আনুষ্ঠানিকতাবিহীন বিয়ে

|

বাংলাদেশে সাধারণত শীতকালেই বেশি বিয়ে হতো। কিন্তু করোনা যেন সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বলতে গেলে অনেকটা ভরাডুবিই করে দিয়েছে। রেজিস্টার অফিসে খোঁজ নিলে এই পূর্বানুমান সঠিক না হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফেইসবুক বন্ধু তালিকায় লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রতি সপ্তাহেই কেউ না কেউ বিয়ে করছে। বিয়ের আলোচনাও হচ্ছে সবার মুখে মুখে। কিন্তু করোনাকালীন এই বিয়ে কিন্তু স্বাভাবিক সময়ের মতো না। এখানে আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি নেই। নেই বাড়তি লোক সমাগম কিংবা রীতি মানার ভয়। বিয়ের ক্ষেত্রে বাঙালির দীর্ঘদিনের যে ঐতিহ্য ও আনুষ্ঠানিকতা পালনের রীতি, করোনাকাল যেন সবকিছুই ভেঙে দিয়েছে।

আনুষ্ঠানিকতা

বাঙালির কাছে বিয়ে মানেই সপ্তাহব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা। পাত্র-পাত্রী দেখা থেকে শুরু করে বিয়ে পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই রকম আনুষ্ঠানিকতা চলতে থাকে। অঞ্চল ভেদে অবশ্য এই ধরণের রীতি পালনের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। তবে গাঁয়ে হলুদ কিংবা বিয়ে শেষে বর ও কনের বাড়িতে আনুষ্ঠানিকতা, বউ ভাত ইত্যাদি রীতি সবাই পালন করে থাকে। সেইসাথে বিয়ে মানেই বাড়ি ভর্তি মেহমান, আত্মীয়-স্বজন কিংবা পাড়া পড়শির আগমনের একটা বিষয় থাকে। কিন্তু আগ্রাসী করোনা যেন শুধু মানুষ নয় বাঙালির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাকেও গ্রাস করে নিয়েছে।

হৈ হুল্লোড়

বাঙালির বিয়ে মানেই রং ছিটানো, মেহেদী বাটা আর কাঁদা ছিটানো উৎসব। সেইসাথে নাচ-গান আর হৈ হুল্লোড় তো আছেই। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিয়েতে নারীরা নানা রকম গীতও পরিবেশন করে থাকে। সেইসাথে অঞ্চল ভেদে ভিন্ন আয়োজনও থাকে। কিন্তু করোনাকালের এই সমস্ত বিয়েতে যেন কোন হৈ হুল্লোড় নেই। সেইসাথে নেই পাড়া পড়শিদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগির আয়োজন।

কানাঘুষা

করোনাকালের বিয়েতে সবচেয়ে বেশি যেই জিনিসটি অনুপস্থিত, তা হলো কানাঘুষা। স্বাভাবিক সময়ে বিয়েতে যেই রকম কানাঘুষা হয়। নব দম্পতিকে নিয়ে পাড়া পড়শিরা যে সমস্ত মন্তব্য করে, এর কিছুই নেই এই বিয়েতে। বিয়ের পরপরই নতুন বউকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে নানান রকম কথা শুরু হয়। এই ধরণের আলোচনার বেশিরভাগই নেতিবাচকতায়পূর্ণ থাকে। কিন্তু করোনাকালে যেন এসবের কিছুই নেই।
খরচ নেই

এই সময়ের বিয়েগুলো যে রকম আনুষ্ঠানিকতাবিহীন, সেইসাথে বিয়েতে খরচও নেই বলতে গেলে। তাই অনেকেই এই সময়ে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার কাজটি সেরে ফেলছেন। আবহমান কাল ধরে চলে আসা বিয়ে বাঙালি সমাজের জন্য একটা খরচের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশ্য বিয়েতে সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ীই খরচ করে থাকে। কিন্তু তারপরও বিয়েতে প্রচুর অর্থ খরচ করা অনেকটাই লোক দেখানো বিষয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু করোনা যেন খরচের ভাবনা অনেকটাই বাঁচিয়ে দিয়েছে।








Leave a reply