ডিটক্স ডায়েট কি? ট্রাই করার আগে জানুন কতখানি কাজে দেয় এই ডায়েট?

|

ডায়েটিং এর জগতে ডিটক্স ডায়েট কথাটি মোটেই অপরিচিত নয়। কিন্তু এসম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না নিয়ে চটজলদি লাফ মারা বোধহয় উচিত কাজ না। তাই আসুন জেনেনি এই বিষয়ে বিস্তারিত।

আমাদের রোজকার জীবনে একপেশে কাজ করতে করতে যেমন আমাদের অবসাদ আসে তেমনি আমাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলিও প্রতিনিয়ত কাজ করতে করতে হাঁফিয়ে ওঠে। তাদের সেই কাজ থেকে ক্ষণিক বিশ্রাম দেবার নামই ডিটক্স ডায়েটিং। ডিটক্স ডায়েটে মূলত উপবাস ও জুস গ্রহণ এর উপর নির্ভর থাকতে হয়। শরীরে যেসব টক্সিন মলমূত্র ও ঘাম এর সাথে বেরিয়ে যেতে পারেনা, সেগুলো এই ডায়েটিং এর সাহায্যে নিষ্কাশন করে শরীর এর বাইরে পাঠানো হয়। যেমন – সিন্থেটিক কেমিক্যাল, ভারী ধাতু ও অন্যান্য কম্পাউন্ড।

ডিটক্স ডায়েটিং এর কিছু সহজ উপায়: অতিরিক্ত স্ট্রেস আমাদের মানসিক পীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বিনষ্ট করে। তাই নিজেকে চাঙ্গা রাখতে ডিটক্স ডায়েট খুব দরকার।এই ডায়েটে মূলত সম্পূর্ণ উপবাস এবং নিজের দৈনন্দিন ফুড হ্যাবিট এ চেঞ্জ আনা। এর জন্য আপনাকে কিছু স্টেপ ফলো করতে হবে।উপবাস এর সময় ১-৩দিন। এর বেশি সময় না।ফ্লুইড হিসাবে নেবেন ফ্রুট বা ভেজিটেবল জুস বা স্মুদি, জল, গ্রীন টি ইত্যাদি।জলের বদলে সল্টেড ওয়াটার বা লেমনেড নিন।যোগ বা এক্সারসাইজ করুন নিয়মিত।ভারী ধাতুযুক্ত খাদ্য বা এলার্জেন জাতীয় খাবার খাবেন না।পালস, জোয়ার, বাজরা, ভুট্টা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি খাবার খেতে পারেন।কফি, রিফাইন্ড সুগার, এলকোহল বা সিগারেটের নেশা থেকে বিরত থাকুন।প্রসেসড ফুড, ক্যান ফুড, ডিপ ফ্রাইড ফাস্ট ফুড ইত্যাদি দেখলে রণে ভঙ্গ দিন।

কতখানি কাজে দেয় এই ডায়েটঃ এই প্রশ্নটা মনে আসতে বাধ্য। যে এত সাধ্যসাধনা করে আদৌ কি সুফল মিলবে? চলুন দেখেনি এর কিছু রেজাল্টস।গবেষণা বলছে যারা এই ডায়েট ফলো করেছেন তারা আগের থেকে বেশি ফোকাসড ও এনার্জেটিক ফিল করছেন।এতে তাদের ভিটামিন ও মিনারেল এর চাহিদা ও পূরণ হয়েছে।ডিটক্স ডায়েটিং শুরু করার প্রথমে বেশকিছু ক্ষেত্রেই কিন্তু প্রাথমিক দ্রুত ওজনহ্রাস দেখা গেছে।
কারণ,শরীর থেকে ফ্লুইড লস, কার্ব স্টোরেজ এর ঘাটতি অভাবজনিত কারণ। অবশ্য কিছুদিন পরেই ওয়েট রিগেইন করে নিতে অসুবিধে হয়নি।কোরিয়ান মেয়েদের ওপর সমীক্ষায় দেখা যায় অর্গানিক ম্যাপল ও পাম সিরাপ এর সাথে লেমন জুস এর ডায়েট করায় তাদের মধ্যে ওভারওয়েট দেখা গেছে ৭ দিনের মাথায়।শর্টটার্ম ফাস্টিং এর মতোই এর প্রভাব দেখা যায়। প্রায় ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়।তবে নিজের পেশির ওজন যাতে না কমে সেদিকে লক্ষ রাখবেন।এটা বেসিকেলি ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করে মেটাবলিজম বাড়ায়।উল্লেখ ভাবে বিএমআই, বডি ফ্যাট পার্সেন্টেজ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, লেপ্টিন লেভেল সার্কুলেশন এর তফাৎ চোখে পড়ে।

উপকারিতার বৈশিষ্ট্য: দ্রুত ওজন কমাতে চোখ বুজে ভরসা করুন।ত্বক এর উজ্জ্বলতা ও মনের প্রফুল্লতা দুইই বাড়বে।এন্টিঅক্সিডেন্ট এর যোগান বাড়িয়ে ওবেসিটি, ফ্যাটিগ, হজম সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করে।ইম্যুনিটি শক্তি বাড়ায় সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আগের থেকে বেশি সক্রিয় বোধ করবেন।স্ট্রেস কম হয় বলে রাতের ঘুম গাঢ় হয়। শরীরে চনমনে ভাব জেগে ওঠে।এক্সক্রিতরী প্রসেস নর্মাল রাখে।

মেনে চলুন কিছু সতর্কতা: ডায়েট ফলো করার আগে ডাক্তারি পরামর্শ অবশ্যই নিন।প্রেগনেন্ট, পিরিয়ড বা ব্রেস্টফিডিং চলাকালীন কোনো ভাবেই ট্রাই করবেন না।এনিমিয়া, ব্লাড প্রেসার, জেনেটিক ডিসঅর্ডার, থাইরয়েড ইত্যাদি রোগ থাকলে করবেন না।অনেকসময় ডায়েটিং করার ফলে মাথাধরা, খিটখিটে মেজাজ, ঝিমনোর মতো প্রকোপ দেখা দিতে পারেন। সাবধান থাকুন।ডিটক্স একটানা ৩ দিনের বেশি কখনোই করতে যাবেন না। সময় শেষ হলে পূর্ববর্তী খাদ্যতালিকা ফিরিয়ে আনুন।








Leave a reply