শীতে মৌসুমি জ্বর, লক্ষণ ও উপশম

|

প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা এসে গেছে। দিনে কিছুটা গরম লাগলেও রাতের দিকে বেশ শীত। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই গরম ঠাণ্ডার মধ্যে অনেকের মৌসুমি জ্বরের প্রকোপ দেখা দেয়। এই জ্বর ভাইরাস দ্বারা দ্রুত একজনের মাধ্যমে আরেকজনে সংক্রমিত হয়। তবে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে এমন ভাইরাল জ্বরের প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ভাইরাস জীবাণুর সংক্রমনের ফলে এই সর্দি-জ্বর সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ওষুধ ও পুষ্টিকর খাবার খেলে এই জ্বর দ্রুত ভালো হয়ে যায়।
মৌসুমি ভাইরাল জ্বরের লক্ষণ

১. হঠাৎ জ্বর আসে এবং সাত দিন ধরে চলতে থাকে। ১০২-১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর হয়।

২. শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এই জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা থাকে। গায়ে, হাত, পায়ে তথা শরীরের পেশিতে অসহ্য ব্যথা করে।

৩. বেশিরভাগ সময় শরীরে জ্বরের সঙ্গে সর্দি-কাশি থাকে। প্রকৃতির হাওয়া বদলে নাক বন্ধ থাকে; নাক দিয়ে পানি পড়ে।

৪. মুখের স্বাদ নষ্ট হয়ে খিদে কমে যায় ও বমি বমি ভাব থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে মুখ লাল হয়ে যায়।

চিকিৎসা
জ্বর কখনই বাড়তে দেয়া যাবে না। জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো শরীর নরম কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে মুছে ফেলতে হবে। জ্বর-শরীর ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শে জ্বর ও ব্যথা কমার ওষুধ খেতে হবে। এ জন্য বাসায় প্যারাসিটামি ট্যাবলেট রেখে দিতে পারেন। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। নাক বন্ধ থাকলে নাকের ড্রপ ব্যবহার করতে হবে।

দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক রাখতে হবে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় পুষ্টিকর খাবার, সে জন্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। শীতের এই সময়ে আদা-লেবুর সংমিশ্রণে রঙ চা খেতে পারেন।

অসুস্থ ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। শীতকালে অনেকেরই পানির পিপাসা সেভাবে অনুভূত হয় না। আর এ কারণে পানি পানের পরিমাণও কমে যায়। যদিও রোগ প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুস্থ থাকার জন্য শীতকালে পিপাসা না লাগলেও পর্যাপ্ত পানি পান করুন। বাহিরের খাবার খাওয়া থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকতে হবে।








Leave a reply