তিল বীজ দিয়ে এনার্জির ঘাটতি পূরণ করার উপায়

|

তিল আমাদের পরিচিত একটি শস্য। বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরীতে এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন নাড়ু, মোয়া, ইত্যাদি মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরীতে এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।এছাড়া তিলের তেল ব্যবহার করে রূপচর্চাও করা হয়ে থাকে। শুধু তিল নয় তিলের বীজের ও রয়েছে অনেক গুণ। শরীর পুড়ে যাওয়া জায়গায় তিল পিষে, তার সাথে পানিতে ধোয়া ঘি ও কর্পূর মিশিয়ে প্রলেপ দিলে খুব দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

তিলের তেল গরম করে লাগালে ও ভালো ফল পাওয়া যায়। আজকের লেখাতে আমরা দেখবো এনার্জির ঘাটতি পূরণ করতে এই তিলের বীজ কিভাবে কাজে লাগবে।তাহলে আসুন এবার দেখে নেওয়া যাক কিভাবে তিল বীজ দিয়ে এনার্জির ঘাটতি পূরণ করা যায়-

তিলের বীজে রয়েছে পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ওমেগা সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড। তিলের বীজে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাসের মতো পুষ্টিকর উপাদান, যা নানাভাবে এনার্জির ঘাটতি দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করেঃ তিলের বীজ থেকে তৈরী হওয়া তেল শরীরে প্রবেশ করার পর সারা শরীরে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। তিলের বীজ ব্লাড ভেসেলের উপর তৈরী হওয়া চাপ কমাতে শুরু করে।ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে একেবারেই সময় লাগে না। প্রসঙ্গত , তিল বীজের অন্দরে থাক বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান ও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ক্যান্সার দূর করতে সাহায্য করেঃ ম্যাগনেসিয়ামের পাশাপাশি তিল বীজে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইটেট নামক একটি উপাদান, যা দেহের অন্দরে যাতে কোনওভাবে ক্যান্সার সেল জন্ম নিতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখে।

সেই সঙ্গে রক্তে মিশে থাকা ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেওয়ার মধ্যে দিয়েও এই মারণ রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।প্রসঙ্গত, শরীরে যত টক্সিক উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তত দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই কোনও ভাবেই এই বিষের পরিমাণ না বাড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন।

হাড়কে শক্ত করতে সাহায্য করেঃ তিল বীজের অন্দরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস। এই তিনটি উপাদান হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সেই সঙ্গে দাঁতের খেয়াল রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। প্রসঙ্গত, তীলের বীজ থেকে তৈরি হওয়া তেল দাঁতে লাগালে একদিকে যেমন ক্যাভিটির আশঙ্কা কমে, তেমনি মুখ গহ্বরে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়াও মারা পরে।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়ঃ প্রচুর মাত্রায় ফাইবার থাকার কারণে নিয়মিত এই প্রকৃতিক উপাদানটি খাওয়া শুরু করলে পাচক রসের ক্ষরণ বাড়তে শুরু করে। ফলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটতে একেবারেই সময় লাগে না।

তবে ফাইবার যে কেবল মাত্র হজমের উন্নতি ঘটায়, এমন নয়। এই উপাদান কনস্টিপেশন মতো সমস্যা কমানোর পাশাপাশি যে কোনও ধরনের পেটের রোগের চিকিৎসায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ তিল বীজের মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম শরীরে প্রবেশ করার পর রক্তে উপস্থিত শর্করার মাত্রাকে কমাতে শুরু করে। ফলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবাবে কমে যায়।

প্রসঙ্গত টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর যেসব ওষুধ খেয়ে থাকে সেগুলির খারাপ প্রভাব যাতে শরীরের উপর না পারে, সেদিকে ও খেয়াল রাকে তিলের বীজের অন্দরে উপস্থিত নানাবিধ উপকারি উপাদান।








Leave a reply