বুক জ্বালা কমাতে খাবার সোডা কতটা কার্যকর?

|

ভারী বা মশলাদার কিছু খাওয়ার পরে আমাদের অনেকেরই বুক জ্বালা দেখা দেয়। এটাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এসিড রিফ্লাক্স বা এসিডিটি হিসেবে পরিচিত। অনেকে একে ‘অম্বল’ বলে থাকেন। বর্তমান সময়ে বুক জ্বালা বা এসিডিটি সমস্যায় ভোগা লোকের সংখ্যা ক্রমবর্ধনশীল।তবে সাধারণ খাবার সোডা ব্যবহারেই এসিডিটি বা অম্বল থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। অবশ্য অম্বল থেকে মুক্তি পেতে আমাদের দেশে খাবার সোডা বা বেকিং সোডা ব্যবহার দীর্ঘ দিনের।

অম্বলের উপশম হিসেবে খাবার সোডা কতটা কার্যকর?
খাবার সোডায় সোডিয়াম বাই কার্বোনেট বিদ্যমান, যা অম্বল এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও বদহজমের প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি আমাদের পাকস্থলির অতিরিক্ত ‘অ্যাসিড’ নিরপেক্ষ করার মধ্য দিয়ে অম্বলের উপসর্গ সাময়িকভাবে দূর করে।

সাধারণত এসিড রিফ্লাক্স দূর করতে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট সমৃদ্ধ বিভিন্ন ট্যাবলেট এবং পাউডার বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। এটি একটি সহজে শোষণযোগ্য ‘অ্যান্টাসিড’।কানাডিয়ান সোসাইটি অব ইনটেসটিনাল রিসার্চ এর মতে, খাবার সোডা এসিডিটি সমস্যার সাময়িক একটি উপশম। আপনি যদি খুব বেশি বুক জ্বালা অনুভব করেন তাহলে তাৎক্ষণিক উপশমের জন্য আধা চামচ খাবার সোডা অন্তত ১২৫ মি.লি পানিতে মিশিয়ে সেবন করতে পারেন।

খাবার সোডা অম্বলের স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারে না। চিকিৎসকরা সাধারণত সাময়িক উপশমের জন্য খাবার সোডা ব্যবহার করতে বললেও এটি নিয়মিত গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলেন। কারণ অতিরিক্ত খাবার সোডা গ্রহণের ফলে আমাদের শরীরে পিএইচ এর মাত্রা বেড়ে গিয়ে অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেহেতু খাবার সোডা একধরণের লবণ, তাই এটি শরীরে লবণের পরিমাণ অতিরিক্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।

সতর্কতা সমূহ: ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাবার সোডা গ্রহণ করা উচিত নয়।প্রাপ্ত বয়স্কদের দিনে সাড়ে ৩ চা চামচের বেশি বেকিং সোডা গ্রহণ করা উচিত নয়।আপনার বয়স যদি ৬০ বছরের বেশি হয় তবে একদিনে দেড় চা চামচের বেশি বেকিং সোডা গ্রহণ করবেন না।এছাড়াও কিডনিতে সমস্যা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, এপেন্ডিসাইটিস প্রভৃতি সমস্যা থাকলে বেকিং সোডা খাওয়া উচিত নয়।

বি.দ্র. খাবার সোডা গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। এটি প্রচলিত কোনো চিকিৎসা বা ঔষধের বিকল্প নয়।








Leave a reply