মাথাব্যথার কারণ হতে পারে যেসব খাবার

|

ঘুমের অভাব, উচ্চ শব্দ ও মানসিক চাপ ছাড়াও খাদ্যাভ্যাসের কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে।

খাদ্য ও পুষ্টি-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে মাথাব্যথা সৃষ্টি করে এমন কয়েকটি খাবার সম্পর্কে জানানো হল।

অ্যালকোহল: অ্যালকোহল সমৃদ্ধ পানীয়তে সালফেট ব্যবহার করা হয় যা মাথাব্যথা হওয়ার অন্যতম কারণ। তাছাড়া পানীয়তে সালফেট না থাকলেও অ্যালকোহল সেবন শরীরে পানি শূন্যতা সৃষ্টি করে। ফলে মাথাব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সোডা বা কোলা: কৃত্রিম শর্করা মাথাব্যথা, দুর্বলতা এমনকি স্মৃতি হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই অনেকেরই সোডা বা কোলা ধরনের পানীয় পানের পরে মাথাব্যথার সমস্যা দেখা দেয়।

কিয়র্ড মিট: অর্থাৎ লবণ দিয়ে শুকানো মাংস। যেমন- সসেজ বা বেকন। বেশিদিন সংরক্ষণ করা জন্য এই ধরনের মাংস-জাতীয় খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নাইট্রেইট ব্যবহার করে। যা রক্তের সঙ্গে মিশে মাথাব্যথা তৈরি করতে পারে। আর বেশি লবণ থাকার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। সেটার ফলেও মাথাব্যথা হতে পারে।

সয়া সস: উচ্চ সোডিয়াম সমৃদ্ধ যা পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে। আর শরীরে সামান্যতম পানি শূন্যতাও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

কলা: স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও এটা অনেক সময় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

পনির: পুরানো পনিরে টায়রামিন থাকে যা রক্তনালী সংকুচিত ও প্রসারিত করে। যা থেকে মাথাব্যথা হতে পারে।

চুইংগাম: বেশিক্ষণ চাবানোর অভ্যাসের কারণে অনেক ক্ষেত্রে ঘন ঘন মাথা ব্যথা হতে পারে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, মাথা বা ঘাড়ের পেশির সংকোচনের ফলে মাথাব্যথা হয়ে থাকে।

উপরের খাবারগুলো চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রচলিত ধারণার প্রেক্ষিতে আন্দাজ করে নেওয়া হয় যে, এসব থেকে মাথাব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে ঘন ঘন মাথাব্যথায় আক্রান্ত হলে অবশ্যেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মাথাব্যথা (ইংরেজি: Headache) খুবই সাধারণত একটি সমস্যা।প্রত্যেক মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। মাথাব্যথা আসলে কোনো রোগ নয় বরং একটি উপসর্গ মাত্র। মাথাব্যথার অনেক রকমভেদ আছে যেমন মাইগ্রেন, টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা, ক্লাস্টার মাথাব্যথা ইত্যাদি।[১] ঘনঘন মাথাব্যথা প্রাত্যহিক পারিবারিক ও কর্মজীবনকে বিষাদময় করে তুলতে পারে।[১] এছাড়া তীব্র মাথাব্যথা ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়।[১]

মাথাব্যথার অনেক কারণ থাকতে পারে। মাথাব্যথার খুব সাধারণ কারণগুলো হলো ক্লান্তি, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, ঔষধের প্রতিক্রিয়া, সর্দি, সাইনুসাইটিস, মাথায় আঘাত, দাঁতের রোগ, খুবই ঠাণ্ডা পানীয় বা খাবার খুব দ্রুত খেয়ে ফেলা ইত্যাদি। রোগ নির্ণয়ের সুবিধার্থে মাথাব্যথাকে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি এই ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। মাইগ্রেন, টেনশন মাথাব্যথা ইত্যাদি প্রাইমারি ক্যাটাগরিতে পড়ে অপরদিকে মাথায় আঘাত বা টিউমার, ইনফেকশন ইত্যাদি সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে পড়ে।

মাথাব্যথার চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণের উপর তবে সবক্ষেত্রেই ব্যথানাশক ঔষধের ব্যবহার করা হয়।

জরিপে দেখা গেছে কোনো একটি নির্দিষ্ট বছরে প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক লোকই মাথাব্যথায়য় ভুগে থাকে।[১] এর মধ্যে টেনশন-টাইপ মাথাব্যথার রোগী সবচেয়ে বেশি প্রায় ১.৬ বিলিয়ন যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১.৮%। এরপরেই মাইগ্রেনের অবস্থান। প্রায় ৮৪৮ মিলিয়ন (১১.৭%) ব্যক্তি মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগেন।








Leave a reply