Loofah বা গা ঘষার জালি থেকে হতে পারে ত্বকের সংক্রমণ জেনে কিভাবে সংক্রমণ এড়ানো যায়

|

বাঙালি বাড়িতে আগে স্নানের সময় গা ঘষার জন্য ব্যবহার করা হত গামছা। কিংবা ধুঁদুলের জালি। কিন্তু এখন আমরা সাহেব হয়েছি, তাই গামছা নিয়ে বাথরুমে যেতে আমাদের বড্ড সম্মানে লাগে। আমরা এখন এসবের বদলে ব্যবহার করি সিন্থেটিক লুফা, গা ঘষার নানা ধরনের ব্রাশ ইত্যাদি। কিন্তু জানেন কি, ডার্মাটোলজিস্টরা এই ধরনের লুফা কিংবা স্পঞ্জ বা গা ঘয়ার জালি ব্যবহার করার একেবারে বিপক্ষে? কারণ, তাঁদের মতে, এই লুফা (loofah) থেকে ত্বকে নানা ধরনের সংক্রমণ (skin infections) দেখা দিতে পারে। বুঝতে পারছেন সমস্যাটা? যেটি দিয়ে ত্বকের নোংরা, মরা কোষ ইত্যাদি পরিষ্কার করবেন ভেবেছিলেন, সেটিই আসলে ত্বকের বারোটা বাজাতে সক্ষম। কেন তাঁরা একথা বলছেন এবং লুফার পরিবর্তে (alternatives) তা হলে কী-কী ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই নিয়েই আলোচনা করা হল এই প্রতিবেদনে…

লুফা থেকে কেন ছড়াতে পারে ত্বকের সংক্রমণঃ লুফা দিয়ে গা ঘষার সময় ত্বকের উপরে জমে থাকা ময়লা এবং মৃত কোষ কিছুটা বেরিয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু তার কিছুটা আবার এর ফাঁকে-ফাঁকে ঢুকেও যায়। সমস্যা হল, লুফাতে বাসা বাঁধা এই ময়লা কিন্তু আপনি খালি চোখে দেখতে পাবেন না। অথচ পরের বার যখন স্নান করতে যাবে, ততক্ষণে এই ময়লার ব্যাকটেরিয়াগুলি বংশবৃদ্ধি করে আপনার ত্বকে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছে।

ফলে আপনি ভাবলেন, লুফা দিয়ে স্নান করে আপনি পরিষ্কার হলেন, কিন্তু আসলে গুচ্ছখানেক ব্যাকটেরিয়াকে সারা শরীরে জমা হওয়ার সুযোগ করে দিলেন! তা ছাড়া একটু ভেবে দেখুন তো, লুফা দিয়ে স্নানের সময় গা ঘষার পর আপনি কোনওদিন সেটিকে ভাল করে পরিষ্কার করেন? শুকোতে দেন? নাকি কোনওমতে দায়সারাভাবে বাথরুমের এক কোণে ঝুলিয়ে রেখে দেন? আমাদের এই দায়সারা মনোভাবই আসল বিপদ ডেকে আনে। যে-কোনও আর্দ্র জায়গাতেই জীবাণুরা মনের সুখে বংশবৃদ্ধি করে। ফলে সাধের লুফাটিই বা তারা ছেড়ে দেবে কেন?

লুফা স্যানিটাইজ করার পদ্ধতিঃ তা হলে কি লুফা ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়? না, ঠিক ততটাও কঠিন হতে বলছেন না ডার্মাটোলজিস্টরা। তবে তাঁদের বক্তব্য হল, লুফা নিয়মিত পরিষ্কার তো করতেই হবে, সেই সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর স্যানিটাইজও করতে হবে। সেই পদ্ধতিই এখানে স্টেপ বাই স্টেপ বলে দিচ্ছি আমরা।

১.একটি বালতিতে চার লিটার জল নিন। তাতে ১/৪ কাপ লিকুইড ক্লোরিন ব্লিচ গুলে তাতে লুফাটি ভিজিয়ে রাখুন অন্তত মিনিটদশেক। এবার ভাল করে কল খুলে, তার তলায় লুফাটি ধরে সেই জলে ধুয়ে নিন।

২.ভেজা লুফাটি একটি মাইক্রোওয়েভপ্রুফ পাত্রে রেখে এক থেকে তিন মিনিট মাইক্রো মোডে ঘুরিয়ে নিন। যখন দেখবেন, লুফার গা থেকে ধোঁয়া বেরতে শুরু করেছে, তখন বের করে নেবেন।

৩.এবার কড়া রোদে লুফাটি আবার শুকিয়ে নিন।

৪.প্রতিবার স্নানের পরে লুফাটি ভাল করে শাওয়ারের জলে কিংবা কল খুলে সেই রানিং ওয়াটারে ধুয়ে নেবেন।

৫.বাথরুমে এক বোতল সাদা ভিনিগার রাখুন। সপ্তাহে একদিন লুফাটি এই ভিনিগার দিয়ে একবার ধুয়ে নেবেন। তারপর রোদে শুকিয়ে তবেই আবার ব্যবহার করবেন।








Leave a reply