অগোছালো থাকা কি মানসিক রোগ!

|

অগোছালো, চার অক্ষরের বাংলা শব্দ। কিন্তু চার অক্ষরের এই শব্দটি যেন সকলের চক্ষুশূল। অবশ্য শত্রুতা যতোটা না এই শব্দটির সাথে তার চেয়ে বেশি এমন মানুষের সাথে। অগোছালো মানুষ কিংবা অগোছালো জীবন যেন কেউই দেখতে পারে না। কিন্তু এরপরও কিছু কিছু মানুষ থেকে যাচ্ছে অনেক অগোছালো হয়ে। অগোছালো প্রেমিককে যেন পছন্দ করতে চান না প্রেমিকারা।

আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সামাজিক জীবনে এমন অগোছালো মানুষের সংখ্যা যেন কম নয়। অনেকেই আছেন, সেই স্কুল জীবন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অব্দি সব সময় মা-ই তার চুলে চিরুনী করে দিয়েছে। ফলে মার অনুপস্থিতি কিংবা অবর্তমানে সে যেন চুল আঁচড়াতেই জানে না। ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবন পর্যন্ত নানা ধরণের অগোছালো মানুষ দেখা যায়। মানুষ ভেদে একেকজন একেক দিক থেকে অগোছালো। অনেক ক্ষেত্রেই একের সাথে অন্যের কোন মিল নেই। কেউ ঠিকভাবে বাজার করতে পারে না, তো কেউ বাজার করতে গিয়ে ভুলে যায়। আবার কেউ কেউ তো একটা সুতা কিনতে গিয়েও কয়েকবার ফোনে জিজ্ঞেস করে কোনটা কিনবে? বড় না ছোট, লাল না সাদা ইত্যাদি নানা বিষয়। ফলে একেকজন একেক দিক থেকে অগোছালো।

তবে আপনি বা আমি এমন মানুষ নিয়ে খুব বেশি বিরক্ত হলেও তাদের নিয়ে ভিন্ন রকম কথা বলেন মনোবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এটাকে ঠিক অগোছালো বলা যায় না। একটা মানুষ নানাভাবে দীর্ঘদিনের জীবনযাপনে সে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে উঠে যা তাকে এ সমস্ত কাজের ক্ষেত্রে অনেকটাই নির্ভরশীল করে তুলে। এটা একটা আচরণগত পরিবর্তনের বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে মানসিক সমস্যাও বলা চলে। কারণ এতে করে তার ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ এমন মানুষকে অনেকেই বিরক্তির চোখে দেখে। আর অগোছালো এক ধরণের প্রতিবন্ধকতা। মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শিখি, এই সমস্ত বিষয় শেখার মানেই হল প্রতিবন্ধকতা দূর করা। অগোছালো মানুষকেও এমন প্রতিবন্ধকতা কাটাতে হবে। এবং তাদের পক্ষে এটা কাটানো সম্ভবও। তবে এরজন্য একটা আচরণগত পরিবর্তনের ভিতর দিয়ে তাদের যেতে হবে।

অনেককেই দেখা যায়, ছাত্র জীবন থেকেই নিজের নম্বরপত্র কিংবা সনদ গুছিয়ে রাখতে অভ্যস্ত নয়। এমন শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে গিয়েও অফিসিয়াল বা দাপ্তরিক কাগজপত্র, ফাইল ইত্যাদি গুছিয়ে রাখতে সমস্যা হয়। কারণ সে দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্ত জিনিস গুছিয়ে রাখতে অভ্যস্ত নয়। ফলে এই সমস্যাটি তার ভিতরে রয়ে গেছে। তাই এক ধরণের আচরণগত পরিবর্তনের ভিতর দিয়ে তাকে আবার গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এভাবে একটা সময় পরে ঠিক হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।








Leave a reply