কামরাঙা শুধু নয় দর্শনধারী! টক মিষ্টির স্বাদে সে উপকারি।

|

টক খেতে ভালবাসেন যারা, তাঁরা কামরাঙার নাম শুনলে খুব স্বাভাবিকভাবেই নিজের লোভ সামলাতে পারেন না। কামরাঙা মুলত গ্রীষ্মকালীন ফল। তবে আজকালকার দিনে হিমঘরের দৌলতে একটু খোঁজ করলে কামরাঙা সারা বছরই পাওয়া যায়। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই ফল দর্শনধারী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপকারিও অনেক। এক ঝলকে পড়ে নিন কামরাঙার ১০টি উপকারিতার কথা।

১. এককথায় ওষুধের দোকানঃ
কামরাঙা কিন্তু আক্ষরিক অর্থে একটি ওষুধের দোকান। শরীরের অনেক সমস্যা নিরাময়ে কামরাঙা বিশেষভাবে উপকারি।শীতকালে পার্টিতে অতিরিক্ত পান করলে হ্যাংওভার কাটাতে কামরাঙা কিন্তু খুবই উপকারী। পাশাপাশি এটি জ্বর, সর্দি, কাশি, আলসার এবং গলায় ব্যথায় খুব ভাল কাজ করে।শুধু তাই নয়, এটি ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।একইসঙ্গে হজমের সমস্যা দূর করতেও কামরাঙা একটি অব্যর্থ উপকরণ।

২. চেনা ছকের বাইরেও উপকারিঃ কামরাঙায় থাকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট, যা মাইক্রোবিয়াল ব্যাসিলাস সেরিয়াস, ই-কোলাই,
সালমোনেলা টাইপাস ইত্যাদির সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে।পাশাপাশি এটি এক্সিমা নিরাময়েও বিশেষভাবে সাহায্য করে।

৩. অ্যান্টি অক্সিডেন্টে ভরপুরঃ এক একটি মাঝারি মাপের কামরাঙায় ক্যালোরির পরিমাণ মাত্র ৩০।পাশাপাশি তাতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ ৯.৫ গ্রাম, ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে ২.৫ গ্রাম।এটি আপনার শরীরে প্রতিদিনের ৩ শতাংশ কার্বোহাইড্রেটের চাহিদা পূরণ করে।পাশাপাশি এটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ফ্ল্যাভনয়েলে পূর্ণ। যা শরীরকে ভেতর থেকে হেলদি রাখতে সাহায্য করে।

৪. ভিটামিনের আঁতুড়ঘরঃ এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি এবং সি, যা শরীরে ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে এবং মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে।পাশাপাশি খুব অল্প পরিমাণে হলেও এতে রয়েছে, থায়ামিন, রাইবোফ্লোভিন ও নিয়াসিন।কামরাঙা ভিটামিন বি ৯-এর খুব ভাল উৎস, যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।পাশাপাশি এতে ভিটামির বি ৬-ও ভরপুর পরিমাণে রয়েছে। যাদের ভিটামিন বি’এর কমতি রয়েছে তাদের জন্য এটি খুবই উপকারি হতে পারে।

৫. কোলেস্টরল থাকে কন্ট্রোলেঃ কামরাঙায় প্রয়োজনীয় খনিজ কিন্তু স্বল্প পরিমাণেই পাওয়া যায়, তবে এতে কপার (তামা)-এর পরিমাণ খুব বেশি।
শুধু তাই নয় এই ফল আপনার শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে ভাল কোলেস্টরল বাড়াতে সাহায্য করে।

৬. ভরপুর ম্যাগনেশিয়ামের উৎসঃ আপনি যদি আপনার শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে চান তাহলে কামরাঙা হল সবচেয়ে আদর্শ।
কারণ কামরাঙা হল ভরপুর ম্যাগনেশিয়ামের উৎস, যা শরীরের জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান।

৭. নতুন মায়েদের যত্নে কামরাঙাঃ সদ্য যারা মা হয়েছেন, তাদের জন্য কামরাঙা কিন্তু খুবই উপকারী।বলা হয়, এই ফল মাতৃদুগ্ধের প্রবাহকে সচল রাখতে সাহায্য করে।শুধু তাই নয় এই ফল বমি বমি ভাব এবং বদহজম নিরাময়েও বিশেষভাবে সাহায্য করে।এর জন্য একটি মাঝারি মাপের কামরাঙার অর্ধেকটি সামান্য নুন দিয়ে খান,এর তিন ঘণ্টা পর আবারও এই ডোজটির পুনরাবৃত্তি করুন।

৮. চুলের যত্নে কামরাঙাঃ তবে শুধু শরীর-স্বাস্থ্যই নয়, সুন্দর চুলের রহস্যও কিন্তু লুকিয়ে আছে কামরাঙায়।এতে রয়েছে ভিটামিন বি- কমপ্লেক্স, যা চুলের স্বাস্থ্য সুন্দর করে তুলতে সাহায্য করে।কামরাঙা সহজে চুল অকালে ঝড়ে যেতে দেয় না।পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি প্রাকৃতিক বার্ধক্য প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে সাহায্য করে।

৯. ত্বকের যত্নে কামরাঙাঃ ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় কামরাঙা, এর মধ্যে থাকা জিঙ্ক ব্রণ বা অ্যাকনের সমস্যা দূর করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ফর্মুলা প্রাপ্তবয়স্ক যে কোনও মানুষের ত্বকেই কাজ করে।রুক্ষ শুষ্ক ভাব কাটিয়ে ত্বকের নিজস্বতা বজায় রাখতে সাহায্য করে কামরাঙা শীতকালে।

১০. অয়লি ত্বকের যত্নেঃ তৈলাক্ত সমস্যার হাত থেকেও মুক্তি দিতে পারে কামরাঙা।তবে সেক্ষেত্রে না খেয়ে কাঁচা কামরাঙার পেস্ট বানিয়ে তা ত্বকে মাস্ক হিসাবে অ্যাপ্লাই করতে পারেন।তাহলে খুব অল্পদিনের মধ্যেই তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ কামরাঙা কিন্তু সবার জন্য উপকারী নাও হতে পারে।কারণ একাধিক সমীক্ষা এবং গবেষণায় দেখা গিয়েছে কামরাঙা বেশি মাত্রায় খেলে অনেকের কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।তাই কামরাঙা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।কতটা খাবেন, কখন খাবেন ইত্যাদি নান বিষয় নিশ্চিত হয়ে তবেই কামরাঙা খান।








Leave a reply