জানুন স্বাদ আর পুষ্টিতে ভরা মাখন সম্পর্কে

|

দিন যত পাল্টে যাচ্ছে, ততই পাল্টে যাচ্ছে নিয়ম, ভাবনা। ছোটবেলা থেকেই শুনে আসা, একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর তৈলাক্ত খাবার একেবারেই নয়। এমনকি, নানা সময় চিকিৎসকরাও বলে থাকেন, হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে তেলযুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকাই ভালো।তবে নতুন গবেষণায় এসেছে নতুন তথ্য। নিয়মিত মাখন খেলে নাকি হৃৎপিণ্ড খারাপ নয়, বরং হৃদরোগ এড়ানো সম্ভব হবে! মার্কিন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে ৷ তাদের গবেষণায় এসেছে, মাখনের মধ্যে রয়েছে ডেয়ারি ফ্যাট, যা হৃৎপিণ্ডের পক্ষে ভালো ৷ডাক্তাররা অবশ্য জানিয়েছেন, মাখন নিয়মিত খাওয়া নিশ্চয়ই ভালো। তবে অল্প পরিমাণে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাখন দিয়ে রান্না করা খাবার না খেয়ে, ব্রেকফাস্টে অল্প করে মাখন নিয়মিত খেলে হৃদরোগ এড়ানো সম্ভব।

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম মাখনে রয়েছে- ৭১৭ কিলো ক্যালরি শক্তি, ৫১ শতাংশ অপরিশোধিত চর্বি ও অন্যান্য উপাদান।এছাড়াও খাবারের স্বাদ বাড়াতে মাখনের বিকল্প নেই। স্বার আর পুষ্টিতে ভরা মাখন সকালের নাস্তায় অনেকেই খেয়ে থাকেন। মাখন সরাসরি পাউরুটি বা স্যান্ডউইচের সঙ্গেও খাওয়া যায়। আবার স্বাদ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন রকম রান্নায় ও ব্যবহার করা যায়।চলুন মাখনের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিই-

খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধঃ মাখনে অ্যাক্টিভেটর এক্স নামক যৌগ থাকে, যা দেহকে অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান শোষণে সাহায্য করে। যখন আমাদের শরীর খনিজ উপাদান গ্রহণ করে তখন তা ক্ষুধা কমতে সাহায্য করে। মাখনে আয়োডিন, সেলেনিয়াম, লেসিথিন ও লরিক এসিডের মত কার্যকরী খনিজ উপাদান রয়েছে।

মাখনে রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিনঃ মাখন ভিটামিন সমৃদ্ধ। এতে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ডি ও ভিটামিন-ই রয়েছে, যা ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। এছাড়াও মাখনে ভিটামিন-কে২ রয়েছে। যা চর্বিকে দ্রবণীয় করতে পারে। কে২ ভিটামিন প্রোস্টেট ক্যান্সার, হাড় ভাঙ্গা এবং করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি মাখন খেলে নারীর উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

লিনোলেইক এসিড থাকেঃ মাখনে লিনোলেইক এসিড নামক যৌগ রয়েছে। এটি শরীরের বিপাকের ওপর প্রভাব বিস্তার করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও মাখনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ফ্রি র‌্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

রয়েছে স্বাস্থ্যকর স্যাচুরেটেড ফ্যাটঃ বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন যে, সব ধরণের স্যাচুরেটেড ফ্যাট খারাপ। কিন্তু অনেক গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, এদের মধ্যে কিছু আছে শুধু অত্যাবশ্যকীয়ই না বরং অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এই স্বাস্থ্যকর সম্পৃক্ত চর্বিগুলো ভালো কোলেস্টেরল HDL এর বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এই HDL কোলেস্টেরল ব্রেইন ও নার্ভাস সিস্টেমের ডেভেলপমেন্টে সহায়তা করে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।

ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিডের ভারসাম্য রক্ষা করেঃ মাখনে এরাকিডোনিক্স এসিড রয়েছে, যা ব্রেইন ফাংশন, স্কিন হেলথ ও প্রোস্টাগ্লান্ডিনের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।

মাখনে রয়েছে উলজেন ফ্যাক্টরঃ হরমোনের মতোই একটি কার্যকরী পদার্থ উলজেন ফ্যাক্টর। এটি জয়েন্টের শক্ত হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে, সেইসঙ্গে আরথ্রাইটিস ও প্রতিরোধ করে। এছাড়াও এই উপাদানটি ক্যালসিয়ামকে জয়েন্টের চেয়ে হাড়ে জমা হতে সাহায্য করে।

বিটা ক্যারোটিনঃ মাখনে উচ্চমাত্রার বিটা ক্যারোটিন রয়েছে, যা চোখের জন্য ভালো। এটি চোখের সুরক্ষায় অবদান রাখে। এছাড়াও কোষের বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে, ছানির গতিরোধ করে, মেকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সুযোগ কমায় এবং চোখের অন্যান্য সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

উল্লেখ্য, বাজারের মাখনে যতই বলা হোক ক্যালরি কম বা নেই, সেটাতে আসলে সিন্থেটিক চর্বি থাকে, যা ওজন বাড়ায়। সাদা মাখনে থাকে স্বাস্থ্যকর ক্যালরি। যা সুস্থ শরীর ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।








Leave a reply