হরমোনের কারণে ওজন বাড়লে কী করবেন? জানা আছে কি

|

শরীরের ওজন কিন্তু সব সময়ে খাওয়া দাওয়া, ঘুমের জন্য বাড়ে না। যদি হরমোনের সমস্যা থাকে তবে কম খেলেও ওজন বেড়ে যায়। আর বেশিরভাগ সময়েই আমরা বুঝি না কী করতে হবে। আজ জেনে নিন হরমোনের কারণে ওজন বাড়লে কী কী করতে পারেন।

করটিসল: শরীর এই হরমোনের লেভেলে ইমব্যালেন্স থাকলে দেহের পুরো সিস্টেম তা একাই ধ্বংস করতে পারে। যা অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি ও ফ্যাট সেল তৈরি করে এবং এগুলো শরীরের ওজন বাড়ায়।

যা করবেন: আপনাকে প্রতি রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। মানসিক চাপ কমাতে হবে। তাই মেডিটেশন করতে হবে। প্রসেসড ও প্রিজারভেটিভ খাবার এড়িয়ে চলুন।

থাইরয়েড: থাইরয়েডের অভাবে শরীরে ফ্যাট বাড়তে থাকে এবং দেহে পানি জমতে থাকে। ফলে হঠাৎ করেই কেজি ওজন বেড়ে যায়।

যা করবেন: থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে ডাক্তার দেখাবেন। আর ওষুধের সাহায্যে সবসময় হরমোন ব্যালান্সে রাখার চেষ্টা করবেন। আয়োডিন যুক্ত লবণ খাবেন এবং কাঁচা শাক সবজি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করবেন।

লেপটিন: অতিরিক্ত প্রসেসড খাবার, চিনি এবং চিনি যুক্ত খাবার আমাদের দেহে অতিরিক্ত লেপটিন তৈরি করে। এতে দেহের ‘লেপটিন সেনসিটিভিটি’ কমে যায়। এতে সে বোঝে না যে তার আর খাবারের দরকার নেই এবং সে অতিরিক্ত খাবার খেয়েই যায় । আর এরই ফল অতিরিক্ত ওজনের বাড়ে।

যা করবেন: দুই তিন ঘণ্টা পরপর স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খান। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি এবং মিষ্টি ফল পরিহার করুন। এবং প্রচুর পানি খান। বিস্কুট, চানাচুর, সাদা চিনি, কোল্ড ড্রিংক খাওয়া একেবারেই বন্ধ করুন।

মেলাটোনিন: ‘ঘুমের হরমোন’নামেই এর পরিচিতি বেশি। মেলাটোনিন-এর লেভেলে অসামাঞ্জস্য দেখা দিলে ইনফ্লেমেশন বাড়ে, দেহে অতিরিক্ত পানি জমে যায়, মেটাবলিসম স্লো হয়ে যায় এবং ফলাফলে ওজন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

যা করবেন: রাত ১০ টার পড়ে ঘরে কোন আলো জ্বালাবেন না, চোখের সামনে ফোন, পিসি, টিভি রাখবেন না। কাঠবাদাম, চেরি, সূর্যমুখীর বীজ, এলাচি এসব খাবার তালিকায় এসব রাখার চেষ্টা করুন।

ইসট্রোজেন: প্রধানত নারী প্রজনন হরমোন। ইসট্রোজেন লেভেল বেড়ে গেলে দেহে ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা কমে আসে। আর তখনি অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি শুরু হয়। ফলাফলে প্রজননে সমস্যাসহ আরও অনেক জটিল শারীরিক রোগ ব্যাধি দেখা দেয়।

যা করবেন: সাদা ময়দা, সাদা ভাত, সাদা চিনি এসব বাদ দিন। যতটা পারেন পরিষ্কার অরগানিক খাবার খান। প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করে দেহের হরমোন লেভেল ঠিক রাখুন। পোলট্রি, রেডমিট, ডেইরি একেবারেই বাদ দিন।

যেসব কারণে ওজন বাড়ে:

বছরে একজন মানুষের কম পক্ষে আধা থেকে এক কেজি করে ওজন বাড়ে। যদিও মনে হচ্ছে এই পরিমাণ খুবই কম কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে এটা সাড়ে চার থেকে ৯ কেজি বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যয়াম ওজন কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু অনেকের আবার এসব করা সত্ত্বেও ওজন বেড়ে যায়। এর কয়েকটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।

