প্রতিদিন কাঠবাদাম খান, অসুস্থতা ভুলে যান

|

অনেকে মনে করেন, কাঠবাদাম চর্বিতে পূর্ণ একটি খাবার এবং এটি ওজন বাড়িয়ে দেয়। এই ধারণা সঠিক নয়। সত্য হচ্ছে, কাঠবাদাম ওজন কমাতে সাহায্য করে। কাঠবাদাম স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়ার জন্য অত্যন্ত চমৎকার একটি খাবার।

কাঠবাদামে মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, জিংক, কপার, সেলেনিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম।
পুষ্টিগুণে ভরপুর এই বাদাম কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা কমায়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, রক্তস্বল্পতা দূর করে। এটি চুল ও ত্বকের জন্য ভালো। কাঠবাদামের রয়েছে অগণিত উপকারিতা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন একমুঠো কাঠবাদাম খেলে এই উপকারগুলো পেতে সাহায্য করবে আপনাকে। লাইফস্টাইল বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই জানিয়েছে, প্রতিদিন কেন কাঠবাদাম খাওয়া উপকারি সে কথা। আসুন জানি।

১. হার্টের জন্য ভালো
কাঠবাদামের মধ্যে থাকা মনো-আন স্যাচুরেটেট ফ্যাট, প্রোটিন ও পটাশিয়াম হার্টকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা ভিটামিন-ই হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং ম্যাগনেসিয়াম হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি অ্যার্টারিকে ক্ষতিকর প্রদাহের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়।

২. শক্তি বাড়ায়
প্রতিদিন একমুঠো কাঠবাদাম খাওয়া শরীরে শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, কপার ও রিবোফ্লাবিন শরীরে শক্তি জোগায়। এটি বিপাক প্রক্রিয়া ভালোভাবে হতেও সাহায্য করে।

৩. কোলেস্টেরল কমায়
কাঠবাদামের মধ্যে থাকা ভিটামিন ও ক্যালসিয়ামের উপস্থিতির জন্য এটি কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, তাই শরীরের বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে প্রতিদিন কাঠবাদাম খেতে পারেন।

৪. মস্তিস্কের জন্য ভালো
কাঠবাদামে থাকা পুষ্টিগুণ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা রিবোফ্লাবিন ও এল-সারনিটিন মস্তিস্কের কার্যক্রম ভালো রাখে। এটি স্মৃতিভ্রম রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৫. হাড়ের সুরক্ষায়
কাঠবাদামে থাকা ফসফরাস, মিনারেল ও ভিটামিন হাড়কে সুরক্ষা দেয়। ফসফরসার কেবল হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে না, এটি অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কাঠবাদাম অ্যালকেলাইন সমৃদ্ধ একটি খাবার। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-ই; রয়েছে অনেক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো বিভিন্ন ধরনের রোগের হাত থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়। যেমন : ক্যানসার এবং ফুসফুসের রোগ ইত্যাদি থেকে সুরক্ষা দেয়।

৭. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
কাঠবাদমে থাকা ফসফরাস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা সোডিয়াম রক্তচাপের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করে।

৮. ক্যানসার প্রতিরোধ করে
কাঠবাদাম কোলোন ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি কোলনকে ভালো রাখতেও কাজ করে।

৯. ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে
কাঠবাদাম ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। গবেষণায় বলা হয়, খাবারের পর কাঠবাদাম খাওয়া ইনসুলিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

সকালের নাস্তায় কেন খাবেন কাঠবাদাম?
শারীরিক সুস্থতা ও ইতিবাচক মনোভাবের মাধ্যমেই একজন মানুষ পরিপূর্ণভাবে তার জীবনের সকল দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হন এবং দীর্ঘায়ু লাভ করেন। সকল বয়সের ও লিঙ্গের মানুষের জন্য প্রয়োজন সুস্থ শরীর এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। যে কারণে সুস্থ শরীরে, নীরোগভাবে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া।

