হেলেঞ্চা শাকের যত পুষ্টিগুণ

|

বাংলাদেশের জমিতে এমনিতেই অনেক শাক আগাছা হিসাবেই জমিতে হয়ে থাকে। তারই মধ্যে অন্যতম একটি হেলেঞ্চা শাক, আমরা আলোচনা করবো হেলেঞ্চা শাক এর উপকারিতা ও গুণাগুণ নিয়ে।


হেলেঞ্চা শাক একটি জলজ উদ্ভিদ। পানিতে বা পানির কিনারায় বেয়ে বেড়ায়। প্রতিটি ডাঁটার গিরা node- থেকে দুটি করে পাতা বিপরীতমুখী হয়ে বের হয় পুরোনো লতার গিরা থেকে শিকড় অথবা নতুন কুঁড়ি বের হয়। পর্ব ডাঁটাগুলি সাধারণত ফাঁকা এবং লম্বা ৭.১১ সে.মি. পর্যন্ত হতে পাবে। হালকা সবুজ পাতাগুলি লম্বা ৭-৯ সে.মি. এবং চওড়া ১-২ সে.মি. হয়।
বিস্তার

বাংলাদেশে হেলেঞ্চা শাক সহজপ্রাপ্য। দেশের যত্রতত্র বিলে, ঝিলে ও পুকুরে জন্মে এবং পানির সন্নিকটস্থ কিনারায় হতে দেখা যায়, তবে লবনাক্ত পানিতে হয় না। শাকটি স্বাদে তিক্ত কষায়।

ঔষধি গুণ

হেলেঞ্চার এক নাম হল হিলমোচিকা। বৈদিক অভিধানে হিল অর্থ মোচন বা মুক্ত করে যে। হিলমোচিক দেহের মালিন্যকে দূর করে। অন্য কথায় সে জীবশোনিতের ঔজ্জ্বল্যনাশক দোষকে নষ্ট করে, তাই সে হিলমোচিকা।

১। অনেকের কোমরের নিচের অংশটা আড়ষ্ট, ব্যথা এবং কোনো কোনো সময় রাতের দিকে পায়ের পেশি খিঁচে ধরে; অথচ বাত নয়, এটি বিকৃত কফের ক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে হেলেঞ্চার রস ২ চামচ একটু গরম করে সকালের দিকে খেতে হবে।

২। গরমে ঘামাচি ও শীতকালে শীতকাঁটা হয়ে থাকলে হিঞ্চে শাক বেটে গায়ে মাখলে এ দুটি রোগ সেরে যায়।

৩। সাপে দংশন করলে হেলেঞ্চার রস খাওয়ানো হয়।

৪। অনেকের বর্ষা বা শরৎকালে হাত, পা এবং চোখও জ্বালা করে, এ ক্ষেত্রে হেলঞ্চা শাকের ২ চা চামচ রসের সাথে কাঁচা দুধ মিশিয়ে খেলে ঐ অসুবিধা দূর হবে।

৫। মুখে অরুচি, জিবে একটা স্তর পড়ে গেছে, এ ক্ষেত্রে এর শাকের ২ চামচ রস গরম করে কয়েকদিন খেলেই উপকার হবে।

৬। চর্ম রোগে হেলেঞ্চা উপকারী (Palerashi et al, 1970), তাই যাদের খোসপাঁচড়া হয়, সারতে চায় না এ ক্ষেত্রে হেলেঞ্চার রস ২ চা চামচ একটু গরম করে সকাল-বিকাল দুইবার কয়েকদিন খেলে চর্ম রোগ সেরে যায়।
৭। অনেকের নিজের শরীরটা নিজের মনে হয় না, নিজেকে ভারী মনে হয়। সেক্ষেত্রে উপর্যুক্ত নিয়মে রস খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৮। শিশুদের অপরিপাক দাস্ত (ভস্কা মল), এর সাথে উৎকট গন্ধ থাকলে হিঞ্চের রস ৩০ ফোঁটা গরম করে সকাল-বিকাল খাওয়ালে সেরে যাবে।








Leave a reply