মাংসের চেয়ে শিমের বিচিতে আমিষ বেশি জানেন কি?

|

ভাত-রুটির পাশাপাশি শিমের বিচি পৃথিবীজুড়ে মানুষের অন্যতম প্রিয় খাবার। আমাদের দেশে শীতে শিম পরিপক্ব হলে শিমের বিচি বাজারে ওঠে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন শিমের বিচিকে ‘খাইস্যা’ বলে। শোল, মাগুর জিওল মাছ ও বেগুন দিয়ে রান্না করা খাইস্যার তরকারি অপূর্ব।

এই শিমের বিচি উচ্চ ফাইবার, প্রোটিন, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর খাবার। যারা বেশি সবজি খেতে পছন্দ করেন না, তারা ভিটামিনের চাহিদা মেটাতে এই খাবারটি খেতে পারেন।পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম খাওয়ার উপযোগী শিমের বিচিতে খাদ্য উপাদান হল- খাদ্যশক্তি ৩৪৭ কিলো ক্যালরি, আমিষ ২৪.৯ গ্রাম, চর্বি ০.৮০ গ্রাম, শর্করা ৬০-১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৬০ মিলিগ্রাম এবং লৌহ ২.৭ মিলিগ্রাম।

অন্যদিকে, ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে ২২ দশমিক ৬ গ্রাম এবং মুরগির মাংসে রয়েছে ২৫ দশমিক ৯ গ্রাম আমিষ। অথচ ১০০ গ্রাম শিমের বিচিতে আমিষ আছে ২৪ দশমিক ৯ গ্রাম। অর্থাৎ শিমের বিচিতে আমিষের পরিমাণ গরুর মাংসের চেয়ে বেশি এবং মুরগির মাংসের প্রায় সমান
চলুন জেনে নিই, শিমের বিচির গুণাগুণ সম্পর্কে-

রক্ত পরিষ্কার করে: শিমের বিচি মানবদেহে রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ করে এবং গ্লাইকোজেন সরবরাহ করে। এটি রক্ত পরিষ্কার করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ: শিমের বিচিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ৮ ধরনের ফ্ল্যাভোনয়েডস রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে করে। সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়, শিমের বিচি কোলন ক্যান্সারে সহায়ক কোলন অ্যাডেনোমার বিপরীতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

হৃদযন্ত্র ভালো রাখে: শিমের বিচিতে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে, যা রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া শিমের বিচিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি থাকে, যা হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করে।

পরিপাক নালীর উপকারিতা: প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ফাইবারযুক্ত কালো শিমের বিচি হজমে সহায়ক। এছাড়া এটি দেহের বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

চর্বি নিয়ন্ত্রণ করে: শিমের বিচিতে ২-৩ শতাংশ চর্বি রয়েছে; তবে কোলেস্টরেল নেই একদমই। এটি শরীরে অতিরিক্ত চর্বি নিয়ন্ত্রণ করে স্বাস্থ্য উপযোগী চর্বি প্রদান করে।

স্নায়ুতন্ত্র ভালো রাখে: শিমের বিচিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-বি৬ বা ফোলেট আছে। স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্য এই উপাদানটির ওপরে নির্ভরশীল; যেটি শরীরে অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরিতে কাজ করে।

গর্ভবতীদের জন্য ভালো: খুব দ্রুত পুষ্টি যোগায় শিমের বিচি। তাই গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই খাবার অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া পুষ্টিকর খাবারটি শরীরের অন্যান্য উপকারও করে। ত্বকের জন্যও এটি ভালো। কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে কালো শিমের বিচি ওজন কমাতে সহায়তা করে।

সতর্কতা: অনেকেই শিমের বিচি আলাদাভাবে রান্না করে খেতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে শিমের শুকনো বিচি রান্না করার সময় অবশ্যই একবার পানি পরিবর্তন করে নেয়া উচিত।








Leave a reply