বডি স্প্রে লাগানো স্কিনের জন্য ভালো কি?

|

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য আমরা সাধারণত পারফিউম বা বডি স্প্রে বা ডিওড্রেন্ট ব্যবহার করে থাকি। এই বডি স্প্রে কিন্তু প্রতিনিয়ত আমাদের ক্ষতি করে যাচ্ছে। এতে যে সমস্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে তা আমাদের পক্ষে বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের জন্য অত্যন্ত খারাপ। এটি বিনা বাধায় আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে যায় যা আমাদের অসতর্কতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আসুন দেখেনি বডি স্প্রে কি কি ভাবে ক্ষতি করতে পারে।

১. ব্রেস্ট ক্যান্সার ঃ বডি স্প্রে বা ডিওড্রেন্ট ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার একটি অন্যতম কারণ। আমরা ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য বডি স্প্রে বগলে বা অন্যান্য অংশে ব্যবহার করে থাকি। বগল আমাদের স্তনের কাছাকাছি থাকার ফলে এই অংশে বডি স্প্রে খুব বেশি মাত্রায় পৌঁছে যায়। এতে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থগুলি স্তনের কোষগুলিকে খারাপ করে দেয়। এছাড়া এর ফলে রক্তে এস্ট্রোজেন এর মাত্রা বেড়ে যায়। এই এস্ট্রোজেন স্তনের কোষ বৃদ্ধি করতে থাকে। ফলত ব্রেস্ট ক্যান্সারকে ত্বরান্বিত করে।

২. নিঃশ্বাসের সমস্যাঃ সুন্দর গন্ধের জন্য পারফিউম বা বডি স্প্রেতে নানা রকম রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে একটি হলো টয়লেট্রিস। এটি আমাদের নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা তৈরী করে। এর ফলে হাঁপানি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি আমাদের স্বাভাবিক নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের প্রক্রিয়াটিকে খারাপ করে দেয়।

৩. ত্বকের নানা সমস্যাঃ ঘাম হওয়া সাধারণত শরীরের জন্য ভালো। মূল মূত্র ও ঘামের মাধ্যমে সাধারণত আমাদের শরীরের খারাপ জিনিস গুলি শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এছাড়া ঘাম হওয়ার ফলে শরীর ঠান্ডা থাকে ও টক্সিনগুলি বেরিয়ে যায়। বডি স্প্রে বা ডিওড্রেন্ট এ ব্যবহৃত রাসায়নিক গুলি অনেক সময়ই শরীরে ঘাম নির্গত হওয়াকে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে আমাদের ত্বক ও শরীরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।

৪. বগল কালো হয়ে যায়ঃ বডি স্প্রে বা পারফিউম এ ব্যবহৃত সিলিকা, ট্রাইক্লোস্যান আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এর ফলে আমাদের ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। এছাড়া নানা রকম ইনফেকশন বা এলার্জি, চুলকানি, ফোঁড়া ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। ট্রাইক্লোস্যান একধরণের পেস্টিসাইড যার প্রভাবে আমাদের বগলের ত্বক রুক্ষ হয়, এবং কালো হয়ে যায়। এছাড়া সুগন্ধকে বাড়িয়ে তোলার জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক গুলিও ত্বকের ক্ষতি করে।

৫. মস্তিষ্কের স্নায়ুর ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়ঃ আলুমনিয়াম বডি স্প্রে বা পারফিউমে ব্যবহৃত হয় যা আমাদের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এর ফলে ডিমনেশিয়া বা আলজাইমার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়। এর অতিরিক্ত ব্যবহার খুব অল্প বয়সেই আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুর ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। যার ফলে আমাদের চিন্তাশক্তি, স্মৃতি শক্তি এমন কি কথা বলার ক্ষমতাও হ্রাস পেতে থাকে।

৬. গর্ভাবস্থায় থাকা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারকঃ প্যাথালেটস, প্যারাবেন্স বডি স্প্রে বা ডিওড্রেন্টে উপস্থিত রাসায়নিক গর্ভাবস্থায় থাকা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। গর্ভবতী কোনো মহিলা অতিরিক্ত মাত্রায় বডি স্প্রে ব্যবহার করলে বা পরোক্ষ ভাবে প্রভাবিত হলে এই রাসায়নিক গুলির ফলে গর্ভে পালিত শিশুর জিনগত সমস্যা হতে পারে। ফলত জন্মের পর শিশু গুলি স্বাভাবিক না হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

৭. মাইগ্রেনঃ বডি স্প্রে বা ডিওড্রেন্টে থাকা তীব্র গন্ধের জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক মাইগ্রেন এর কারণ হতে পারে। এছাড়া এর গন্ধের প্রভাবে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ মাথাব্যথা, মাথাধরে থাকা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।

৮. হরমোন ক্ষরণের অসমতা দেখা যায়ঃ আজকাল ছোট শিশুদেরও বডি স্প্রে ব্যবহার করতে দেখা যায়। এতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের ফলে শরীরে হরমোন ক্ষরণের অসমতা দেখা যায়। এর ফলে শিশুদের পিউবার্টি ত্বরান্বিত হয়। এর ফলেও শরীরিক গঠনে নানা রকম সমস্যা দেখা যায়।








Leave a reply