আজকের পৃথিবীতে সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। একারণে অনেকে খাবারটাও অতি দ্রুত খায়। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, তাড়াহুড়া করে খাবার খেলে ওজন বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা তাড়াহুড়া করে খায় তাদের মধ্যে মোটা হওয়ার প্রবণতা বেশি। দ্রুত খাবার খেলে পেট ভরে গেলেও মস্তিষ্ক শরীরকে সংকেত দিতে পারে না। একারণে ওজন কমাতে হলে খাবার ভালো করে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খেতে হবে।

পর্যাপ্ত পানি পান না করলে পিপাসা লাগে। আর পিপাসা পেলে বারবার খাবার খেতে ইচ্ছে হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালের নাস্তার আগে অন্তত দুই কাপ পানি পান করেন তারা অন্যদের চাইতে কমপক্ষে ২২ শতাংশ পরিমাণ কম ক্যালরির খাবার খান। পানিতে কোনো ক্যালরি থাকে না। যদি খালি পেটে খালি পানি পান করতে কষ্ট হয় তাহলে পানির সঙ্গে শসা, লেবু অথবা অন্য কোনো ফল যোগ করতে পারেন।

বেশি বেশি সামাজিক হওয়াটাও বিপদজনক। কারণ বেশি সামাজিক হলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে হয়। আর সেইসব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের ওজনসমৃদ্ধ খাবার, অ্যালকোহল থাকে। এসব নিয়মিত খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

একটানা অনেকক্ষণ বসে থাকলেও ওজন বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন তাদের মধ্যে মোটা হওবার প্রবণতা বাড়ে। সেই সঙ্গে নানা ধরনের অসংক্রামক রোগের সম্ভাবনা এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ঘুম পর্যাপ্ত না হলেও ওজন বাড়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা গড়ে ৫ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের মধ্যে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।যারা বিশ্রাম নেওয়ার একদম সময় পান না তারাও মোটা হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।

টেলিভিশন দেখতে দেখতে, ইন্টারনেট ব্রাউজিং করতে করতে কিংবা নিউজপেপার পড়তে পড়তে অনেকে খাবার খান। মনোযোগ দিয়ে খাবার না খেলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে মোটা হোয়ার আশঙ্কাও থাকে।

প্রোটিন, ফাইবারযুক্ত খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে না খেলেও ওজন বাড়ে।

অনেকে আছেন দুই, তিনতলা উঠতেও সিড়ির পরিবর্তে লিফট ব্যবহার করেন। এ ধরনের প্রবণতা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।

বেশিমাত্রায় ফাস্টফুড খেলে ওজন বাড়ে। আবার বেশি পরিমাণে দুধ দিয়ে তৈরি কফিও ওজন বাড়ায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে , যারা অনিয়মিতভাবে খাবার খায় তাদের মধ্যে মোটা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনিয়মিত সময়ে খাবার খেলে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। এজন্য প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া উচিত।

ওজন কমানোর ১০টি কার্যকর টিপস:

ওজন কমিয়ে বন্ধু-বান্ধব আর আত্মীয়দের তাক লাগিয়ে দেবেন? তা হলে মেনে চলুন এই টিপসগুলো, ওজন বেশ খানিকটা কমতে বাধ্য৷ তবে এ কথাও ঠিক যে, যদি একজন ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে কথা বলে রীতিমতো প্ল্যান করে এগোন, তা হলে সবচেয়ে ভালো ফল মিলবে৷

নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর খাবার খান: ওজন কমাতে গিয়ে যাঁরা গোড়াতেই সিদ্ধান্ত নেন যে খাওয়া কমাতে হবে এবং উপোস করতে আরম্ভ করেন, তাঁরাই সবচেয়ে বড়ো ভুলটা করেন এবং সাধারণত তাঁদের ওজন মোটেই কমে না৷ সামান্য কমলেও কিছুদিন পরেই আবার ফিরে আসে৷ ফলে হতোদ্যম হয়ে তাঁরা নিয়ম মেনে চলাই বন্ধ করে দেন৷ মেটাবলিজ়মের হার বাড়ানোর সবচেয়ে ভালো রাস্তা হচ্ছে প্রতি দু’ ঘণ্টা অন্তর কিছু খাওয়া৷ খিদে পাওয়ার আগেই খাচ্ছেন বলে অতিরিক্ত খাবার শরীরই নিতে পারবে না৷

