জেনে নিন ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বক ঝকঝকে সুন্দর করার সহজ কিছু উপায়

|

কথায় বলে, সুন্দর মুখের জয় সব জায়গায়। আর বর্তমান দূষণ ও চাহিদাপূর্ণ জীবনে, ত্বকের যত্ন আবশ্যক। এর জন্য রঙবেরঙের বিজ্ঞাপন দেখে লোভে পরে হয়ত কখনও আমরা নানান ধরনের সৌন্দর্য সামগ্রী কিনে ফেলি। কিন্তু এটা চিন্তা করি না যে, জিনিসটা আমাদের ত্বকের জন্য উপযুক্ত কিনা ! হয়ত ক্ষণিকের জন্য তা ত্বকে কিছুটা উপকার করে, তবে তাতে ব্যবহৃত ক্ষতিকারক পদার্থ বা কেমিক্যাল কিছুদিনের পর থেকে ত্বকের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। যার ফলে পঁচিশ পেরোনোর পরেই ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই এইসব বাজার চলতি জিনিসের বদলে ঘরোয়া ভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া উচিৎ, তাতে ত্বক যেমন কেমিক্যালের বিষাক্ত প্রভাব থেকে রেহাই পাবে আর অতিরিক্ত খরচ করারও প্রয়োজন পরবে না। এছাড়াও ত্বক সুন্দর থাকলে কোনরকম প্রসাধনীর ব্যবহার ছাড়াই আপনাকে অনেক আকর্ষণীয় দেখতে লাগে।তাই আজ আমরা আপনাকে ত্বক সম্বন্ধিত এমন কিছু জরুরি টিপস্ শেয়ার করবো, যার সঠিক ব্যবহারে আপনার ত্বকও কথা বলবে। তাহলে আসুন জেনে নিই কি সেই টিপস্‌। আর এর জন্য আপনাকে একদম বাড়তি খরচ করতে হবে না।

আপনারা কি জানেন, আমাদের রান্নাঘরে এমন অনেক উপকরণ মজুত থাকলেও তার গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। সেই জিনিসগুলো আমাদের কীভাবে ব্যবহার করা উচিৎ, সেটাই আজ জানাবো এই প্রতিবেদনে। যেমন-

১. ঘি বা ঘৃত
বাঙ্গালী হয়ে গরম ভাতে ঘি খায়নি, এটা বিশ্বাস করা একটু কঠিন। আমাদের মা – ঠাকুমাদের বলতে শুনবেন যে ঘি খেলে ত্বকের উজ্বলতা বৃদ্ধি পায় । কারণ আগেকার দিনে আমাদের মা – ঠাকুমাদের প্রধান রূপচর্চার উপকরণই ছিল ঘি । আসুন আজ বৈজ্ঞানিক তথ্য নাড়াচাড়া করে জেনে নেওয়া যাক ওনাদের বলা এই কথাগুলো কতটা সঠিক।

ঘিতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই ত্বকের পক্ষে একটি খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার হল ঘি । শুষ্ক ত্বক, খসখসে ত্বক ইত্যাদি সমস্যায় ভালোভাবে ঘিয়ের মাসাজে ত্বক হয়ে ওঠে মোলায়েম ও সুন্দর। বার্ধক্য জনিত দাগ, মেচেতার ছোপ, কালচে ভাব ইত্যাদি দূর করতেও ঘিয়ের মাসাজ খুবই প্রয়োজন। এছাড়াও চুলের সমস্যায়, শীতে শুষ্ক ঠোঁট বা পা ফাটার সমস্যা রোধে ঘি দারুণ কার্যকরী। এক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে ঘি দিয়ে মাসাজ করলেই মিলবে সুফল।

২. হলুদ
আপনি নিশ্চয়ই জানেন, হলুদ হল সব মশলার রানী। প্রাচীনকাল থেকেই নানান কাজে হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে । সমীক্ষায় জানা গেছে যে, নিয়মিত এক টুকরো হলুদের সেবনে মুখের ক্যান্সার বা মুখের কর্কট রোগ হয় না। বিশুদ্ধ হলুদ তার অ্যান্টিসেপটিক, বিরোধী প্রদাহজনক এবং জীবাণুমুক্ত বৈশিষ্ট্যর জন্য সুপরিচিত । আসুন জেনে নেওয়া যাক আপনার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে হলুদ কিভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ব্রণ প্রতিরোধে – অনিয়মিত জীবন যাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করার ফলে ব্রণ আজকালকার একটি অতি সাধারণ সমস্যা। সাধারণত কম বয়সী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি পরিমাণে দেখা যায়। এছাড়াও কিছু হরমোনাল কারণ, বাইরের ধূলো-বালি , তৈলাক্ত ত্বক ব্রণ হওয়ার জন্য মূল দায়ী। তবে দায়ী যাই হোক না কেন, হলুদের মধ্যে থাকা কিছু বিশিষ্ট উপকরণ এই সমস্যার প্রতিরোধে খুব ভালো ভাবে কাজ করে ।

 ব্যবহার বিধি
হলুদ গুঁড়োর সাথে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে তা শুধুমাত্র ব্রণের ওপর লাগান। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে নিন। হলুদের মধ্যে থাকা অ্যান্টিসেপটিক গুণগুলি ব্রণ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং লেবুর মধ্যে থাকা ব্লীচিং গুণাগুণ ব্রণের দাগ দূর করে ।

মুখের লোম ওঠাতে সাহায্য করে –মুখে কিছু অবাঞ্ছিত লোম থাকে যা দৃষ্টিকটু । অনেককে তাই থ্রেডিং বা ওয়্যাক্সিং- এর পন্থা অবলম্বন করে। এক্ষেত্রে আপনি হলুদের নিয়মিত ব্যবহার করে লাভবান হতে পারেন।

ব্যবহার বিধি
হলুদের সাথে সামান্য জল মিশিয়ে একটি পুরু মিশ্রণ তৈরি করে অবাঞ্ছিত লোমের ওপর লাগান ।
শুকিয়ে গেলে লোমের গ্রোথের উল্টো দিকে মাসাজ করুন। দেখবেন অবাঞ্ছিত লোমের সমস্যা অনেকটাই কমে গেছে।

চোখের তলায় কালো ভাব এবং রিংকেলস কমায় – অত্যধিক চিন্তা, পরিশ্রম এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই সমস্যৎগুলোতে আমাদের সবাইকেই পরতে হয় । এক্ষেত্রেও হলুদ কাজে আসে।

 ব্যবহার বিধি
হলুদের সাথে মাখন এবং আখের রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করুন। রাতে শোওয়ার আগে মধ্যমার সাহায্যে চোখের তলায় এবং সারা মুখে ভালো করে ম্যাসাজ করুন।








Leave a reply