করোনা থেকে রূপচর্চা, যেভাবে উপকার করে তুলসী পাতা?

|

তুলসী পাতার উপকারিতা অপরিসীম। বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এর তুলনা নেই। তাই করোনা-কালে এর চাহিদা ও কদর দুই-ই বেড়েছে। সকলেই শুনে শুনে তুলসী পাতার ব্যবহার শুরু করেছেন। কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষ্মতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঠিক আর কী কী উপকার হয় এর থেকে, তা অনেকেই ভালোভাবে জানে না। আসুন জেনে নেওয়া যাক –

১। মানসিক চাপ

তুলসীর ভিটামিন সি ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। এই উপাদানগুলো নার্ভকে শান্ত করে। কর্টিসল হরমোনের সঙ্গে স্ট্রেস-এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এটি খেলে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ কমে যেতে শুরু করে। ফলে স্ট্রেস লেভেলও কমতে শুরু করে। ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদের প্রকোপ কমাতেও দারুণ ভাবে সাহায্য করে। এ ছাড়াও পাতার রস শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

২। মাথা ব্যথা

মাথা ব্যথা ও শরীর ব্যথা কমাতে তুলসী খুবই উপকারী। এর বিশেষ উপাদান মাংশপেশীর খিঁচুনি রোধ করতে সহায়তা করে।

৩। শ্বাস-প্রশ্বাস

ঠান্ডা লাগলে  শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয় অনেকেরই। এই সময় তুলসী পাতা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। গলার সংক্রমণ বা অন্য সমস্যা- সবেতেই তুলসী পাতা উপকারী।

৪। হৃদযন্ত্রের অসুখ

তুলসী পাতায় আছে প্রচুর  ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদান হৃদযন্ত্রকে বহু সমস্যা থেকে মুক্ত রাখে। হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায় ও স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

৫। ডায়াবেটিস দূরে থাকে

নিয়মিত এই পাতা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতাও বাড়ে। ফলে শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। প্রসঙ্গত, মেটাবলিক ড্যামেজের হাত থেকে লিভার এবং কিডনি-কে বাঁচাতেও দারুণ ভাবে সাহায্য করে তুলসী।

৬। ক্যান্সার রোধে

পাতায় উপস্থিত ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট শরীরের ভেতরে ক্যান্সার সেল যাতে কোনো ভাবেই জন্ম নিতে না পারে, সে দিকে খেয়াল রাখে। ফলে ক্যান্সার হওয়ার সুযোগই পায় না। এটি ফুসফুস, লিভার, ওরাল এবং স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৭। রোগ নিরাময় ক্ষমতা

ঔষধি-গুণাবলি সমৃদ্ধ গাছ এটি। তুলসীকে কেউ কেউ ‘নার্ভের টনিক’ বলে থাকেন। এটি স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য বেশ উপকারী। এটি শ্বাসনালী থেকে শ্লেষ্মাঘটিত সমস্যা দূর করে। তুলসী পাতা পাকস্থলীর ও কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ভালো।

৮। রক্ত পরিশুদ্ধ হয়

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২-৩টি তুলসী পাতা খাওয়ার অভ্যাস করলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদান এবং টক্সিন শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর ভিতর থেকে চাঙ্গা হয়।

৯। ত্বকের সমস্যায়

তুলসী পাতার রস ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। তুলসী পাতা বেটে সারা মুখে লাগিয়ে রাখলে ত্বক সুন্দর ও মসৃণ হয়। এ ছাড়াও তিল তেলের মধ্যে তুলসী পাতা ফেলে হালকা গরম করে লাগালে ত্বকের যে কোনও সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়াও কোনও অংশ পুড়ে গেলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগালে জ্বালা কমবে এবং সেখানে কোনও দাগ থাকবে না।

১০। ব্রণের প্রকোপে

তুলসী পাতায় উপস্থিত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণু মেরে ফেলে। ফলে ব্রণের প্রকোপ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে নানাবিধ সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। ব্রণের সমস্যায় এই পাতা খেতে পারেন অথবা সরাসরি মুখে পেস্ট বানিয়ে লাগাতেও পারেন। দুই ক্ষেত্রেই সমান উপকার পাওয়া যায়।

১১। দৃষ্টিশক্তি

একাধিক পুষ্টিগুণে ভরপুর তুলসী, দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ছানি এবং গ্লুকোমার মতো চোখের রোগকে দূরে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সেই সঙ্গে ম্যাকুলার ডি-জেনারেশন আটকাতেও সাহায্য করে।

১২। সর্দি–জ্বরে

তুলসী পাতা প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। জ্বর এবং সর্দি-কাশি সারাতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির বিকল্প হয় না। এই পাতা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র যে যে ভাইরাসের কারণে জ্বর হয়েছে, সেই জীবাণুগুলোকে মারতে শুরু করে। ফলে শরীর ধীরে ধীরে চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

১৩। পোকার কামড়ে

তুলসী পাতা হল প্রোফাইল্যাক্টিভ। এটি পোকামাকড় কামড়ে দিলে উপশম করতে সক্ষম। পোকার কামড়ে আক্রান্ত স্থানে পাতার রস লাগিয়ে দিলে পোকার কামড়ের ব্যথা ও জ্বালা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়।

১৪। বয়স রোধে

ভিটামিন সি, ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও এসেন্সিয়াল অয়েল চমৎকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের হিসেবে কাজ করে। বয়সের ছাপ কমায়।








Leave a reply