পানি খাওয়ার পরিমাণ ও সময় নির্দিষ্ট করুন: প্রতি দু’ ঘণ্টা অন্তর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পানি খাওয়ারও একটা রুটিন থাকা উচিত৷ খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জল খাবেন না৷ অন্তত আধ ঘণ্টা আগে বা পরে পানি খান৷ আপনার ওজন ৬০ কেজি হলে দিনে অন্ততপক্ষে সাড়ে চার লিটার পানি খেতে হবে৷ যাঁরা খুব বেশি ঘামেন, তাঁদের আরও একটু বেশি পানি খাওয়া প্রয়োজন৷

সুষম খাদ্যতালিকা মেনে চলুন: বাঙালিদের সনাতন খাদ্যতালিকায় যা যা থাকে, তার প্রতিটিই আমাদের শরীরের কোনও না কোনও প্রয়োজনে লাগে৷ পৃথিবীর প্রতিটি ভৌগোলিক অঞ্চলের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেই কথাটা একইরকম সত্যি৷ ভাত বাদ দিয়ে কিনওয়া বা ওটস খেতে আরম্ভ করলে শরীর প্রাথমিক একটা ধাক্কা খাবে, তার ফলে খানিক ওজন কমবে ঠিকই, কিন্তু এই ডায়েটে সারা জীবন চালানো কঠিন৷ তার চেয়ে রোজের খাবারই খান, কিন্তু স্বাস্থ্যকর অপশনগুলি বাছুন৷ মাছের কালিয়া মাসে একবার চলতে পারে, রোজের জন্য সবজি দিয়ে হালকা ঝোল রাঁধুন৷

বাড়িতে কী রান্না হচ্ছে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন: নিজের রান্না নিজে করতে পারলে সবচেয়ে ভালো, কিন্তু সেটা তো সব সময়ে সম্ভব হয় না, তাই কী রান্না হবে সে সিদ্ধান্তটা অন্তত নিন৷ বাজার থেকে তাজা শাক-সবজি-ফল কিনে আনুন, সেটা ভালো করে ধুয়ে নিন৷ পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের জলে স্যালাডের আনাজপত্র ভিজিয়ে রেখে ধোওয়া ভালো৷ খুব বেশি তেলমশলা যেন না থাকে রান্নায়, সেটাও দেখতে হবে৷

সকালের নাস্তা বাদ দেবেন না কখনওই: সকালের নাস্তা খান পেট ভরে, দুপুরে নিয়ন্ত্রিত মধ্যাহ্নভোজ, আর রাতে সামান্য ডিনার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়৷ মাঝে খিদে পেলে খাওয়ার জন্য ফল, ছোলা সেদ্ধ, ডিম সেদ্ধ, বাদাম রাখুন হাতের কাছে৷

ভাজাভুজি বাদ দিন খাদ্যতালিকা থেকে: বাড়িতেই হোক বা বাড়ির বাইরে, ভাজাভুজি থেকে দূরে থাকতে হবে৷ প্যাকেটজাত চিপস, চানাচুর, ঝুরিভাজা যেমন চলবে না, তেমনই লুচি-পরোটা-ব্রেড পকোড়াও নিষিদ্ধ৷ কারও জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এক টুকরো কেক খেলে সমস্যা নেই, কিন্তু তা ছাড়া কেক-পেস্ট্রি থেকে দূরে থাকুন৷ মাঝে-মধ্যে এক আধদিন এক টুকরো মিষ্টি চলতে পারে, তা রোজ খাবেন না৷

কোনও না কোনও শারীরিক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকুন: যাঁরা আলাদা করে ব্যায়াম করার সময় পান না, তাঁরা বাড়িতেই রোজ এমন কোনও কাজ করুন যাতে কিছু ক্যালোরি খরচ হয়৷ ঘর মোছা-ঝাঁট দেওয়া, ডাস্টিং করা, বাজার করা, সবজি কাটা, মশলা বাটা, রান্না করাও যথেষ্ট পরিশ্রমসাধ্য কাজ৷ বাড়ি বা অফিস পর্যন্ত অ্যাপ ক্যাব না ডেকে হেঁটে বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত যান৷ কথায় কথায় অটো বা রিকশা চড়বেন না৷ এর বাইরে দিনে অন্তত আধ ঘণ্টা হাঁটতে পারলে তো কথাই নেই!

