বর্ষায় কিভাবে নিজেকে সুস্থ রাখবেন

|

বৃষ্টির ফোঁটাগুলোর সঙ্গে সঙ্গেই গরমের জ্বালাটাও উধাও হয়ে যায়। ফিরে আসে স্বস্তি। কিন্তু এই বর্ষা মানেই তো বৃষ্টিতে ভেজা। প্যাচ প্যাচে কাদায় মাখামাখি। পায়ের জল মাথায় ওঠার ভয়। মানে, সর্দি-জ্বরের আশঙ্কা। তবে একটু সাবধান হলেই বর্ষাতেও আপনি ফিট আর হেলদি থাকতে পারেন।দক্ষিণবঙ্গ এখনও সেভাবে বর্ষার দেখা না পেলেও অনেক জায়গাতেই ঝেপে বৃষ্টি হচ্ছে। ত্বকের জন্য কিন্তু এই বর্ষাকালই সবচেয়ে ক্ষতিকর সময়। এই ঋতুতে ত্বক সবচেয়ে প্রাণহীন ম্যাড়ম্যাড়ে দেখায়। তাই বর্ষাকালে ত্বকের যত্নের পাশাপাশি একটু অতিরিক্ত খেয়াল রাখতে হবে শরীরের। মাঝে মাঝেই আকাশ কালো করে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে। কখনও চলছে একনাগাড়ে বৃষ্টি। বাড়ি থেকে বেরোনোই যাবে না তখন। বাড়িতে বসে বৃষ্টি দেখা যতটা মনোরঞ্জক, ততটাই বিরক্তিকর কাদা প্যাচপ্যাচে রাস্তায় বৃষ্টির মধ্যে কাজে যাওয়া। কিন্তু না গেলেও উপায় নেই। ঝড়-বৃষ্টি , গরম , শীত সবের মধ্যেও কাজ তো করতেই হবে। বর্ষাকাল মনোরম হলেও, এই সময়ে বিভিন্ন অসুখ দেখা যায়। ইনফেকশন , অ্যালার্জ , বদহজম , এছাড়া আরও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা মানুষ এই সময়ে ভোগেন। তাহলে জেনে নিন কীভাবে বর্ষাকালে অসুখের হাত থেকে রক্ষা পাবেন আর কীভাবে সুস্থ থাকবেন-

খাবারে সতর্কতা

বর্ষায় বেশী ভাজা ভুজি খাবার না খাওয়াই ভাল। কারণ, আর্দ্র আবহাওয়ায় আমাদের হজম ক্ষমতা কমে যায়। বেশি মাছ, মাংস না খেয়ে হালকা, সহজপাচ্য খাবার খান। স্বাস্থ্যকর, সুষম ডায়েট মেনে চলা ভালো। কাঁচা শাকসবজি থেকে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই শাকসবজি ভাল করে ধুয়ে রান্না করে তবেই খান। যতই খারাপ লাগুক, বেশি করে নিম, করলার মতো তেতো সবজি খেতেই হবে। এই সময়ে ভাজাভুজি যতটা সম্ভব কম খান। নাহলে হজমের গোলমাল দেখা দিতে পারে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন। ঘর-বাড়ি বিশেষ করে বাথরুম সবসময় পরিচ্ছন্ন রাখুন। এবং খাওয়ার আগে ও পরে ভালো করে হাত মুখ ধোবেন।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান

ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান। ভিটামিন সি সাধারণ সর্দি-জ্বর প্রতিরোধ করে। তাই বর্ষার সময় সর্দি-জ্বর এড়াতে বেশি পরিমাণে কমলালেবু, পেয়ারা ও অন্যান্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। এই ভিটামিন শরীরে প্রয়োজন মিনারেল শোষণে সাহায্য করে এবং একই সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবেও ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল অত্যন্ত উপযোগী। শরীরের টক্সিন দূর করতে ও ওজন কমাতেও সাহায্য করে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল।

গরম পানীয় পান করুন

বাড়িতে ফিরে স্নান করে এক গ্লাস গরম পানীয় পান করতে পারেন। পানীয় হিসেবে স্যুপ, দুধ বা অন্য কিছু পান করুন। স্বাস্থ্যকর গরম পানীয় শরীর উষ্ণ রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন জীবাণুর ইনফেকশন থেকে আপনাকে সুরক্ষা যোগাতে সাহায্য করবে। এই সময় চলছে করোনা প্রকোপ। ভাইরাস প্রতিরোধে নিয়মিত উষ্ণ পানীয় পানের অভ্যাস করুন। গরম জলের সঙ্গে নুন দিয়ে গার্গল করলে ভাল। এতে ভাইরাসের জীবাণুকে মেরে ফেলে এবং ফুসফুসে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

পর্যাপ্ত জল পান করুন

সুস্থ শরীর পেতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়া যে খুব দরকারি, তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু প্রতিদিন ঠিক কতটা জল খাওয়া প্রয়োজন তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। যেমন কম জল খেলে শরীরে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হতে পারে, তেমন অতিরিক্ত জলপানেও দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। তাই সঠিক পরিমাণ মেনে জল খান। জল শরীর থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। তাই পর্যাপ্ত জল পানের অভ্যাস থাকলে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকা যায় বর্ষাকালে। সুস্থ থাকতে আদা, গোলমরিচ, মধু, পুদিনা, তুলসী চা ইত্যাদি হার্বাল টি খেতে পারেন। এইসব চায়ে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে।

রোজ হালকা এক্সারসাইজ করুন

বর্ষায় ঘন ঘন জ্বর নতুন কোনও ব্যাপার নয়। রোজ হালকা এক্সারসাইজ করুন। তাতে শরীর অনেকটাই ফিট থাকবে। রক্ত সঞ্চালন থেকে শুরু করে শরীরের যেকোনো ব্যাথা বা কষ্ট কমাতে যোগ ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। জিমে যেতে না পারলেও, হালকা এক্সারসাইজ করুন রোজ৷ আর সবচেয়ে যেটা উচিত মন থেকে দূর করুন চিন্তা। তাহলে আপনি থাকবেন সুন্দর, সতেজ ও সুস্বাস্থের অধিকরী৷ এক্সারসাইজের সুবিধা হল মনের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে সাহায্য করে।








Leave a reply