জেলি মাখানো চকচকে ইলিশ খেলে হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি

|

চকচকে পদ্মার ইলিশের প্রতি আকর্ষণ প্রায় সবারই। বাজারে গিয়ে রূপার মতো চকচক করছে এমন মাছই আগে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে চকচক করলেই কিন্তু সোনা হয় না। তেমন ইলিশ চকচক করলেই যে পদ্মার তাজা মাছ হবে এমন কিন্তু নয়। জেলি মাখিয়ে মাছের গায়ে চকচকে ভাব আনতে হয়।
এছাড়াও বাজারে গেলে খেয়াল করবেন মাছ বিক্রতা মাছের উপরে চার-পাঁচটি এনার্জি সেভিং বাল্ব লাইট জ্বালিয়ে রেখেছে। যেখানে ১৮ ওয়াটের বাতিতে বড় একটি কক্ষ আলোকিত হয়ে যায়, সেখানে চার ফুট বাই চার ফুট জায়গায় রাখা মাছের ডালার ওপর এত আলো কেন?

ভাবছেন যাতে আপনার দেখতে সুবিধা হয় সেজন্যই লাইটগুলো জ্বালানো। একেবারেই এমনটা না, আসলে লাইটগুলো জ্বালানো থাকে যাতে মাছ দেখতে চকচকে করে। এতে নরম ও পচা মাছও টাটকা মনে হয় ক্রেতার কাছে। দাম ভালো পান বিক্রেতারা। ক্রেতারা সাধারণত চোখের দেখায়ই মাছ কিনে থাকে, ধরে দেখে কম। তাই আলোর ঝলকানিটা বেশি দেয়া হয়। দেশের প্রায় প্রতিটি মাছের বাজারে একই অবস্থা।

অতিরিক্ত বাল্ব লাগানোর খরচও অতিরিক্ত। মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলও দিতে হয় কয়েক গুণ বেশি। সেই খরচ শেষ পর্যন্ত মাছের দাম বাড়িয়ে ক্রেতার ঘাড়েই চাপিয়ে দেন বিক্রেতা। এছাড়াও মাছের গায়ে বিশেষ একধরনের জেল মাখানো হয়। এতেও মাছের গা চকচকে হয়। এই পদ্ধতি অবশ্য বেশ পুরনো।

মাছের ওজন বাড়াতে এবং শক্তপোক্ত দেখাতে মাছে সিরিঞ্জ দিয়ে জেলি ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এই জেলি ইলিশ ছাড়াও বাগদা ও গলদা চিংড়িতে বেশি দেয়া হয়। দেশের বাজারে তো বটেই সেই সঙ্গে রপ্তানিকারক মাছেও দেয়া হয় জেলি। মূলত পচে যাওয়া মাছগুলোকে শক্ত ও তাজা দেখাতেই জেলি প্রয়োগ করা হয়।

এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। অনেক সময় না বুঝে পচা মাছই কিনে আনলেন। সেখান থেকে তো স্বাস্থ্য ক্ষতি আছেই। আবার জেলির অপকারিতা আপনাকে রেহাই দেবে না। কিডনি বিকল করে দিতে পারে এই জেলি।

চিকিৎসকরা বলছেন, মাছে ব্যবহৃত এই রাসায়নিক জেলি জীবননাশী ও মারাত্মক ক্ষতিকর। এগুলো মানুষের খাদ্যনালি, পরিপাকতন্ত্রে মারাত্মক ক্ষতি করে। এসব বিষাক্ত রাসায়নিক খেয়ে মানুষ ক্যান্সারেও আক্রান্ত হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।








Leave a reply