সাতদিনের মধ্যেই চুল ঝরা বন্ধ করতে চান? পরখ করে দেখুন তেজপাতা!

|

যে কোনও রান্নাঘরের তাকে অবধারিতভাবেই পাওয়া যাবে তাকে। আমিষ-নিরামিষ, যে কোনও রান্নার স্বাদ আর গন্ধ বাড়াতে চিরকালই বাঙালি রান্নাঘরে খুঁজে পাওয়া যাবে এই পাতাটিকে। হ্যাঁ, তেজপাতার কথাই বলছি। তেজ পাতা রান্নায় ব্যবহৃত একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। সেটা নিরামিষ রান্না হোক বা আমিষ, সব রান্নাতেই এটি আনে অসাধারণ স্বাদ এবং গন্ধ। পায়েস রান্নাতেও তেজপাতা ব্যবহার করা হয় আবার মাংস রান্নাতেও তেজপাতার ব্যবহার হয়। তেজপাতার নিজস্ব এক গন্ধ আছে, যা রান্নায় মিশে এক আলাদাই স্বাদ এনে দেয়।

তেজপাতার গুনের জন্য বিদেশেও এর খ্যাতি রয়েছে। এতদিন শুধু রান্নার স্বাদ বাড়াতে তেজপাতার কদর জানতেন। তেজপাতা গাছ মূলত ভারত, চিন, নেপাল ও ভুটানে পাওয়া যায়। কিন্তু আপনারা হয়তো জানেন না যে রান্নায় ব্যবহার ছাড়াও এর আরও অনেক গুন আছে। সেটা হল তেজপাতা পোড়ানো। তেজপাতা পুড়িয়ে তার গন্ধ নাকে নিলে তা শরীরের জন্য খুব উপকারী। ফলে শরীরে কোন রোগ সহজে আক্রমণ করতে পারেনা।

চুলের যত্নেও তার জরুরি ভূমিকা রয়েছে। জানতেন? যাঁরা চুল ওঠার সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা একবার তেজপাতার নির্যাস ব্যবহার করে দেখুন। মাত্র সাতদিন ব্যবহার করলেই চোখে পড়ার মতো ফল পাবেন! শুধু চুল ওঠা বন্ধেই নয়, খুশকি আর চুলের রুক্ষতা কমাতেও দারুণ কার্যকর তেজপাতা। জেনে নিন, কীভাবে নিয়মিত তেজপাতা ব্যবহার করে সহজেই নির্মূল করতে পারবেন আপনার চুলের যাবতীয় সমস্যা!

চুল ওঠা বন্ধ করতেঃ তেজপাতার নির্যাস ব্যবহার করলে মাত্র পনেরো দিনের মধ্যে চুল ওঠা চোখে পড়ার মতো কমে যাবে। তার জন্য গোটা দশেক ভালো তেজপাতা জলে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এবার একটা পাত্রে এক লিটার জল গরম করুন। জল ফুটে গেলে তাতে তেজপাতাগুলো দিয়ে দিতে হবে। তেজপাতা সমেত জলটা পাঁচ থেকে ছ’ মিনিট ফুটতে দিন। তারপর আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে তেজপাতা তুলে ফেলে দিন। এই তেজপাতা ফোটানো জলটা দিয়ে চুল আর মাথা ধুয়ে নিন। প্রতিদিন ব্যবহার করা যাবে।

খুশকি তাড়াতেঃ চারটে ভালো তেজপাতা গ্রাইন্ডারে বা শিলনোড়া দিয়ে গুঁড়ো করুন। আধকাপ নারকেল তেলে ওই পাতার গুঁড়োটা ঢেলে দিন। নারকেল তেলের বদলে অলিভ অয়েলও নিতে পারেন। পাতার গুঁড়ো মেশানো তেলটা মিনিট পাঁচেক হালকা আঁচে গরম করে নিন। তারপর এই গরম তেলে তুলো ভিজিয়ে চুলের গোড়ায় গোড়ায় আর চুলে মেখে খুব ভালো করে মাসাজ করুন। এক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিন। কন্ডিশনার মাখতেও ভুলবেন না। সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করলে ধারেপাশেও আর ঘেঁষবে না খুশকি। সারা বছর খুশকির সমস্যায় জেরবার থাকেন অনেকেই। শীত আসতে চলেছে। তার মধ্যে উৎসবের মরসুম। খুশকি নিয়ে বিব্রত হতে কেই বা চায়! চুল আঁচড়ানোর সময়ে চিরুনি তো বটেই, খুশকির হাত থেকে রেহাই পায় না জামাকাপড় বা বালিশও। দেখতে খারাপ লাগার পাশাপাশি খুশকির জেরে ব্যাহত হয় চুলের স্বাস্থ্যও।

রুক্ষ চুলের যত্নেঃ দু’কাপ জলে চার-পাঁচটা তেজপাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। ফুটে গেলে তেজপাতা ফেলে দিয়ে জলটা ছেঁকে নিন। শ্যাম্পু করা চুলে এই জলটা ঢেলে মিনিট পাঁচেক অপেক্ষা করুন, তারপর পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে একদিন করলে চুলের রুক্ষতা অনেক কমে যাবে, চুল ওঠাও কমবে। বাজার চলতি শ্যাম্পুতে খুশকি হয়তো দূর হবে, কিন্তু আপনার চুলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শ্যাম্পুর বদলে ব্যবহার করুন কিছু সহজলভ্য জিনিস। চুলও ভালো থাকবে।








Leave a reply