স্বাদে অনন্য আতাফলের যত গুণ

|

স্বাদে অনন্য আতাফলের গুণের শেষ নেই। এটি একটি সুপরিচিত এবং সুস্বাদু ফল। বাইরে শক্ত আবরণ থাকলেও আতাফলের ভিতরের শাস খুবই নরম আর রসালো। আতা অ্যানোনেসি পরিবারভুক্ত এক ধরনের যৌগিক ফল। এই ফলটিকে বাংলায় ‘আতা’, ‘শরিফা’, ‘নোনা’- এই তিনটি নামে ডাকা হয়। তবে অঞ্চলভেদে নামের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রতি ১০০ গ্রাম আহার উপযোগী আতাফলে রয়েছে- শর্করা ২৫ গ্রাম, পানি ৭২ গ্রাম, প্রোটিন ১.৭ গ্রাম, ভিটামিন এ ৩৩ আইইউ, ভিটামিন সি ১৯২ মিলিগ্রাম, থিয়ামিন ০.১ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাবিন ০.১ মিলিগ্রাম, নিয়াসিয়ান ০.৫ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড ০.১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৭ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২১ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৩৮২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৪ মিলিগ্রাম।

গবেষকদের মতে, শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আতাফল। এই ফলটি সহজে পেট ভরাতেও দারুণ সাহায্য করে থাকে।চলুন জেনে নিই সাধারণ আতাফলের অসাধারণ ওষুধি গুণ-

হজমশক্তি বৃদ্ধি করেঃ উচ্চ পরিমাণে কপার ও ফাইবার থাকায় আতাফল হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। এর খাদ্যআঁশ হজমশক্তি বৃদ্ধি করে ও পেটের সমস্যা দূর করে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়ঃ আতাফলে রয়েছে রিবোফ্লাভিন ও ভিটামিন-সি। এই ভিটামিন উপস্থিতির কারণে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে। ফলে যাদের চোখের সমস্যা তারা আতা ফল খেতে পারেন।

হাড় মজবুত করতেঃ আতাফলে প্রচুর ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। আর শরীরের হাড় গঠন ও মজবুত রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম সরবরাহ করতে সক্ষম এই ফলটি।

চুল ও ত্বকের যত্নেঃ আতাফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা একটি উন্নতমানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফ্রি রেডিক্যাল নিয়ন্ত্রণে রক্ষা করে। এছাড়া ত্বকে বার্ধক্য বিলম্বিত করে। এতে উপস্থিত ভিটামিন এ চোখ, চুল ও ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।

অপুষ্টিজনিত দুর্বলতা দূর হয়ঃ শিশু, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ যে কোনো বয়সেরই হোক, পাকা আতাফলের ২/৩ চা-চামচ রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে ধীরে ধীরে পুষ্টি সঞ্চার হয় এবং দুর্বলতা দূর হয়। অপুষ্টিজনিত দুর্বলতায় আতাফলের রস অনেক উপকারী।

খনিজ পদার্থসমূহ সরবরাহ করেঃ আতাফল শরীরের ডিএনএ ও আরএনএ সংশ্লেষণ, শক্তি উৎপাদনের জন্য ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-সি ও খনিজ পদার্থসমূহ সরবরাহ করে থাকে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের ভালো উৎস হওয়ায় আতাফল উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। যাদের রক্তচাপ ওঠানামা করে তারা নিয়ন্ত্রণে আনতে নিয়মিত আতাফল খেতে পারেন।

হৃৎপিণ্ডের রোগ প্রতিরোধেঃ আতাফলের ম্যাগনেসিয়াম মাংসপেশির জড়তা দূর করে এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।








Leave a reply