বাসি খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে।

৩। শাক

প্রথমেই কোপ পড়বে শাকে। অনেকেই ভালোবাসেন, আবার অনেকেই নয়। যা-ই হোক, এই বর্ষার সময় শাক এড়িয়ে চলার কথা বলা হয় সব সময়। কারণ বর্ষায় গাছের পাতায় পোকামাকড় বাড়ে, আর খুব ভালো ভাবে তা পরিষ্কার করা সম্ভবও হয় না। এর ফলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। জীবাণুযুক্ত এ সব শাক-সবজি পাকস্থলীর জন্য বিপজ্জনক। এ কারণে ডায়েরিয়া ও খাদ্যে বিষক্রিয়া হয়।

কিন্তু কেউ যদি একান্তই না খেয়ে থাকতে না পারেন তবে শাক সবজিগুলো রান্নার আগে নুন মাখিয়ে  ভালো করে ধুয়ে নিন।

৪। কাটা ফল

কোনো সময়ই কেটে রাখা ফল খাওয়া উচিত না। এই সময় তো নয়ই। বাতাসের সংস্পর্শে তার ওপর নোংরা ব্যাকটেরিয়া  জন্মায়।

৫। ফলের রস

বর্ষায় কোনো ধরনের ফল বা সবজির রস বাইরে খাওয়া যাবে না। যদি একান্তই খেতে হয়, তবে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে হবে। বাইরে তৈরি বর্ষায় ফলের রস, কুলফি, ঘোল, আখের রস, দই জাতীয় খাবার নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

৬। কোল্ড ড্রিংক

বর্ষার সময় কোল্ড ড্রিংক এড়িয়ে চলুন। কোল্ড ড্রিংক আমাদের শরীরে খনিজের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে উৎসেচকগুলো ঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। এতে মারাত্মক হজমের সমস্যা তৈরি হয়। পেটে ইনফেকশনও হতে পারে।

৭। বাসি খাবার

বাসি খাবারই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগ ছড়ানো জীবাণুর জন্ম দেয়। তাই তা এড়িয়ে চলতে হবে।

৮। বাইরের খাবার

ফুটপাত হোটেল-সহ বাইরের খাবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হয়। এই খাবারে জীবাণুও থাকে অনেক বেশি। তাই ভালোমন্দ খেতে ইচ্ছা করলে বাড়িতে তৈরি করে খান। খাবারের তালিকায় সব সময় ফল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার, ভিটামিন এ, সি, ই ও ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।

৯। কাঁচা খাবার

যে কোনো খাবার ভালো করে রান্না করে সেদ্ধ করে খাওয়া উচিত। কাঁচা খাবার বর্ষায় না খাওয়াই ভালো। বর্ষায় এ ধরনের খাবারে জন্ডিস, টাইফয়েডের আশঙ্কা অনেক বাড়িয়ে দেয়।








Leave a reply