রাতারাতি ফলের আশা করবেন না: যে ওজনটা পাঁচ বছর ধরে একটু একটু করে বেড়েছে, সেটা রাতারাতি কমে যাবে, এমন আশা করবেন না৷ তুরন্ত ফল না পেলে মুষড়ে পড়ারও কারণ নেই৷ শরীরকে সময় দিন৷

দিনে আট ঘণ্টা ঘুম আবশ্যক: তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়া আর তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস রাখলে দেখবেন, দিনটাও অনেক লম্বা লাগছে এবং অনেক বেশি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন৷

খাবার ধীরে-সুস্থে চিবিয়ে খান: খাবার খাওয়ার সময় মোটেই তাড়াহুড়ো করবেন না, একেবারে ধীর গতিতে চিবিয়ে খান৷ তাতে হজম ভালো হয়, পেট পরিষ্কার থাকে৷

ওজন কমানোর সঠিক নিয়ম:

আধুনিক ও যান্ত্রিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে আমাদের শরীরের ওজন। আর এ থেকে মুক্তি পেতে কেউ ছুটছেন জিমে আবার কেউ বা করছেন ডায়েটিং। অনেকে ওজন বেড়ে গেলে বা ওজন বাড়ার ভয়ে হঠাৎ করে ডায়েটিং শুরু করেন। এক্ষেত্রে অবশ্য মেয়েরা অনেকখানি এগিয়ে। কিন্তু কোন কিছু না ভেবে ডায়েটিশিয়ান বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ ব্যতিত অথবা না বুঝে ডায়েট শুরু করলে কিংবা একেবারেই খাবার কমিয়ে দিলে ওজন তো কমেই না বরং শরীরে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টির অভাব দেখা দেয় যা সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার প্রধান অন্তরায়।

আমরা কেন মোটা হই বা আমাদের কেন ওজন বাড়ে, তা জানেন কি? আমাদের ওজন বাড়ার সাথে দেহের ক্যালোরির অনেক বড় সংযোগ রয়েছে। আমরা প্রতিদিন যতটা ক্যালরি গ্রহণ করি তা যদি দেহে শুধুই জমা হতে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা মোটা হবো। অর্থাৎ দেহের ওজনটা ঠিক রাখতে ক্যালরি ক্ষয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু ক্যালরি ক্ষয় নিয়েই সব ঝামেলা।

এক কথায় আমাদের তখনই ওজন বাড়ে যখন আমরা আমাদের প্রতিদিনের কাজে এবং ব্যায়ামে ব্যবহৃত ক্যালরির চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করি। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই কম খাওয়া এবং বেশি কাজ করা উচিত। স্বাস্থ্যকর উপায়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে স্থায়ীভাবে আপনার খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামে পরিবর্তন আনা। কিছু ছোট পরিবর্তন যেমন কম খাওয়া এবং ফ্যাট, চিনি ও অ্যালকোহল যুক্ত পানীয় পান থেকে বিরত থাকলে তা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। অনেকেই মোটা হবার ভয়ে একেবারেই খাবার কমিয়ে দেন। খাওয়া কমিয়ে দিলে ওজন কমে ঠিকই কিন্তু শরীরে দেখা দেয় নানা ধরনের সমস্যা। তাই নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ করা উচিৎ এবং এমন খাদ্য নির্বাচন করা জরুরি যা খেলে ওজন বৃদ্ধি হবে না কিন্তু শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকই পাবে।

এখানে স্বাস্থ্যকরভাবে খাবার খাওয়া এবং ওজন কমানোর সহজ উপায় বর্ণিত হল :

আপনার খাবারে ফ্যাটের পরিমাণ কমানোর জন্য আপনি মাংসের বাড়তি চর্বি কেটে ফেলতে পারেন। ফুল ক্রিম দুধের পরিবর্তে সর ছাড়া দুধ পান করতে পারেন, মিষ্টি দই এর পরিবর্তে টক দই ব্যবহার করতে পারেন। বাইরের তৈরি অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন করতে পারেন। শস্য দ্বারা তৈরি খাবার খান, যেমন- লাল আটার রুটি, বাদামী চাল এবং পাস্তা এগুলো অন্যান্য খাবারের চেয়ে ধীরে ধীরে হজম হয় ফলে দীর্ঘ সময় ধরে আপনার পেট ভর্তি থাকে।

ডায়েটিং করে সকালের নাস্তা বাদ দেয়া যাবে না। অবশ্যই সকালের নাস্তা করবেন। একটি স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা আপনাকে দিন শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগাবে। কিছু গবেষণায় দেখা যায়, যেসব মানুষ নিয়মিত সকালের নাস্তা খায় তারা সাধারণত বেশি ওজনের অধিকারী হন না।

