কঠিন ডায়েটের চেয়েও বেশি ওজন ঝরে ব্যায়ামে: গবেষণা

|

ওজন কমাতে যারা মাসের নির্দিষ্ট কয়েক দিন কঠিন ডায়েট করেন, তারা নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে আরও বেশি ওজন কমাতে পারেন বলে জানিয়েছেন নামকরা পুষ্টিবিদ রব ওল্ফ।

নিজের একটি গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করে তিনি বিজনেস ইনসাইডারকে বলেছেন, ‘না খেয়ে থাকার চেয়ে নিয়মিত ব্যায়াম ওজন কমানোর জন্য বেশী উপকারী। অতিরিক্ত ডায়েটিংয়ে আবার অনেক ক্ষতি হয়।’

‘এভাবে দিনের পর দিন ডায়েট করলে ক্যালোরিতে প্রভাব পড়ে। তখন ঝিমুনি, মাসল লস দেখা দিতে পারে।’

যারা ডায়েট করতে চান তাদের জন্য ওল্ফের পরামর্শ এমন, ‘কম বয়সে যা খেতেন, তার থেকে ৪০ শতাংশ কম খেতে হবে। এর থেকে বেশি কমালে সমস্যা।’

অতিরিক্ত ডায়েট ছাড়া ওজন কমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন অধিকাংশ পুষ্টিবিদ। এ বিষয়ে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের নামকরা ব্যারিয়াট্রিক সার্জন ডাঃ অ্যান্ড্রু জেনকিনসনের একটি ভালো গাইডলাইন আছে।

জেনকিনসন তার একটি বইয়ে লিখেছেন, প্রত্যেক মানুষের আলাদা আলাদা আদর্শ ওজন রয়েছে। যাকে ‘ওয়েট অ্যাঙ্কর’ বলে। স্লিম হওয়ার মিশনে এই আদর্শ ওজনকে বিবেচনায় না নেওয়ার কারণে শরীর চিকন হয় না।

১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ওজন কমানো বিষয়ক গবেষণায় নিয়োজিত থাকা এই চিকিৎসককে উদ্ধৃত করে ডেইলি মেইল লিখেছে, ওজন কমাতে চাইলে মানুষের ক্যালরি নিয়ে ভাবার দরকার নেই!

জেনকিনসনের থিওরি মতে, ওজন কমাতে হলে আপনাকে ইনসুলিন লেভেল কমাতে হবে। এ জন্য চিনি এবং মিহি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার ত্যাগ করতে বলছেন তিনি। এটি ত্যাগ করতে গিয়ে কঠোর ডায়েটের প্রয়োজন নেই। ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে দিনে দুই অথবা তিনবার স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই হবে।

‘প্রত্যেক মানুষের নির্দিষ্ট আদর্শ ওজন থাকে। একে বলা হয় একজন মানুষের স্বাভাবিক ওজন। এখান থেকে ওজন বাড়লেও খুব একটা কমানো যায় না,’ জানিয়ে জেনকিনসন বলেন, ‘ওজন যদি স্বাভাবিক রেঞ্জে থাকে, তাহলে সেটির দিকে খেয়াল করতে হবে। বিষয়টি অনেকটা রাবারের দড়ির মতো। দূরে গেলে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় টেনে আনে।’

‘আপনার জেনেটিকস দ্বারা একটি ওজন নির্দিষ্ট। এটা পাল্টানো যায় না। আবার অভ্যন্তরীণ হরমোনও একটি ওজন বেঁধে দেয়। এটি ইনসুলিন, কর্টিসল এবং অন্যান্য জিনিসের ওপর নির্ভর করে।’

‘এভাবে বিশেষ কিছু খাবারের কারণে ওজন বাড়তে থাকে। ঠিক ওষুধের মতো কাজ করে খাবারগুলো। তাই আমি যদি ইনসুলিন বা স্টেরয়েড দিয়ে আপনার চিকিৎসা করি ওজন অনেক বেড়ে যেতে পারে। স্টেরয়েড আবার সরিয়ে নিলে ওজন কমে যাবে।’

তাহলে ডায়েট বন্ধ করা উচিত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জেনকিনসন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ডায়েট করলে অল্প পরিসরে কাজ করতে পারে। কিন্তু এটি যদি ক্যালরি হিসাব-নিকাশের ব্যাপার হয়, তাহলে সেই একই কথা।’

জেনকিনসন পুরো প্রক্রিয়াটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেন, ‘যখন আপনার মস্তিষ্কে ক্ষুধার অনুভূতি আসে, তখন নির্দেশনা মতো খাবার খেলে ওজন স্বাভাবিক জায়গায় ফিরে আসে। পরে আবার ক্ষুধা পেলে ওজন কমানো থামাতে আপনার শরীর অতিরিক্ত শক্তি চায়।’

ওজন কমাতে হলে জেনকিনসন স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি কৃত্রিম এবং ভেজিটেবল তেল তালিকা থেকে বাদ দিতে বলছেন।








Leave a reply