উকুন মারার ঘরোয়া ৫টি পদ্ধতি

|

মাথায় উকুন (Lice) হওয়া এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মাথায় উকুন হলে সারাদিন মাথা চুলকায় এবং যারফলে একটা অস্বস্তির মধ্যে আমাদের দিন কাটে। বেশির ভাগ সময় দেখা যায় যে প্রথমে বাড়ির বাচ্চাদের উকুন হয়ে থাকে। তারপর সবার মাথায় আস্তে আস্তে ছড়াতে লাগে। প্রথমেই উকুনকে প্রতিরোধ না করলে তা আমাদের জন্য একটি বড় অসুবিধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আবার উকুন মারার জন্য ক্ষতিকারক কেমিক‍্যাল ব্যাবহার করলে তা আমাদের চুলের ভীষণ ভাবে ক্ষতি করে দিতে পারে। তাহলে আজ আমরা কিছু ঘরোয়া এবং প্রাকৃতিক উপায় জেনে নিই যা উকুন মারতেও সাহায্য করে এবং আমাদের চুলেরও ক্ষতি করে না।

নারকেল তেলঃ উকুন তাড়ানোর জন্য কিন্তু নারকেল তেলের ও কোনো জুড়ি নেই। নারকেল তেল উকুনের শ্বাসরোধ করতে সাহায্য করে। রাতে ৩-৪ চামচ নারকেল তেল এবং কর্পূর গরম করে তা চুলে এবং মাথার তালুতে ভালো করে লাগাতে হবে। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে শ্যাম্পু করতে হবে। মোটামুটি সপ্তাহে ৫ দিন নিয়ম করে এই পদ্ধতি অনুসরণ করার পর আমরা উকুনমুক্ত হতে পারি।

লেবুর রসঃ লেবুর রসে আ্যাসিড থাকে যা উকুন তাড়াতে এবং আটকাতে উপযোগী। লেবুর রসের সাথে আদা বেটে সেই মিশ্রণটি আমাদের চুলে প্রায় আধ ঘন্টা রেখে দিতে হবে। এরপর জল এবং তারপর শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মিশ্রণটি পর পর ৪-৫ দিন চুলে লাগালে পুরোপুরি উকুন আটকানো যায়।

ভিনিগারঃ উকুনকে প্রতিরোধ করার জন্য ভিনিগার হলো এক মোক্ষম উপায়। ভিনিগারে প্রচুর পরিমানে আসিটিক আ্যাসিড থাকে যা আমাদের চুলে হওয়া উকুনকে মারতে সাহায্য করে। ভিনিগার উকুনের ডিম বা নিটকে আমাদের চুলের থেকে বিলীন করে দেয়।

সমান পরিমানের ভিনিগার আর মিনারেল অয়েল মিশিয়ে ঘুমোনোর আগে সেইটা আমাদের মাথার তালুতে এবং চুলে লাগিয়ে রাখতে হবে। আবার সকালে ঘুম থেকে উঠে শ্যাম্পু করতে হবে। মোটামুটি সপ্তাহে ২-৩ বার এই মিশ্রণটি লাগালে কিছু সপ্তাহের মধ্যেই আমরা উকুনের হাত থেকে বাঁচতে পারি।

পিঁয়াজঃ পিঁয়াজ একটি খুবই সহজ এবং ঘরোয়া উপায়ে যা দিয়ে উকুন তাড়ানো যায়। কিছুটা পরিমানে পিঁয়াজ বেটে রাখতে হবে। তারপর ছাকনি দিয়ে তার রস বের করে সেইটা আমাদের চুলে এবং মাথার তালুতে লাগাতে হবে। এরপর মাথা ঢেকে তা মোটামুটি ২ ঘন্টার জন্য রেখে দিতে হবে। সময় হয়ে গেলে মাথায় উষ্ণ গরম জল এবং শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই পদ্ধতি তা প্রথমে পর পর ৩ দিন অনুসরণ করে তারপর সপ্তাহে একদিন লাগাতে হবে। এইভাবে যতদিন না আমরা পুরো উকুন মুক্ত হচ্ছি ততদিন মাসে ১ দিন করে লাগাতে হবে।

মেয়োনিজঃ মেয়োনিজ আরেকটি সহজ উপায় যা উকুন মারতে সাহায্য করে। মেয়োনিজ চুলে লাগালে মেয়োনিজ উকুনকে শ্বাসরোধ করে দেয় এবং অবশেষে উকুনগুলো মারা যায়।প্রথমে চুলে মেয়োনিজ লাগিয়ে প্রায় ৫-৬ ঘন্টা সেটা রেখে দিতে হবে। ৫-৬ ঘন্টা হয়ে যাওয়ার পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়ার পর হেয়ার ড্রাইয়ের দিয়ে চুল শুকোতে লাগবে। এর পর সরু দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুলের উকুন এবং নিট গুলো ঝেড়ে ফেলতে হবে। এই পদ্ধতিটি সপ্তাহে একবার করে ২ মাস অনুসরণ করতে হবে পুরোপুরি উকুন তাড়ানোর জন্য।

উল্লেখ করা প্রত্যেকটি মিশ্রণ লাগিয়ে কিন্তু অবশ্যই শাওয়ার ক‍্যাপ বা কোনো প্লাস্টিক দিয়ে আমাদের চুল ঢেকে রাখতে হবে। যেমন দিন উল্লেখ করা আছে ঠিক সেই সময় মতই আমাদের উল্লেখিত মিশ্রণটি লাগাতে হবে। যেকোনো একটি পদ্ধতিই উকুন মারতে সক্ষম। বেশ কিছুদিন পদ্ধতিগুলি অনুসরণ করার পর ও যদি উকুন না যায় তাহলে ডাক্তারের কাছ থেকে সমস্যার সমাধান নেওয়া অতন্ত জরুরী।








Leave a reply