শারীরিক অসুস্থতা ও দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় অনেক বেশী। সুস্থভাবে জীবনযাপন করার জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর জীবন ব্যবস্থা। যার মাঝে পড়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করা, ইয়োগা অথবা মেডিটেশন করা, অস্বাস্থ্যকর যেকোন অভ্যাস যেমন: ধূমপান করা থেকে বিরত থাকা।

একটা কথা মনে রাখা জরুরি, ছোট-বড় যেকোন ধরনের অসুস্থতা দেখা দিতে পারে বিভিন্ন কারণে। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবন ব্যবস্থা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক দৃঢ়ভাবে গড়ে তোলে বলে, রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক ভাবে কম দেখা দেয়।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সাথে বর্তমানে আরো দারুণ একটি ব্যাপার যোগ হতে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ের এক গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, সকালবেলার নাস্তায় কয়েকটি কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে শারীরিক সুস্থতা বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘায়ু লাভ করা যায়।

যেহেতু আমরা সকলেই জানি স্বাস্থ্যকর ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাঝে থাকে শর্করা, বিভিন্ন প্রকারের খনিজ পদার্থ, স্নেহ জাতীয় খাদ্য, প্রোটিন, ভিটামিন সমূহ ইত্যাদি। এই সকল উপাদানের মাঝে কোন এক প্রকারের খাদ্য পরিমাণের তুলনায় কম গ্রহণ করা হলে শরীরে তার অভাব দেখা দেয়।

সারাদিনের মাঝে সবচাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হলো সকালের নাস্তা। যেটা একদম সঠিকভাবে পুষ্টিকর হওয়া প্রয়োজন। কারণ সকালের খাবারই সারাদিনের জন্য শরীরে শক্তি যুগিয়ে থাকে, মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সচল রাখতে সাহায্য করে।

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বেশীরভাগ মানুষের হৃদযন্ত্রের নানান স্ট্রোকসহ নানান ধরনের রোগ দেখা দেবার অন্যতম ও প্রধান কারণ হলো, রক্তে কোলেষ্টেরোলের মাত্রা অনেক বেশী বেড়ে যাওয়া।

ইউভার্সিটি অফ টরেন্টর একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, সকালে কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক কমে যায়। কাঠবাদামে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমূহ। যা রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলকে বের দিতে সাহায্য করে।

যে কারণে, প্রতিদিন সকালের নাস্তায় ৪-৫ টি কাঠবাদাম খাবার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে কোলেষ্টেরলের সমস্যা দেখা দেওয়া বন্ধ হবে এবং স্ট্রোক হবার সম্ভবনা কমার ফলে হৃদযন্ত্র একদম সুস্থ থাকবে। তাই শারীরিক সুস্থতা পেতে ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে চাইলে প্রতিদিনের নাস্তায় কাঠবাদাম রাখা আবশ্যিক।

ভেজা কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা
বাদাম খাওয়া ভালো এটা সবাই জানেন। স্বাস্থ্য উপকারিতার দিক দিয়ে অন্য বাদামের চেয়ে কাঠবাদাম এগিয়ে।

এতে ভিটামিন, ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড এবং প্রোটিন থাকে। পুষ্টি উপাদান ছাড়াও কাঠবাদাম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। কিন্তু বাদাম খাওয়ার সবচেয়ে সঠিক উপায়টি কি আপনি জানেন? কাঠবাদাম কাঁচা খাওয়ার চেয়ে সারারাত ভিজিয়ে রেখে খাওয়াই ভালো। কেন তা জেনে নিই চলুন।

ভেজা কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতাগুলো হচ্ছে …

১. হজমে সাহায্য করে
যখন কাঠবাদাম ভিজিয়ে রাখা হয় তখন এটি লাইপেজ নামক এনজাইম নিঃসৃত করে। ভেজা কাঠবাদামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে এটি হজমে সাহায্য করে।

২. খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানো ও ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে কাঠবাদাম হৃদপিন্ডকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।

৩. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
ভেজা কাঠবাদাম খেলে রক্তে আলফা টোকোফেরল নামক যৌগ বৃদ্ধি পায় যা রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত জরুরী।

