করোনাকালে অনলাইনে ক্লাস, বাড়ছে শিশুদের মোবাইলে আসক্তি

|

মহামারি করোনার জেরে বছরের শুরু থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লক ডাউন ঘোষণা করে। বন্ধ হয়ে যায় স্কুল কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমাদের দেশেও একই চিত্র। প্রায় ছয়মাস হতে চলল বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনলাইনে চলছে ক্লাস। শিশুরাও এরমধ্যে এতে বেশ মানিয়ে গেছে। অন্যদিকে বাড়ছে শিশুদের মোবাইলের প্রতি আসক্তি।
গবেষণা বলছে, এতে লেখাপড়ার অভ্যেস বজায় থাকলেও মারাত্মক খারাপ অভ্যাসও তৈরি হচ্ছে। মোবাইলের প্রতি তীব্র আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশুরা আর তাতেই স্বভাবগত ভাবে নানা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যণীয়। মনোবিদের মতে, বিজ্ঞানের অগ্রগতির যুগে বেশিরভাগ শিশুই এখন জন্ম থেকে হাতে মোবাইল ফোন পেয়ে যাচ্ছে। ফলে ছোট থেকে গেম খেলা কিংবা ভিডিও দেখার শখ তৈরি হচ্ছে। তবে মহামারির মধ্যে এর মাত্রা অনেকটাই বেড়েছে বলে মনে করছেন তারা।

কিং জর্জস মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির এক সিনিয়র মনোবিদ বলেন, মোবাইলে অনলাইন ক্লাস করার সুযোগে অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে অনেক শিশুই। ফলে তারা এই ডিভাইস ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ছে। যার ফলে অল্পে মেজাজ হারানো কিংবা খিদে না পাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। এছাড়া মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা করার মতো সমস্যা তো রয়েছেই।

আবার কোনো বাচ্চার এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছেও যাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালে রয়েছে সংক্রমণের ভয়। ফলে পরিস্থিতি সামলাতে হচ্ছে অভিভাবককেই। আর মা-বাবার কথায় অনেক সময়ই গুরুত্ব দিচ্ছে না সন্তান। তাই সমস্যাও মিটছে না। লকডাউনের মধ্যে বাড়ির সকলেই ভারচুয়াল দুনিয়ায় ব্যস্ত। অভিভাবকদের অনেকে আবার ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন। ফলে বাচ্চাদের ঠিকমতো সময়ও দিতে পারছেন না। কথা বলারও সুযোগ পাচ্ছেন না হয়তো। এর ফলে শিশুও মোবাইলের দিকে ঝুঁকছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, দিনের অনেকটা সময় স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ থাকায় চোখ লাল হওয়া বা চোখ থেকে জল পড়ার ঘটনাও ঘটছে। দৃষ্টিশক্তিও দুর্বল হচ্ছে। তাই সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিন। তাদের অন্য খেলায় ব্যস্ত রাখুন। অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি তাদের লেখাপড়ায় আপনিও সাহায্য করুন। এতে করে মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে মুক্ত থাকবে আপনার সন্তান।








Leave a reply