বিকেলে যদি আপনার কোন নাস্তা খেতে ইচ্ছা করে, তবে প্রথমে একটি পানীয় পান করুন, যেমন- এক গ্লাস পানি বা এককাপ চিনি ছাড়া চা। প্রায়ই যখন আমরা নিজেদের ক্ষুদার্থ মনে করি, আসলে তখন আমরা তৃষ্ণার্থ থাকি। উচ্চ ক্যালরির পরিবর্তে স্বল্প-ক্যালরির পানীয় নির্বাচন করুন অর্থাৎ যেসব পানীয়তে কম মাত্রায় ফ্যাট, চিনি এবং অ্যালকোহল থাকে সেগুলো পান করুন। চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের পরিবর্তে স্বচ্ছ ও এক টুকরো লেবুসহ পানীয় বাছাই করতে পারেন। মাংসের চর্বি, মুরগির চামড়া বর্জ্য ভেবে ফেলে দিন। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় জমাট থাকে এমন চর্বি যেমন ঘি, মাখন ও মার্জারিনকে খাদ্য তালিকা থেকে দূরে রাখুন।

আমিষের দৈনিক চাহিদা মেটাতে একটা ডিম, বীজ বাদাম, ডাল ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় স্থান দিন। মূল খাবার গ্রহণের মাঝের সময়ের ফাঁকটুকু পূরণ করুন ফলমূল বা কম ক্যালরির নাশতা যেমন মুড়ি বা সবজি সুপ, শশা, গাজর, দেশি ফল ইত্যাদি দিয়ে।
মোটা হওয়ার ভয়ে কখনো এক বেলার খাবার বাদ দেয়া উচিত নয়; বরং সারাদিনে ৩ বেলার খাবারের পরিবর্তে ৫ বেলা খাবার গ্রহণ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাবার খেলে শরীরে কর্ম শক্তির অভাব পরিলক্ষিত হয় না।

দ্রুত ওজন কমানোর জন্য ক্রাশ ডায়েটে না যাওয়াটাই উত্তম। এতে অল্প সময়ে ওজন কমলেও শরীরে মেদ জমতে দেরিও লাগে না। তাই সঠিক নিয়ম মেনে ডায়েট করুন। এতে প্রথম দিকে ওজন যদি না কমে তবে হতাশ হবেন না। ধৈর্য ধরে ডায়েট চার্ট মেনে চলুন।

মনে রাখবেন ওজন নিয়ন্ত্রনের জন্য শুধু খাবার কমালেই হবে না এর জন্য ব্যায়াম ও প্রয়োজন। নিয়মিত ব্যায়াম শুধু আপনার ওজনই কমাবে না, তা আপনার মারাত্মক রোগ যেমন-উচ্চ রক্ত চাপ, হৃদ রোগ ইত্যাদি হওয়ার ঝুঁকিও কমাতে পারে।

সকালে হাঁটার ফলে বিশুদ্ধ বাতাস ও সুন্দর পরিবেশ আপনার হৃৎপি- ও মনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। হাঁটার সময় হৃৎপি- শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করে। ফলে প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ ও সচল থাকে এবং মানুষ দীর্ঘজীবী হয়।
আপনি কতটুকু ব্যায়াম করবেন তা আপনার লিঙ্গ, বয়সের উপর এবং কাজের ধরনের উপর নির্ভর করবে। হাঁটা হলো সব ধরনের ব্যায়ামের মধ্যে সবচেয়ে উপকারী। প্রতিদিন সকালে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট টানা হাঁটার অভ্যাস করুন কারণ প্রতিদিন সকালে মাত্র ২০-৩০ মিনিটের এই হাঁটা সারা দিন ভালো থাকতে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রোগবালাই থাকুক আর না থাকুক, রসনা তৃপ্তির সময় খাবার খানিকটা বাছাই করা উচিত। কিন্তু খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বা ডায়েটিংয়ের কথা বলা হলে অনেকে ভাবেন সব খাবার বন্ধ হয়ে গেল বুঝি।। সত্যিকার অর্থে ব্যাপারটা তা নয়। দৈনিক, ভাত, ডাল, মাছ, মুরগি, সব ধরনের সবজি পরিমিত পরিমাণে খেয়ে এবং রসনার তৃপ্তি করেও শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ডায়েট করার আগে জেনে নিন ডায়েট আসলে কী? কার জন্য কোন ডায়েট প্রযোজ্য, কত ধরনের ডায়েট হয়, কোন ডায়েটের কী উপযোগিতা, ডায়েটের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না ইত্যাদি বিষয়। প্রযোজনে পরামর্শ নিন একজন অভিজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানের। কারণ আপনার শরীরের চাহিদা অনুযায়ী, আপনার বেছে নেয়া ডায়েট উপযোগী কি না তা একজন ডায়েটিশিয়ান বা পুষ্টিবিদ ভাল বলতে পারবেন।








Leave a reply