যেসব অভ্যাস আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে

|

আপনার দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাস আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ এর উপর নির্ভর করবে জীবাণু, ভাইরাস এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার বিরুদ্ধে আপনার দেহের নিজেকে রক্ষা করার ক্ষমতা। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অভ্যাসগুলি বদলে নিতে পারলে আপনার দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও কর্মক্ষম হয়ে উঠবে এবং আপনাকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করবে।চলুন জেনে নিন, আপনার কোন অভ্যাসগুলি পরিবর্তন করা জরুরি-

পর্যাপ্ত ঘুমানোর অভ্যাস করুনঃ খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন যখন পর্যাপ্ত ঘুমাচ্ছেন না, তখন আপনার ঠাণ্ডা বা অন্যান্য সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার মাত্রা বেড়ে যায়।পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আমাদের দেহের স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যেতে পারে। এটি আপনার শরীরকে আরও দুর্বল করে তুলবে।যদিও ঘুম ঠিক কিভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় গবেষকরা সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন। তবে এটি নিশ্চিত যে সুস্বাস্থ্যের জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের দৈনিক ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো উচিৎ।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুনঃ প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিটের হাঁটার মতো পরিমিত শরীরচর্চা করার চেষ্টা করুন। এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করবে।আপনি যদি নিয়মিত শরীরচর্চা না করেন, তাহলে যিনি নিয়মিত তা করেন তার চেয়ে আপনার সর্দি জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। নিয়মিত শরীরচর্চা আপনার দেহের জন্য ভালো রাসায়নিক সমূহ বৃদ্ধি করে এবং আপনাকে আরও ভালো ঘুমাতে সহায়তা করে। যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য ভালো।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুনঃ অত্যধিক চিনি খেলে বা পান করলে দেহের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী কোষগুলো হ্রাস পায়। ফলে ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পরে। তাই চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।প্রচুর পরিমাণে ফল ও সবজি খান, যেগুলি ভিটামিন-সি, ই, বিটা ক্যারোটিন এবং দস্তাযুক্ত। স্ট্রবেরি, সাইট্রাস ফল, কিউই, আপেল, লাল আঙ্গুর, কলা, পেঁয়াজ, শাক, মিষ্টি আলু, গাজর সহ বিভিন্ন ধরণের উজ্জ্বল রঙের ফল এবং শাকসবজি নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।এছাড়াও আপনার ইমিউন সিস্টেমের জন্য উপকারী খাবারের মধ্যে তাজা রসুন উল্লেখযোগ্য, যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে।

সবসময় চাপমুক্ত থাকুনঃ প্রত্যেকের জীবনেই কিছুটা চাপ থাকে; এটা জীবনের অঙ্গ। দীর্ঘদিন ধরে যদি টানা মানসিক চাপে ভুগতে থাকেন, তবে এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলতে পারে। ফলে সর্দি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়।দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস আপনার শরীরে স্ট্রেস হরমোন স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি করে, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। আপনি হয়তো সম্পূর্ণরূপে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম নাও হতে পারেন। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়ে উঠবে।গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ব্যক্তি নিয়মিত ধ্যান করেন তাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত।

সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলুনঃ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। যেসব লোক বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যারা একা বোধ করেন তাদের তুলনায় ওইসব লোকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশ শক্তিশালী।একটি গবেষণায় দেখা গেছে, একাকী লোকদের দেহে ফ্লু ভ্যাকসিনের কার্যকরিতাও কমে যায়।

প্রাণ খুলে হাসুনঃ হাসি আপনার পক্ষে ভালো। এটি আপনার দেহের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা হ্রাস করে এবং শ্বেত রক্তকণিকা বাড়িয়ে তোলে। শ্বেত রক্তকণিকা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে।একটি সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী লোকদের ৩ দিন আগে বলা হয়েছিল যে তারা একটি মজার ভিডিও দেখতে যাচ্ছেন। তাদের দেহে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা হ্রাস পেয়েছিল।








Leave a reply