৪.ওজন কমতে সাহায্য করে
কাঠবাদামে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে যা দীর্ঘ সময় যাবৎ পেট ভরা থাকতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা কমায়। এভাবেই ওজন কমতেও সাহায্য করে কাঠবাদাম।

৫. বয়স বৃদ্ধি রোধ করে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ হওয়ায় ভেজা কাঠবাদাম ফ্রি র‍্যাডিকেলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে এবং বয়স হওয়া প্রতিরোধ করে।

৬. রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, কাঠবাদাম রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৭. ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে
ভেজা কাঠবাদামে ভিটামিন বি ১৭ থাকে যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। ক্যান্সার রোগীরা প্রতিদিন কাঠবাদাম খেতে পারেন।

৮. জন্মগত ত্রুটি কমতে সাহায্য করে
ভেজা কাঠবাদাম খেলে শরীরে ফলিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। শিশুর যে কোন ধরনের জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধের জন্য এটি অত্যাবশ্যকীয়।

এক কথায় বলতে চাইলে কোনটি খাবেন? কাঠবাদাম নাকি চিনাবাদাম? আসুন জেনে নিই
বাদাম পছন্দ করেন না, এমন মানুষ কম। কেউ কেউ অবশ্য অ্যালার্জির কারণে বাদাম এড়িয়ে চলেন। সাধারণত চিনাবাদামই বেশি খাওয়া হয়। এখন অনেকে কাঠবাদামও খেতে পছন্দ করছেন। এবার জেনে নেওয়া যাক, কাঠবাদাম বা চিনাবাদামের মধ্যে কোনটি খাবেন?
কাঠবাদাম

উপকারিতা

১. কাঠবাদাম আমাদের মেধাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
২. মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট, প্রোটিন ও পটাশিয়াম হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখে।
৩. রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য রাখে।
৪. ওজন কমাতে কাঠবাদাম খেতে পারেন।
৫. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৬. শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়।
৭. ক্যানসার প্রতিরোধে কাঠবাদামের ভূমিকা রয়েছে।
৮. কাঠবাদামের তেল ত্বকের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।
৯. মেনোপজের পর নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়া উচিত। কারণ এতে ক্যালসিয়াম রয়েছে।
১০. কাঠবাদাম খেলে কৌষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

অপকারিতা

১. অনেক সময়ে কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে গ্যাস, অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা যায়।
২. অধিক কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়।
৩. শরীরে অনেক সময় টক্সিকের পরিমাণ বেড়ে যায়।
৪. যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে কাঠবাদাম গ্রহণের ফলে তা বেড়ে যায়।

খাদ্য উপাদান

সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম ৬৪৯ মিলিগ্রাম
চর্বি ৪৫ মিলিগ্রাম
রাইবোফ্লেভিন ০.৮ মিলিগ্রাম

চিনাবাদাম

উপকারিতা
১. ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চিনাবাদাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ, যা ক্যানসার এবং হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
২. চিনাবাদামে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি, যা দেহগঠনে সাহায্য করে।
৩. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রোধ করে।
৪. এতে উচ্চ পরিমাণে নিয়াসিন থাকে, যা দেহকোষ সুরক্ষা করে।

অপকারিতা

১. চিনাবাদাম অধিক খাওয়ার ফলে বুক জ্বালাপোড়া, অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা যায়।
২. পেটের সমস্যা থাকলে চিনাবাদাম খাওয়া উচিত নয়।
৩. যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে বাদামে, তাঁদের চিনাবাদাম এড়িয়ে চলা উচিত।

খাদ্য উপাদান

থায়ামিন (ভিটামিন বি১)—০.৬ মিলিগ্রাম
রিবোফ্লোবিন (বি২)—০.৩ মিলিগ্রাম
ন্যয়েসেন (বি৪)—১২.৯ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি৬—০.৬ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম—৬২ মিলিগ্রাম
লোহা—২ মিলিগ্রাম
ফসফরাস—৩৩৬ মিলিগ্রাম








Leave a reply